অর্থনীতি

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহারে কি বাড়বে গ্রাহকের লেনদেন খরচ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই থেকে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট পয়েন্টে পুরোনো সব কিউআর কোড সরিয়ে শুধু ‘বাংলা কিউআর’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

মূলত ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে এবং অর্থনীতিকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ অর্থহীন করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।

 

এর মাধ্যমে এখন থেকে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারেন।

 

যা এতোদিন একেক প্রতিষ্ঠানের (যেমন- বিকাশ, রকেট বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক) আলাদা আলাদা কিউআর কোডের মাধ্যমে করা হতো।

 

বলা হচ্ছে, এ উদ্যোগের ফলে এখন থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে দামী পিওএস মেশিন বা একাধিক কিউআর স্ট্যান্ড রাখার প্রয়োজন হবে না।

 

কিন্তু বাংলা কিউআর কোড এর ব্যবহার, লেনদেন প্রক্রিয়া, লাভ-ক্ষতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফি নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

ডিজিটাল লেনদেনের এ উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও এ উদ্যোগের সঙ্গে কতটা যুক্ত হবেন সেই আলোচনাও হচ্ছে।

 

গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, বাংলা কিউআর কোড এ পেমেন্ট করতে কী বাড়তি খরচ দিতে হবে? এ লেনদেনের ক্ষেত্রে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি যাবে কার পকেট থেকে?

 

এছাড়া, ব্যবসায়িদের কাছ থেকেই যদি এটি নেওয়া হয়, তাহলে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করার যে লক্ষ্য সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য বলছে যে, এই এক শতাংশ ফি ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার বিষয়। গ্রাহকের পকেট থেকে এটি নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

যদিও ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চার্জ বসালে সেটি জনপ্রিয়তা পাবে না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।

 

এক্ষেত্রে এমডিআর ফি এর ওপর কিছু ছাড় বা কয়েকটি ধাপ নির্ধারণ করার বিষয়টিও ভাবতে বলছেন তারা।

 

এছাড়া কোনো বিক্রেতা গ্রাহকের ওপর এই দায় চাপিয়ে দেন কিনা- সেই বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বাংলা কিউআর কোড কী?

বাংলা কিউআর হলো, বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের জন্য তৈরি একটি ইউনিভার্সাল বা সর্বজনীন কিউআর কোড স্ট্যান্ডার্ড। আগে একটি দোকানে চার থেকে পাঁচটি কিউআর কোড ঝুলত। বিকাশেরটা আলাদা, নগদেরটা আলাদা, ব্যাংকেরটা আলাদা।

 

আপনার কাছে যদি অন্য কোনো ব্যাংকের অ্যাপ থাকতো, তাহলে আপনি সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারতেন না। কিন্তু বাংলা কিউআর কোড আসার ফলে এখন থেকে দোকানদারের টেবিলে কেবল একটিই ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকবে।

 

গ্রাহকের কাছে যে ব্যাংকেরই অ্যাপ থাকুক না কেন, একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট করতে পারবেন।

 

সহজভাবে বলতে গেলে, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা একজন গ্রাহককে বিভিন্ন ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো দোকান বা মার্চেন্টের কাছে পেমেন্ট করার সুবিধা দেয়।

 

এর ফলে একজন গ্রাহককে নতুন করে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। নিজের পছন্দের বা প্রচলিত ব্যাংকের বা এমএফএস অ্যাপ থেকেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।

 

মূলত ক্যাশলেস ট্রানজ্যাকশনকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে টাকা ভাঙতির ঝামেলা এবং জাল নোটের ভয় দূর হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

 

ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি পেমেন্ট সেবাকে এ কিউআর কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন করা যায় কিনা, তা নিয়েও কাজ চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

ফি নিয়ে প্রশ্ন কেন?

ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি নয়। এটি ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলো একটি পরিচালনা খরচ চার্জ করে। একে বলা হয় মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর।

 

২০২৪ সালে যখন বাংলা কিউআর কোড চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআরের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংক কার্ডের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং এমএফএস এর ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ ধার্য করার কথা বলা হয়েছিল।

 

কিন্তু পহেলা জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, সেখানে এই ‘ঊর্ধ্বসীমা’ তুলে দিয়ে ‘সর্বনিম্ন’ হার এক শতাংশ বেঁধে দিয়েছে।

 

উদাহরণ হিসেবে- এক হাজার টাকা ট্রানজেকশন করলে নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যবসায়ী এখন ব্যাংককে কমপক্ষে ১০ টাকা ফি দেবে।

 

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ রেখেছে। ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব প্রচারণামূলক কর্মসূচির আওতায় এমডিআর আংশিক কমাতে বা সম্পূর্ণ নিজেদের পক্ষ থেকে বহন করতে পারবে।

 

এতে বিশেষ অফারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের ওপরও এ ফি কার্যকর নাও হতে পারে। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এমডিআরের দায় থাকবে মার্চেন্টের ওপর, গ্রাহকের ওপর নয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এটি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার খরচ।

 

অবশ্য অনলাইন (বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড ট্রনজেকশনে) লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক ছোট ব্যবসায়ী দুই থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।

 

তারা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা চাপ অনুভব করতে পারেন। যার ফলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে খরচ সমন্বয় করার সুযোগ নিতে পারেন অনেকে।

 

এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল ট্রানজেকশনে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

 

তিনি বলেন, শুরুতেই রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে না ভেবে সবাই যাতে ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত হয় সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

গোলাম মোয়াজ্জেম গণমাধ্যমকে বলেন, এমডিআর এক শতাংশের জায়গায় দশমিক পাঁচ শতাংশ করা যেতে পারে। তার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করা গেলে সেটি করা উচিৎ। রাজস্ব কালেকশনের থেকেও আসলে ইন্টিগ্রেশনটা বেশি জরুরি।

 

এছাড়া, গতানুগতিক পদ্ধতির বিপরীতে নতুন একটি ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত করার বিষয়কেই প্রধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

 

তারা বলছেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধি বা ব্যবসায়ীদের অনীহার শঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি ডিজিটাল ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা রয়েছে তার সঙ্গে মানুষ অভ্যস্ত হলে এটিই তখন বেঁছে নেবে।

 

এক্ষেত্রে কয়েকটি যুক্তি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হলে বিক্রি বাড়ে, আর বিক্রি বাড়লে এক শতাংশ খরচ বড় মনে হবে না।

 

দ্বিতীয়ত, পরিচালন খরচ কমার পাশাপাশি নগদ অর্থ গোনা, ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং চুরির ঝুঁকিও কমবে।

 

এছাড়া ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রচারের জন্য ফি মওকুফসহ নানা অফারও দিতে পারে।

 

এক্ষেত্রে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

 

তিনি বলেন, এক সময় মনে হতো ক্রেডিট কার্ডের কস্ট এতো বেশি কেউ কী ব্যবহার করবে? ব্যবসায়ীরা অনেকে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট নিতে চাইতো না। কিন্তু এখন দেখবেন যে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলে ডিসকাউন্ট দিয়ে দিচ্ছে।

 

আরও যেসব চ্যালেঞ্জ

কাগজে-কলমে ডিজিটাল লেনদেনের এ উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

তারা বলছেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা, চার্জের বোঝা দূর করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

 

এছাড়া লেনদেনের তথ্যগুলো ডকুমেন্টেড হলে এগুলো ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাদের উপর করের বোঝা চাপানো হতে পারে- এমন শঙ্কাও অনেকের পিছুটানের কারণ হতে পারে।

 

তাই এই উদ্যোগের সঙ্গে কিভাবে সবাইকে যুক্ত করা যাবে বা এর সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আস্থায় নেওয়ার উপায় কি, এটিও ভাবা দরকার বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

 

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং লেনদেনের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ ক্যাশ করার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

