আন্তর্জাতিক

ঝড়ের প্রভাবে ব্রিটেনের আকাশে গোলাপি আভা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬

স্টর্ম গোরেট্টির প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভারী তুষারপাতের সময় ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের আকাশে দেখা যায় ঝলমলে গোলাপি রঙ। বিশেষ করে বার্মিংহাম শহর এবং স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হেডনেসফোর্ড এলাকায় এই বিরল দৃশ্য নজর কাড়ে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তুষারপাতের মধ্যে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে উজ্জ্বল গোলাপি আভা। 

 

দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র আবহাওয়া উপস্থাপক সাইমন কিং জানান, মেঘের ঘনত্ব ও পড়তে থাকা তুষারের কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, বার্মিংহাম সিটির ফুটবল মাঠ সেন্ট অ্যান্ড্রুজের আলো এই রঙিন আভা তৈরির একটি উৎস হতে পারে।

 

এদিকে, হেডনেসফোর্ড টাউন ফুটবল ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেখা যাওয়া একই ধরনের আলো। 

 

 

Lord Brocket/BBC Weather Watchers A bright pink sky over snowy roofs and trees in Hednesford, Staffordshire

 

A bright pink sky over a snowy Birmingham road

 

GLMCC Pink sky above a clock tower in Birmingham city centre. The face of the clock is lit and heavy snow can be seen falling around it.

 

GLMCC Pink sky over a Morrisons supermarket in Small Heath area of Birmingham. The supermarket is lit with snow seen in its car park and a bright street light.

 

GLMCC Bright pink sky over Birmingham

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে কেন স্থবির পুরো পশ্চিম তীর?

অধিকৃত পশ্চিম তীরের খলিল (হেব্রন) শহরে সাম্প্রতিক হামলার পর গোটা পশ্চিম তীরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইলি প্রশাসন। এই ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দল লিকুদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে সরাসরি ঘটনাস্থলে যান। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর থেকে পুরো অঞ্চলে থমথমে ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।   ঘটনার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। হামলার আশপাশের ফিলিস্তিনি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের টার্গেট করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে চরম বাধা তৈরি করছে।   যদিও মূল হামলার ঘটনাটি রামাল্লা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত খলিলে ঘটেছে—তা সত্ত্বেও এর সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক কেন্দ্র রামাল্লায়। নেতানিয়াহুর ঘোষিত ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’-এর আওতায় ইসরাইলি সেনাসদস্যরা রামাল্লা শহরের প্রায় প্রতিটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   হামলার খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রামাল্লায় ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত ও চলাচলের ওপর এই কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষদের শহরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। মূল কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়া সত্ত্বেও রামাল্লাকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র তাণ্ডবে বিপাকে তাইওয়ানবাসী

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছর পরও গাদ্দাফির স্মৃতি কেন তাড়া করে ফিরছে লিবিয়াকে

প্রতীকী ছবি

পিএইচপির কোডিং ত্রুটিতে সাইবার ঝুঁকিতে ৭০% ওয়েবসাইট, নেপথ্যে কী?

ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ভিসা আবেদনে বড় জালিয়াতির অভিযোগ, বিপাকে দুই শতাধিক বাংলাদেশি

জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। মোট ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের করা ২৪৩টি সাময়িক ভিসা (টিআরভি) আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ার পর এই পদক্ষেপ নেয় দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী।   অভিযুক্তদের মধ্যে রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাচ্ছার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম—এই চারজন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তবে মামলার পঞ্চম আসামি মো. রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে কানাডার আদালত।   এই জালিয়াতির রহস্য উন্মোচিত হয় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই বছরের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার শহরের একটি বাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালায় সিবিএসএ। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বেশ কিছু প্রমাণ মেলার পর একই বছরের আগস্ট থেকে পুরো ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।   তদন্তে দেখা যায়, কানাডায় বসবাসকারী কয়েকজন নাগরিককে ভুয়া আমন্ত্রণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মাধ্যমে একটি চক্র বানিয়ে জাল নথি তৈরি করে বাংলাদেশিদের কানাডায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে কুইবেক ও ওন্টারিওতে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এই চক্রের চক্রান্ত প্রমাণ করতে সিবিএসএ সবচেয়ে বড় ও সুস্পষ্ট ৭৯টি ভিসা আবেদন বেছে নিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।   অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধভাবে লোক আনার চক্রান্ত করা, ভিসা আবেদনে তথ্য লুকাতে সাহায্য করা এবং অভিবাসন আইন ভাঙার অপরাধ আনা হয়েছে।   কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরী জানান, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা আইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দেশের নিয়ম ভেঙে যারা এভাবে জালিয়াতি করতে চাইবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে সিবিএসএ জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এই ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।   সূত্র: কানাডা ডট সিএ

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার কারণ জানালেন ইরানি কূটনীতিক

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে তীব্র গরমে প্রাণ গেল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে রেকর্ড দাবদাহে ৫০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা

জীবিকা নির্বাহ, ঋণের বোঝা আর কাজ হারানোর ভয়—এই তিন চাপের মধ্যে পড়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের বহু নারী আখশ্রমিক নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মাসিকের সময় ছুটি না পাওয়া, অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে তাঁদের কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করানোর পরও অনেক নারীকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতের আখশ্রমিক নারীদের এই কঠিন বাস্তবতা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে দৈনিক প্রায় ৪০০ রুপি মজুরি পান। কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিককে নিজ এলাকা ছেড়ে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা।   মাসিকের সময়ও ছুটি নেই আখ কাটার মৌসুমি কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য মাসিকের সময় বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকশিবিরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলেও মজুরি কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অনেক নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কাজ চালিয়ে যান। মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থায় কাজের চাপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য ব্যথা সহ্য করছেন তিনি। কাজ বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই কাজ চালিয়ে গেলে শারীরিক কষ্ট আরও বাড়বে। কিন্তু জীবিকার বিকল্প না থাকায় কাজ ছেড়ে দেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।   ঋণ ও মজুরির চাপে শ্রমিকেরা মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা একটি মৌসুমি পেশা। প্রতিবছর ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের চিনি কলের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কাজ শুরুর আগে অগ্রিম অর্থ দেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্রিম অর্থকে দাদন বলা হয়। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করেন, যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক টন আখ কাটার প্রত্যাশা থাকে। কাজের পরিমাণের ওপর আয় নির্ভর করায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শ্রমিকের কাজের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকে আখ তোলার জন্য মই বেয়ে উঠতে গিয়ে একাধিকবার পড়ে যান তিনি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্টের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করান।   অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা সবিতা জানান, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তাঁর রক্তপাত ও পেটব্যথা অব্যাহত ছিল। পরে পুনেতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পেতেও সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি। সবিতার অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে এমন সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নারী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে নারীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   জরায়ু অপসারণের হার নিয়ে উদ্বেগ নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার নারী আখশ্রমিকদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় নিয়োজিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী বা ‘আশা’ কর্মীদেরও নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং যথাযথ তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   সরকারি উদ্যোগেও পরিবর্তন সীমিত আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তাঁরা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করার চাপ থেকে যায়। ঠিকাদার আশরুবা দত্ত জানান, তাঁদের আয় চিনি কলগুলোতে সরবরাহ করা আখের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক কম থাকলে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি সহায়তা পাননি।   করপোরেট উদ্যোগ ও শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আখের অন্যতম বড় ক্রেতা কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, উন্নত সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও পেপসিকো কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে পূর্ণিমার শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করাতে হলেও তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। পূর্ণিমার মতো বহু নারী শ্রমিকের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু অস্ত্রোপচার করানো বা না করানোর নয়; বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সহজলভ্য সরকারি চিকিৎসা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রোপচার প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের ঋণনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ৭ জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি

0 Comments