জাতীয়

যানজট নিরসন: রাজধানীতে বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক করতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়াচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। 

 

আগামী কয়েক মাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটির ট্রাফিক বিভাগ। 

 

বর্তমানে শহরটির সড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ৮০টি পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।

 

ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মতিঝিল, উত্তরা, শাহবাগ-আবদুল্লাহপুর ভিআইপি সড়ক, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এবং মিরপুর এলাকায় নতুন পর্যায়ের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। 

 

জানা যায়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এসব এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

 

গত মঙ্গলবারই ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আগামী চার মাসে ৬০টি এবং তারপরের চার মাসে আরও ৬০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বাকি ৮০টি পর্যায়ক্রমে বসানো হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 

 

ইতোমধ্যে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’

 

চালকদের ট্রাফিক আইন মানা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর সড়কের পরিস্থিতির উন্নতি করাই এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য। 

 

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এআই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারে থাকা সংশ্লিষ্ট যানের তথ্য ডিএমপির সার্ভারে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ঘটনা যাচাই করে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি সরকারি দুটি নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও মামলার তথ্য জানানো হয়।

 

৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এআই ক্যামেরা চলমান যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। এটি অপটিক্যাল জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে।

 

ডিএমপি সূত্র আরও বলেছে, ‘স্মার্ট পুলিশিং’ চালু প্রকল্পের আওতায় পুরো রাজধানীতে এআই ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন (চেহারা চেনা) সিসিটিভি, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

 

রাজধানীর ট্রাফিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোট ১২ হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বাকিগুলো অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হবে।

 

মৎস্য ভবন, সুগন্ধা, পুলিশ ভবন, শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আর সব মিলিয়ে ডিএমপির অধীনে ১১৭টি ক্যামেরা কাজ করছে। 

 

রাজধানীর ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকায় এ প্রযুক্তি চালু হয়েছে। আর গত ৭ মে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে রাজধানীর এসব মোড়ে ইতোমধ্যে যানবাহনের চালকেরা খুবই সতর্ক থাকছেন।

 

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বাসের লেন ছেড়ে অন্য লেনে যাওয়া এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। সিগন্যালে থামার জায়গায় ঠিকমতো না থামার মামলায়ও এগিয়ে বাস। তারপর রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

 

তবে সব ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলেছে, যেসব এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থাই অকার্যকর, সেখানে সিগন্যাল অমান্যের ঘটনায় মামলা দেওয়ার অবকাশ নেই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইশরাক বিতর্কের মধ্যেই ববি হাজ্জাজের অনুসারীদের অভিযান

সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে স্থানীয় থানাকে না জানিয়ে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের লোকজন। আলোচিত এই অভিযানে আরিফ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে বেদম মারধর করার ফলে তাঁর মাথা ফেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   ইশরাকের অস্ত্র হাতে ঝটিকা অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতে মোহাম্মদপুরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের এমন অভিযান পরিচালনা নতুন করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত রবিবার রাত এগারোটার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের অফিশিয়াল কার্যালয় থেকে এই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধানের সরাসরি নির্দেশনায় সুদীন ও জিসানসহ চার থেকে পাঁচজন যুবক এই কার্যক্রমে অংশ নেয়, যারা এলাকায় মূলত সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।   যদিও এই অভিযানের দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন মাশুক প্রধান। তাঁর দাবি, সংসদ সদস্যের অফিশিয়াল কোনো টিম বা নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, এলাকায় একটি নাগরিক সংগঠন রয়েছে যারা মাঝেমধ্যে নিজ উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ‘ওই অভিযান এমপি মহোদয়ের নয় এবং তাঁর তরফ থেকেও এ রকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযান চলাকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় আরিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে মারধর করার একপর্যায়ে আঘাত লেগে তার মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত আরিফের মাথায় মোট চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের এই আকস্মিক অভিযান সম্পর্কে স্থানীয় থানাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার বিষয়ে থানাকে বিন্দুমাত্র অবহিত করা হয়নি। তবে আরিফ নামের ওই যুবকের মাথা ফেটে যাওয়ার পর পুলিশকে ফোন করা হয় এবং পুলিশ গিয়ে তাকে জখম অবস্থায় নিজেদের গাড়িতে তুলে আনে।   পরবর্তীতে আরিফকে ডোপ টেস্টের উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাঁর শরীরে মাদক সেবনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এরপর তাঁকে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ইশরাক হোসেন যে স্থানে অতীতে অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, সেই দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন বস্তিগুলোতে গতকাল সোমবার বিকেলে পৃথক ও আনুষ্ঠানিক অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ওই অভিযানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অভিযانকালে মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
মো. শাহেদ আহম্মেদ ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে আসছে শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল মিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-জাপান চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) ও জাপানের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (জিমকা) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।   আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চিকিৎসা পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।   সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সমঝোতার মাধ্যমে জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সমন্বয় সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জাপানের উন্নত হৃদরোগের চিকিৎসা, রোবোটিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের জানার সুযোগ বাড়বে।   অনুষ্ঠানে ‘জাপানে হৃদরোগের চিকিৎসার অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন কোবে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিরোমাসা ওতাকে। তিনি হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি) এবং জটিল করোনারি ইন্টারভেনশনে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যোগাযোগবিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্য দেন কোবে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কমিউনিকেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক তোমো ইতো।    তিনি আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।   অনুষ্ঠানে জিমকার সেক্রেটারি জেনারেল কাতসুয়া সাকাগামি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কিয়োশি আমাদা ও সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউকো মোরিকাওয়া এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বোর্ড পরিচালক ফুতোশি কোনো উপস্থিত ছিলেন।   বিএমটিএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, সহসভাপতি এ এম আর মজুমদার লিটন, শাব্বির আহমদ তামিম ও আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুফাসসেরুল হকসহ অন্য সদস্যরা।   বিএমটিএ ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশে চিকিৎসা পর্যটন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, জিমকা জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে সহায়তা করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মার্শালিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে রেলওয়ের জিএম, কার্যক্রম ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে মুহূর্তেই শেষ ট্রেনের টিকিট, নতুন এজেন্সি নিয়োগের উদ্যোগ রেলওয়ের

ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরে হোটেলকক্ষে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।   মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   নিহত আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। এরপর তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।   এ সময় স্ত্রী তার অবস্থান জানতে চেয়ে সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বললেও ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা জানানো হয়নি।   পরবর্তী সময়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে আবুল বাশারের শুয়ে থাকা অবস্থার একটি ছবিও পাঠানো হয়। স্বজনদের অভিযোগ, টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি।   ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত শিক্ষকের ভাগনে কবির হোসেন জানান, রোববার সকালে তার মামা গাজীপুর থেকে নড়িয়ায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে বের হন। পরে তিনি বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে পরিবারকে জানানো হচ্ছিল।   কবির হোসেনের অভিযোগ, সোমবার তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অপরিচিত এক ব্যক্তি দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে হোটেলকক্ষ থেকে তার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।   এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন জানান, ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য ক্রাইম সিন তদন্ত দল আসবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কারা টাকা দাবি করেছিলেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের অনুপস্থিতির সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুর্গাপূজা পরিদর্শনে রংপুর ও রাজশাহী শেষে চট্টগ্রাম পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও ভাতার নিয়ম অপরিবর্তিত

প্রতীকী ছবি

বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এনআইডি আবেদন

0 Comments