 

এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আস্থা সংকট এবং ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা জটিলতা দূর করা না গেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবেন না।

 

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতা হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে হয়তো বুঝতে একটু সমস্যা হবে। কারণ টাকা কিউআর কোডের মাধ্যমে আমি নিলাম কিন্তু ক্যাশ করবো কিভাবে, এটা একটা সমস্যা। বিশেষ করে একেবারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যায়ে।

 

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি করবে। যার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানেও উৎসাহিত হতে পারে।

 

কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছু জটিলতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা দূর হবে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

 

তিনি বলেন, অনেক দেশে সব ধরনের পেমেন্ট করা হচ্ছে কিউআর কোডে। আমার ধারণা সময়ের সঙ্গে মানুষের মনে হবে যে এটিই ঠিক আছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কিউআর কোড পদ্ধতি আরও বেশি কার্যকর বলেই মনে করেন তিনি।

 

ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ছোট ব্যবসায়ীরাই বরং বেশি সুবিধা পাবেন। আপনার টাকা কোথায় রাখবেন, দোকান থেকে ফেরার সময় ছিনতাইকারী ধরল কিনা এসব চিন্তা থাকবে না। আর দশ হাজার টাকার ওয়ান পার্সেন্ট যত বড় মনে হবে, বিশ টাকার ওয়ান পার্সেন্ট কিন্তু কিছু মনে হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বেক্সিমকোর দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত অচলবস্থা কাটাতে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে—বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।   পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক ও আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বেক্সিমকো গ্রুপ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কাছে পর্ষদ পুনর্গঠনের আবেদন জানানোর পর বিএসইসি এই অনুমোদন দিল।   বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় পুনর্গঠিত পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কোম্পানিগুলোতে কমিশনের সম্মতিপত্র (কনসেন্ট লেটার) পাঠানো হবে।   ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে একাধিক ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গত সেপ্টেম্বরে তিনি বেক্সিমকোর তালিকাভুক্ত পর্ষদগুলো থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হন।   গ্রুপটির সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পর্ষদ থেকে তার বিদায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান— সালমান এফ রহমানকে ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।   সরকার ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার পরই বিএসইসির কাছে পর্ষদ পুনর্গঠনের এই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল বেক্সিমকো গ্রুপ।   বিএসইসি'র সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য ৯ সদস্যের নতুন পর্ষদ অনুমোদনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদ পুনর্গঠনেরও অনুমোদন দিয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, "মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই কোম্পানিগুলোতে সম্মতিপত্র পাঠানো হবে।"   ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, পুঁজিবাজারের অর্থ আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ (ফ্রিজ) সহ সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়ে।   এর ফলে কার্যকরী মূলধনের চরম সংকট, কাঁচামালের অভাব এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত গ্রুপটির প্রায় এক ডজন কারখানা বন্ধ হয়ে যায়; যার খেসারত হিসেবে চাকরি হারাতে বা সাময়িক ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হয় ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিককে।   হাইকোর্টে জমা দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকো গ্রুপের মোট বকেয়া ঋণ ও দায়ের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা।   মোট দায়ের মধ্যে ২৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা—যা অর্ধেকেরও বেশি—ইতিমধ্যেই খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এবং অবশিষ্ট দায়ের একটি বড় অংশ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।   বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তেও উঠে এসেছে যে, গ্রুপটির ঋণের এক বিশাল অংশ নেওয়া হয়েছিল অনিয়মের মাধ্যমে—যার মধ্যে ভুয়া বা স্রেফ কাগজে-কলমে থাকা প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু অর্থ পুঁজিবাজারে শেয়ার কারসাজিতে পাচার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।   বেক্সিমকো গ্রুপের প্রস্তাবিত পর্ষদ জানা যায়, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ পুনর্গঠনের পর গ্রুপটির মালিকানাধীন অপর দুটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো লিমিটেড) ও শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি—গত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএসইসির দুটি পূর্ববর্তী আদেশ প্রত্যাহার করে তাদের নতুন প্রস্তাবিত পর্ষদ অনুমোদনের অনুরোধ জানায়।   প্রস্তাবিত উভয় পর্ষদই সাত সদস্যের; যার মধ্যে সালমান এফ রহমানের ভাই এ এস এফ রহমান এবং স্পন্সর গ্রুপের মনোনীত চারজন পরিচালক রয়েছেন। কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড মেনে এই পর্ষদগুলোতে একজন পুরুষ ও একজন নারীসহ দুজন স্বতন্ত্র পরিচালকও রাখা হয়েছে।   বেক্সিমকো লিমিটেডের জন্য প্রস্তাবিত পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন ও কে চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আজমল কবীর এবং কামরুন নাহার আহমেদ। এছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে শাহ মঞ্জুরুল হকের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।   অন্যদিকে শাইনপুকুর সিরামিকস পর্ষদে বেক্সিমকো লিমিটেডের মতোই একই স্পন্সর ও স্পন্সর-গ্রুপের পরিচালকদের নাম প্রস্তাব করা হলেও, কোনো স্বতন্ত্র পরিচালকের নাম সুপারিশ করা হয়নি।   সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৈদেশিক ঋণের টাকা রাখতে এফসি হিসাব খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

৩০টি ব্যাংকে কিউ-ক্যাশের এটিএম, কার্ড, পিওএসসহ সব সেবা চালু

সংগৃহীত ছবি

৩০ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষ তলব

সংগৃহীত ছবি
বন্ডবাজারে অস্থিরতা ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার

মার্কিন ডলারের দর ও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা। খবর রয়টার্স।      মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে স্বর্ণয় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা দেখা যাচ্ছে।     সোমবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কিছুটা কমেছে। একই সময়ে এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ডলারের দরও কমেছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে।     ইউরোজোনের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতি বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়েছে।     এখন বিনিয়োগকারীদের নজর বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে এতে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।     সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে।       সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ২২ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন হচ্ছে।     সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।     এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে তেলের দাম কমেছে।     তবে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ থাকলেও স্বর্ণের বাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে টিডি সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠবে বলে তারা মনে করছেন।       এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০১ ডলারে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনেই ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী

‘দিন যাচ্ছে আর দাম বাড়ছে, হিসাব মেলানোই কষ্ট’: রাজধানীতে সবজির বাজারে হাহাকার

মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্ট

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ একর জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপনে ১৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ২৫০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   এ লক্ষ্যে আজ সোমবার র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের মধ্যে একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি এবং র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জামান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, তিনটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করার পর এটিই ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি। র‌্যানকন লুব্রিকেন্টসের মতো শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিশ্রুতি নবগঠিত সংস্থার প্রতি গভীর আস্থার প্রতিফলন, যা অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করবে।   চুক্তি অনুযায়ী, জমি হস্তান্তরের তারিখ থেকে ইজারার মেয়াদ হবে ৫০ বছর, যা নির্ধারিত শর্তে নবায়নযোগ্য। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে র‌্যানকনকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।   জমি হস্তান্তরের ১২০ দিনের মধ্যে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস। আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে শিল্প ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   চুক্তির আওতায় ইউটিলিটি সংযোগ প্রদানসহ সরকার ঘোষিত শুল্ক, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য কর সুবিধাপ্রাপ্তিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।   অন্যদিকে, সময়মতো সব ধরনের অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, শ্রম ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টসের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার স্থাপনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ (সিইটিপি) ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করবে।   চুক্তিতে প্রকল্পের কার্যসম্পাদন ও নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো লঙ্ঘন সংশোধনে নির্দিষ্ট সময় প্রদান এবং ‘আরবিট্রেশন আইন, ২০০১’-এর আওতায় সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৫, ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে নতুন জেবিসিসিআই বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

১৯ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা ৬ দিন সাময়িক বন্ধ

0 Comments