জাতীয়

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করাই পুলিশের ‘মাথাব্যথা’

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে পুলিশ ৮ হাজার ৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৬ হাজার ৩৫৯টি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

পুলিশের আশঙ্কা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি, ধর্মীয় অপপ্রচার এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচন পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে। ভোটার সংখ্যা, থানা থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব, রাজনৈতিক আধিপত্য, দুর্গম অঞ্চল, পাহাড়ি ও চরাঞ্চল বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করেছে—লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (সাধারণ)।

 

এর আগে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার মন্তব্য করেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে। তবে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ঝুঁকি নেই এমন সাধারণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৫৬টি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকবে অস্ত্র ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য এবং সার্বিক নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

 

পুলিশের গোপন মূল্যায়নে উঠে এসেছে, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা ও পুলিশ লাইন্স থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জামিনে মুক্ত কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নির্বাচনের সময় সীমান্তবর্তী এলাকা, চরমপন্থি অধ্যুষিত অঞ্চল, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত আসনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতে পারে। গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও বা ভুয়া বক্তব্য শনাক্তের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পার্বত্য তিন জেলায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ সংখ্যালঘু হওয়ায় ১১৩টি আসনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকিও রয়েছে।

 

এছাড়া অতীতে যেসব আসনে কম ভোটের ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়েছে, সেসব এলাকায় সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বেশি। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লটারির মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপার নিয়োগ, থানার ওসি পরিবর্তন এবং দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের জন্য নির্বাচনকালীন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি সদস্যের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

 

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। কোনো পক্ষ পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন। সে লক্ষ্যেই বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে, যাতে অতীতের বিতর্কের বাইরে গিয়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে তিনি অবৈধ স্থাপনা নিয়ে কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা হবে না। ইতোমধ্যে ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা এবং সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ভাসমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় অভিযানে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন।   উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনের জন্যই তিনি সৈকতে যান। এ সময় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়ানোর তাগিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি ‘ওয়ান ডিজিটে’ নামানোর প্রত্যয় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের অর্থ সহায়তা তলানিতে

বিদেশি সহায়তা নীতিতে বাংলাদেশে এক যুগে বাংলাদেশকে দেড় হাজার কোটি রুপির অর্থসহায়তা দিয়েছে ভারত। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থসহায়তা এসেছে। পাঁচ বছর আগেও যেখানে বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি অর্থ দিয়েছিল ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা ২৫ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত শুক্রবার ভারতের লোকসভা অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশকে দেওয়া অর্থসহায়তার তথ্য জানিয়েছেন। সেই অর্থসহায়তার হিসাব থেকে এই চিত্র পাওয়া গেছে।   লোকসভার সদস্য টি আর বালু ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে এই পর্যন্ত কী পরিমাণ সহায়তা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। লিখিত উত্তরে অর্থসহায়তার তথ্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লোকসভায় বাংলাদেশকে দেওয়া অর্থসহায়তার হিসাবের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই হিসাবে ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় আসা অর্থ বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, লোকসভায় ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবেশীকেন্দ্রিক ও জনমুখী। ভারত এলওসি ও অনুদানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করেছে।এর পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে ভারত। কত দিল ভারত ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোন অর্থবছরে কত দেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব লোকসভায় দেওয়া হয়েছে। ভারতের অর্থবছর এপ্রিল মাস থেকে মার্চ পর্যন্ত। গত এক যুগে ভারত সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি দিয়েছে। ২০১৪–১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি দেওয়া হয়। তবে সর্বোচ্চ অর্থ এসেছে ২০২১–২২ অর্থবছরে। ওই বছরে ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপি দিয়েছিল ভারত। এরপর সহায়তা কমতে থাকে। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসে ৫৯ কোটি রুপিতে নামে। ওই বছরই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। নানা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় অর্থসহায়তাও কমে যায়।   চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত (ভারতের অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাব) মাত্র ২৫ কোটি রুপি আসে। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভারতীয় অর্থসহায়তা আট ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং লোকসভায় বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং সামাজিক সম্পর্ক আছে। একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারত ধারাবাহিকভাবে সমর্থন প্রকাশ করেছে। দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অধীনে উচ্চপর্যায়ের বিনিময় ও বৈঠক অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কীর্তি বর্ধন সিং আরও বলেন, ভারতীয় বন্দরগুলোতে দেওয়া সুবিধার বিষয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করে নীতিতে যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলওসিতে কত এল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারত সব মিলিয়ে এলওসির আওতায় ২১০ কোটি ডলার ছাড় করেছে। ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসিতে বাংলাদেশকে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পরও কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থছাড় হয়নি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ—এসব খাতের প্রকল্পই বেশি নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম এলওসিতে ১০০ কোটি ডলার দেয়। প্রথম এলওসিতে ১৫টি প্রকল্প ছিল। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প শেষ হয়েছে, বাকি তিনটি চলমান। দ্বিতীয় এলওসিতে নেওয়া ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি শেষ হয়েছে, ১০টি চলমান ও ৩টি প্রকল্প প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। তৃতীয় এলওসির ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি চলমান আছে এবং বাকি ৫টি প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর ভারতীয় ঋণের ছাড় কমেছিল। তবে নতুন সরকার আসার পর এলওসির আওতায় প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড়ে সমস্যা কোথায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১০০ বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল, উৎসবমুখর কক্সবাজার

ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত ২০ মার্চ কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।   প্রস্তাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞ, বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং নারীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।   এতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল বলে উল্লেখ করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সে সময়ের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও নথি—বিশেষ করে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’ এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক আর্চার ব্লাডের পাঠানো ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’—প্রমাণ করে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।   এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ১৯৭১ সালের এই ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাস সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0

বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও স্বাভাবিক জ্বালানি খালাস, ২২ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

ইইউ বাজারে ধাক্কা: জানুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি কমল ২৫%

ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0 Comments