অর্থনীতি

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহারে কি বাড়বে গ্রাহকের লেনদেন খরচ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই থেকে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট পয়েন্টে পুরোনো সব কিউআর কোড সরিয়ে শুধু ‘বাংলা কিউআর’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

মূলত ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে এবং অর্থনীতিকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ অর্থহীন করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।

 

এর মাধ্যমে এখন থেকে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারেন।

 

যা এতোদিন একেক প্রতিষ্ঠানের (যেমন- বিকাশ, রকেট বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক) আলাদা আলাদা কিউআর কোডের মাধ্যমে করা হতো।

 

বলা হচ্ছে, এ উদ্যোগের ফলে এখন থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে দামী পিওএস মেশিন বা একাধিক কিউআর স্ট্যান্ড রাখার প্রয়োজন হবে না।

 

কিন্তু বাংলা কিউআর কোড এর ব্যবহার, লেনদেন প্রক্রিয়া, লাভ-ক্ষতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফি নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

ডিজিটাল লেনদেনের এ উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও এ উদ্যোগের সঙ্গে কতটা যুক্ত হবেন সেই আলোচনাও হচ্ছে।

 

গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, বাংলা কিউআর কোড এ পেমেন্ট করতে কী বাড়তি খরচ দিতে হবে? এ লেনদেনের ক্ষেত্রে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি যাবে কার পকেট থেকে?

 

এছাড়া, ব্যবসায়িদের কাছ থেকেই যদি এটি নেওয়া হয়, তাহলে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করার যে লক্ষ্য সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য বলছে যে, এই এক শতাংশ ফি ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার বিষয়। গ্রাহকের পকেট থেকে এটি নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

যদিও ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চার্জ বসালে সেটি জনপ্রিয়তা পাবে না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।

 

এক্ষেত্রে এমডিআর ফি এর ওপর কিছু ছাড় বা কয়েকটি ধাপ নির্ধারণ করার বিষয়টিও ভাবতে বলছেন তারা।

 

এছাড়া কোনো বিক্রেতা গ্রাহকের ওপর এই দায় চাপিয়ে দেন কিনা- সেই বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বাংলা কিউআর কোড কী?

বাংলা কিউআর হলো, বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের জন্য তৈরি একটি ইউনিভার্সাল বা সর্বজনীন কিউআর কোড স্ট্যান্ডার্ড। আগে একটি দোকানে চার থেকে পাঁচটি কিউআর কোড ঝুলত। বিকাশেরটা আলাদা, নগদেরটা আলাদা, ব্যাংকেরটা আলাদা।

 

আপনার কাছে যদি অন্য কোনো ব্যাংকের অ্যাপ থাকতো, তাহলে আপনি সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারতেন না। কিন্তু বাংলা কিউআর কোড আসার ফলে এখন থেকে দোকানদারের টেবিলে কেবল একটিই ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকবে।

 

গ্রাহকের কাছে যে ব্যাংকেরই অ্যাপ থাকুক না কেন, একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট করতে পারবেন।

 

সহজভাবে বলতে গেলে, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা একজন গ্রাহককে বিভিন্ন ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো দোকান বা মার্চেন্টের কাছে পেমেন্ট করার সুবিধা দেয়।

 

এর ফলে একজন গ্রাহককে নতুন করে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। নিজের পছন্দের বা প্রচলিত ব্যাংকের বা এমএফএস অ্যাপ থেকেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।

 

মূলত ক্যাশলেস ট্রানজ্যাকশনকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে টাকা ভাঙতির ঝামেলা এবং জাল নোটের ভয় দূর হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

 

ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি পেমেন্ট সেবাকে এ কিউআর কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন করা যায় কিনা, তা নিয়েও কাজ চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

ফি নিয়ে প্রশ্ন কেন?

ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি নয়। এটি ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলো একটি পরিচালনা খরচ চার্জ করে। একে বলা হয় মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর।

 

২০২৪ সালে যখন বাংলা কিউআর কোড চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআরের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংক কার্ডের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং এমএফএস এর ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ ধার্য করার কথা বলা হয়েছিল।

 

কিন্তু পহেলা জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, সেখানে এই ‘ঊর্ধ্বসীমা’ তুলে দিয়ে ‘সর্বনিম্ন’ হার এক শতাংশ বেঁধে দিয়েছে।

 

উদাহরণ হিসেবে- এক হাজার টাকা ট্রানজেকশন করলে নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যবসায়ী এখন ব্যাংককে কমপক্ষে ১০ টাকা ফি দেবে।

 

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ রেখেছে। ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব প্রচারণামূলক কর্মসূচির আওতায় এমডিআর আংশিক কমাতে বা সম্পূর্ণ নিজেদের পক্ষ থেকে বহন করতে পারবে।

 

এতে বিশেষ অফারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের ওপরও এ ফি কার্যকর নাও হতে পারে। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এমডিআরের দায় থাকবে মার্চেন্টের ওপর, গ্রাহকের ওপর নয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এটি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার খরচ।

 

অবশ্য অনলাইন (বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড ট্রনজেকশনে) লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক ছোট ব্যবসায়ী দুই থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।

 

তারা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা চাপ অনুভব করতে পারেন। যার ফলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে খরচ সমন্বয় করার সুযোগ নিতে পারেন অনেকে।

 

এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল ট্রানজেকশনে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

 

তিনি বলেন, শুরুতেই রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে না ভেবে সবাই যাতে ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত হয় সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

গোলাম মোয়াজ্জেম গণমাধ্যমকে বলেন, এমডিআর এক শতাংশের জায়গায় দশমিক পাঁচ শতাংশ করা যেতে পারে। তার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করা গেলে সেটি করা উচিৎ। রাজস্ব কালেকশনের থেকেও আসলে ইন্টিগ্রেশনটা বেশি জরুরি।

 

এছাড়া, গতানুগতিক পদ্ধতির বিপরীতে নতুন একটি ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত করার বিষয়কেই প্রধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

 

তারা বলছেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধি বা ব্যবসায়ীদের অনীহার শঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি ডিজিটাল ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা রয়েছে তার সঙ্গে মানুষ অভ্যস্ত হলে এটিই তখন বেঁছে নেবে।

 

এক্ষেত্রে কয়েকটি যুক্তি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হলে বিক্রি বাড়ে, আর বিক্রি বাড়লে এক শতাংশ খরচ বড় মনে হবে না।

 

দ্বিতীয়ত, পরিচালন খরচ কমার পাশাপাশি নগদ অর্থ গোনা, ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং চুরির ঝুঁকিও কমবে।

 

এছাড়া ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রচারের জন্য ফি মওকুফসহ নানা অফারও দিতে পারে।

 

এক্ষেত্রে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

 

তিনি বলেন, এক সময় মনে হতো ক্রেডিট কার্ডের কস্ট এতো বেশি কেউ কী ব্যবহার করবে? ব্যবসায়ীরা অনেকে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট নিতে চাইতো না। কিন্তু এখন দেখবেন যে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলে ডিসকাউন্ট দিয়ে দিচ্ছে।

 

আরও যেসব চ্যালেঞ্জ

কাগজে-কলমে ডিজিটাল লেনদেনের এ উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

তারা বলছেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা, চার্জের বোঝা দূর করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

 

এছাড়া লেনদেনের তথ্যগুলো ডকুমেন্টেড হলে এগুলো ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাদের উপর করের বোঝা চাপানো হতে পারে- এমন শঙ্কাও অনেকের পিছুটানের কারণ হতে পারে।

 

তাই এই উদ্যোগের সঙ্গে কিভাবে সবাইকে যুক্ত করা যাবে বা এর সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আস্থায় নেওয়ার উপায় কি, এটিও ভাবা দরকার বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

 

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং লেনদেনের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ ক্যাশ করার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

 

এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আস্থা সংকট এবং ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা জটিলতা দূর করা না গেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবেন না।

 

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতা হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে হয়তো বুঝতে একটু সমস্যা হবে। কারণ টাকা কিউআর কোডের মাধ্যমে আমি নিলাম কিন্তু ক্যাশ করবো কিভাবে, এটা একটা সমস্যা। বিশেষ করে একেবারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যায়ে।

 

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি করবে। যার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানেও উৎসাহিত হতে পারে।

 

কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছু জটিলতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা দূর হবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

 

তিনি বলেন, অনেক দেশে সব ধরনের পেমেন্ট করা হচ্ছে কিউআর কোডে। আমার ধারণা সময়ের সঙ্গে মানুষের মনে হবে যে এটিই ঠিক আছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কিউআর কোড পদ্ধতি আরও বেশি কার্যকর বলেই মনে করেন তিনি।

 

ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ছোট ব্যবসায়ীরাই বরং বেশি সুবিধা পাবেন। আপনার টাকা কোথায় রাখবেন, দোকান থেকে ফেরার সময় ছিনতাইকারী ধরল কিনা এসব চিন্তা থাকবে না। আর দশ হাজার টাকার ওয়ান পার্সেন্ট যত বড় মনে হবে, বিশ টাকার ওয়ান পার্সেন্ট কিন্তু কিছু মনে হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াল ৯.১৬ শতাংশ

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।   জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।   মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।   খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।   গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।   তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।   এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।   দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।   খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।   শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।   সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।   এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।   একই সময়ে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। আর গড় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।   বিবিএস জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে ৩৮৩টি পণ্য ও সেবার মূল্য সংগ্রহ করে সিপিআই প্রণয়ন করা হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জুন মাসের মূল্য ২০২৫ সালের জুন মাসের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহারে কি বাড়বে গ্রাহকের লেনদেন খরচ

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
পোশাক খাতের রপ্তানি আয় নিম্নমুখী

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানান সীমাবদ্ধতার ধাক্কায় দেশের শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে পতন ঘটেছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা যায়।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৮.১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য কমে ১৮.০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৬১ শতাংশ কম। অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি ২১.১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০.৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।   মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ছিল। ওই মাসে মোট রপ্তানি ২৪.৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এপ্রিলে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জুনে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ পতন রেকর্ড করা হয়। ফেব্রুয়ারিতেও রপ্তানি ১৩.২১ শতাংশ কমে যায়। অর্থবছরের কয়েক মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও অধিকাংশ মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বার্ষিক হিসাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।   বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদা ও ক্রেতাদের কম দাম প্রস্তাবের কারণে অনেক কারখানা লোকসানে পড়েছে। মজুরি, সুতা, রং, রাসায়নিক, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ থেকেই কার্যকর

ছবি : সংগৃহীত

দেশে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের

ছবি : সংগৃহীত

আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বোর্ড সদস্যদের নথি তলব

ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংকিং লেনদেনে এলো নতুন নিয়ম, নির্দেশনা দিল কর্তৃপক্ষ

ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা লেনদেনের ফি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনপিএসবির (NPSB) মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেন এবং কার্ড স্কিমের মাধ্যমে সরকারি অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় পয়েন্ট অফ সেল (POS), বাংলা কিউআর কোড লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের সীমা নির্ধারণ করা হয়। উল্লিখিত সার্কুলারের সব ফি/চার্জ এবং শর্তাবলী অপরিবর্তিত রেখে এনপিএসবির আওতায় কেবল বাংলা কিউআর কোড পরিশোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট এ প্রিপেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, এমএফএস, পিএসপির মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মার্চেন্ট হতে আদায়যোগ্য এমিডিআরের সর্বনিম্ন হার ১% (ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত) নির্ধারণ করা হলো।   তবে কোনো একোয়ারিং প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল লেনদেনের উন্নয়নের স্বার্থে প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ আছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-২) মো. শরাফত উল্লাহ খান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ সব ধরনের লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট পাস: কোন মন্ত্রণালয় কত বরাদ্দ পেল

ছবি : সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত

0 Comments