আন্তর্জাতিক

ঝড়ের প্রভাবে ব্রিটেনের আকাশে গোলাপি আভা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬

স্টর্ম গোরেট্টির প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভারী তুষারপাতের সময় ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের আকাশে দেখা যায় ঝলমলে গোলাপি রঙ। বিশেষ করে বার্মিংহাম শহর এবং স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হেডনেসফোর্ড এলাকায় এই বিরল দৃশ্য নজর কাড়ে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তুষারপাতের মধ্যে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে উজ্জ্বল গোলাপি আভা। 

 

দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র আবহাওয়া উপস্থাপক সাইমন কিং জানান, মেঘের ঘনত্ব ও পড়তে থাকা তুষারের কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, বার্মিংহাম সিটির ফুটবল মাঠ সেন্ট অ্যান্ড্রুজের আলো এই রঙিন আভা তৈরির একটি উৎস হতে পারে।

 

এদিকে, হেডনেসফোর্ড টাউন ফুটবল ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেখা যাওয়া একই ধরনের আলো। 

 

 

Lord Brocket/BBC Weather Watchers A bright pink sky over snowy roofs and trees in Hednesford, Staffordshire

 

A bright pink sky over a snowy Birmingham road

 

GLMCC Pink sky above a clock tower in Birmingham city centre. The face of the clock is lit and heavy snow can be seen falling around it.

 

GLMCC Pink sky over a Morrisons supermarket in Small Heath area of Birmingham. The supermarket is lit with snow seen in its car park and a bright street light.

 

GLMCC Bright pink sky over Birmingham

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে আরও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

ভারতের বিমান বাহিনীর জন্য ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া থেকে কিনছে দেশটি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে।   কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের সময় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।   ভারতে ‘সুদর্শন’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের প্রতিহত করতে সফল ভূমিকা রেখেছিল। সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারণে শত্রুপক্ষের বিমান নিজ আকাশসীমাতেও নিরাপদ থাকে না। ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ৩১৪ কিলোমিটার দূরে থাকা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি নজরদারি বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল, যা দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের রেকর্ড।   ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ভারত ইতোমধ্যে পেয়েছে এবং পঞ্চমটি আগামী নভেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরিত হবে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিন বছরের মধ্যে সরবরাহ শুরু হতে পারে পরবর্তী ইউনিটগুলো।   সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-চীনে প্রলয়ঙ্করী বন্যা, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী আরও ৬-৭ মুসলিম দেশ: পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে ৯ জন নিহত, আহত ১৪ জন

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নতুন জোটের নাম ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। সোমবার ইস্তাম্বুলে তিন দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে নতুন এই নাম ঘোষণা করা হয়।   বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, জোটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধিকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনেই এই জোট পরিচালিত হবে। অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।   তিনি আরও জানান, জোটটি শুধু বর্তমান তিন সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্যান্য দেশ চাইলে ভবিষ্যতে এতে অংশ নিতে পারবে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তাম্বুলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার রোববার তুরস্কে পৌঁছান। দার লন্ডন থেকে সরাসরি তুরস্কে যান।   এর আগে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সোমবারের আলোচনায় মিসরের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন। তবে আলোচনার বিষয় ছিল মূল প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়; বরং মিসর ভবিষ্যতে এই জোটের অংশ হতে পারে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা।   সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক—তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগেও দেশ তিনটি ভূমিকা রাখছে।   গত ৫ আগস্ট জর্ডানের রাজধানী আম্মানে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জুন মাসেও কায়রোতে চার দেশের বৈঠক হয়েছিল। কায়রোর বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’কে স্বাগত জানিয়েছিল দেশগুলো।   হামলা হলে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া: গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির অধীনে গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ এখন চুক্তির রাজনৈতিক ঘোষণাকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের কোনো একটি রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে শুধু ওই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না; বরং তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। সোমবারের বৈঠককে সেই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বৈঠকে কারা ছিলেন? ইস্তাম্বুলের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও প্রতিনিধিদলে ছিলেন। তুরস্কের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ সেলচুক বায়রাকতারোগলু। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ ফায়াদ আল-রুওয়াইলি। নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণার পাশাপাশি রিয়াদে দপ্তর স্থাপন ও পাকিস্তানের একজনকে প্রথম মহাসচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা নেই, সাংবাদিককে ট্রাম্পের কড়া জবাব

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের এক হাজারের বেশি সেনা নিহত, দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’: তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের সঙ্গে অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি করল ইসরায়েল

প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের ৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিটি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম চুক্তি।   এর আওতায় দেশটির প্রযুক্তি ব্যবহার করে এথেন্সের জন্য একটি বহু স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েল ও গ্রিসের কৌশলগত স্বার্থ অভিন্ন এবং তারা একই ধরনের আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো যখন আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণকারী পক্ষগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।   গাজা যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহ ও ইরানের সাথে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের সরকার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে কারণ তাদের অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং ক্রেতারা সরাসরি বা ‘রিয়েল-টাইমে’ দেখতে পান। এসব গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। গত এক দশকে ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   কারণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ও ন্যাটো-সহযোগী দেশ তুরস্কের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে গ্রিস।   এর আগের চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ গ্রিসে একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট’-এর সাথে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এছাড়া ইসরায়েলি রকেট লঞ্চার, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং ড্রোন বিক্রির পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রিস বলছে, পুরোনো প্রতিরক্ষা নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব।   অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনসহ নানাবিধ হুমকির বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য তারা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘স্পাইডার’-এর মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি নতুন জাতীয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।   মূল চুক্তির পাশাপাশি রাফায়েল কোম্পানির ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা বিক্রির জন্য ৩ কোটি ডলার (২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো) মূল্যের আরেকটি সম্পূরক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস বলেন, আধুনিক সংঘাতের ধরন সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, চালকবিহীন ব্যবস্থা (ড্রোন), সাইবার হুমকি, যুদ্ধের মিশ্র বা হাইব্রিড ধরন এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের পারস্পরিক সংযোগের ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব হয়ে পড়েছে।   ইসরায়েলের অস্ত্র শিল্পের মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি আসে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক মরদেহের দাবিদার একাধিক, মৃতদের শনাক্তে বিপাকে নেপাল

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেলে আটকা ৯ শতাধিক মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যস্ততম ১০ বিমানবন্দর

0 Comments