সারাদেশ

জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৪৭ শতাংশ মানুষ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। জানমাল ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শারীরিক হামলা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের স্থায়ী শঙ্কা কাজ করছে। সরকার ‘ডেভিল হান্ট’ ও ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’সহ নানা উদ্যোগ নিলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরেনি।


এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। জরিপ অনুযায়ী, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দেশের ৪৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ। শারীরিক হামলার আশঙ্কায় আছেন ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হামলার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী ও পুরুষ অংশ নেন। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও বৈষম্য—এই ছয়টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপে দেখা গেছে, যদিও ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ মানুষ নিজেদের আঙিনায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন, তবু শারীরিক হামলা, সম্পদ ভাