সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ভোরে (২১ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেখানে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে অভিষেক ঘটছে তার।
সর্বশেষ ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেন তার মা প্রয়াত খালেদা জিয়া। যদিও ১৯৯৩ সালে ৪৮তম অধিবেশন, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনেও অংশ নেন খালেদা জিয়া।
তারও আগে ১৯৮০ সালে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভাষণ দেন তার স্বামী প্রয়াত জিয়াউর রহমান।
সাড়ে চার দশকের মধ্যে সরকারপ্রধান ও একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে একইমঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন তাদেরই উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বের যেকোনও দেশের ক্ষেত্রে এটি বিরল ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই দুই কারণে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রহণযোগ্যতা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের অধিবেশনে আগামী দিনে ঢাকার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেবেন সরকারপ্রধান। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের প্রস্তাবনাগুলোও তুলে ধরবেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন এটি তো স্বাভাবিক বিষয়। অতীতের সরকারগুলোও তা দিয়েছেন। তবে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার মতো সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো সেখানে যাচ্ছেন। বিশ্বে একই পরিবার থেকে নির্বাচিত তিন জন সরকারপ্রধান এমন সুযোগ পেয়েছেন কিনা আমার জানা নেই। তাছাড়া এবার একই সময়ে জাতিসংঘের সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। সেদিক থেকে এটি আমাদের জন্য ব্যতিক্রম। আশা করবো প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নিজেদের অবস্থানের বিষয়টিও খোলাসা করবেন, এমনটি প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ।’’
তিনি বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই তার ভাষণে যেন জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন ঘটে।’’
জিয়ার ভাষণের বিশেষত্ব
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন নথি অনুযায়ী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তখন তেলের সংকট এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ নির্ধারণ ও তা অনুসরণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা জিয়াউর রহমান তার নিজস্ব ভাষায় তুলে ধরেছিলেন। তেলের সংকট, বিপুল বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় এবং কমে যাওয়া উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তির সঙ্গে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক বৈষম্যের সম্পর্ক তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, আর্থিক ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তিনি কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর কাছে আরও ভালো বাজার সুবিধা, বেশি উন্নয়ন সহায়তা এবং ঋণমুক্তির দাবি জানান। জিয়ার ভাষণের মূল কথা ছিল আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আহ্বান ছিল না। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন, যা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে আরও ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে।
বাংলাদেশকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া
জাতিসংঘে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম ভাষণও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। যখন দেশটি সবেমাত্র সংসদীয় গণতন্ত্রে পা রেখেছে। ১৯৯৩ সালে তার ভাষণ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাৎক্ষণিক ও জাতীয় কিছু বিষয় গুরুত্ব পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় থেকে পুনরুদ্ধার, গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীশিক্ষা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
এসব বিষয় ছিল মূলত অভ্যন্তরীণ। তিনি বাংলাদেশ নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরছিলেন।
অপরদিকে ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া আবারও ভিন্ন একটি অবস্থান থেকে বক্তব্য দেন। তার ভাষণে জাতিসংঘের সংস্কার, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, উন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ এবং শান্তিরক্ষার বিষয়গুলো উঠে আসে। বাংলাদেশ তখনও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছে বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছিল। তবে একইসঙ্গে নিজেদের সেই ব্যবস্থার দায়িত্বশীল একটি দেশ হিসেবেও উপস্থাপন করছিল।
তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এ বার্তাটি উন্নয়ন সহায়তার চেয়েও বিস্তৃত ছিল।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে তুলে ধরবেন তারেক রহমান?
এরই মধ্যে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যে সময় বাংলাদেশ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দেবেন তারেক রহমান। তাদের মতে, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দায়িত্বকে কেন্দ্রে রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। তাদেরই সন্তান তারেক রহমান তার পররাষ্ট্রনীতির ভাষায় জাতীয় স্বার্থকে আরও স্পষ্টভাবে কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। তারা উল্লেখ করেন, শুধু তারেক রহমানই নন, ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারও তিন প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক পরিবারেও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রজন্মের পর প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কোনও নির্দিষ্ট পথনির্দেশ নিয়ে আসে না। প্রতিটি প্রজন্ম একটি ভিন্ন বিশ্বের মুখোমুখি হয়।
এর মাধ্যমে জাতিসংঘে তারেক রহমানের উপস্থিতি একটি পারিবারিক মাইলফলকের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারে।বিশেষ করে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যে বিশ্বে কাজ করেছিলেন, তিনি যে বিশ্বে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে তারেক রহমান যে বিশ্বে বক্তব্য দেবেন, তার প্রায় কোনোটিতেই মিল নেই। কারণ বাংলাদেশ এখন আর সেই তরুণ রাষ্ট্র নয়, যে অতিরিক্তভাবে বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এর অর্থনীতি, কূটনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকা বদলে গেছে। একইসঙ্গে বদলে গেছে এর সামনে থাকা প্রশ্নগুলোও—জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক জোট এবং রোহিঙ্গা সংকট পর্যন্ত।
এটাই যেকোনও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পরীক্ষা। জিয়াউর রহমান জাতিসংঘকে ব্যবহার করেছিলেন বৃহত্তর অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী কণ্ঠের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে। খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, উন্নয়ন-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন। এখন তারেক রহমানের সামনে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নিজস্ব অর্থ তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজনীতি বিশ্লেষক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতের ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, এটা রুটিন ওয়ার্ক হিসেবেই দেখছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারে তার ভাষণের বিশেষ তাৎপর্য আছে বলে মনে করি। কারণ বৈশ্বিক দিক থেকে আমাদের নানা সংকট রয়েছে। আশা করবো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পক্ষে তিনি কণ্ঠস্বরের ভূমিকা রাখবেন। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বিকল্প ঐক্যের কথা বলবেন।’’
একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের বিষয়টিকে আলাদা করে দেখতে চান না বলে জানান প্রিন্স। তাছাড়া জাতিসংঘের নিয়মিত অধিবেশনে একজন সরকারপ্রধানের সফর হিসেবেই তা মূল্যায়ন করতে চান বলে উল্লেখ করেন।
অতীতের চেয়ে এবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু সালেহ শিবলী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর সরকারপ্রধান হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আমরা মনে করি এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক। বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। তাছাড়া ৪০ বছর পর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এটিও বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।’’ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ।’’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় যেসব অভিযোগ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় মরিয়ম ও নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন। বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয়ে জানাতেন। এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাসার একটি কক্ষে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদীর দাবি, ঘটনাস্থলে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। আসামিদের কথিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর আলোচনা এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হন। সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে হাইকোর্ট গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন দেন। পরবর্তীতে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে, নতুন মামলায় পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে। রিমান্ড আবেদনের ওপর আদালতের সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে একদিন, ফিরতে একদিন। মাঝে চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর। আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা। এই সফর একইসঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ নিয়ে বিশেষ স্ট্যাটাস দেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এতে তিনি লেখেন, আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা। পৃথিবীর ইতিহাসেও এ সফর একটি বিশেষ মুহূর্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন, বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথা। মাহদী আমিন বলেন, এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যুথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে। তিনি মনে করেন, এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়। এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পন্থী বিভিন্ন প্রোপাগান্ডামূলক অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজ থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা ও অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, এআই দিয়ে তৈরি ছবি দিয়ে চলছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল দাবি করে ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি বলে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, আওয়ামীপন্থী প্রোপাগান্ডামূলক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির দৃশ্য দাবি করে বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে। 'বাংলাফ্যাক্ট' প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি'র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।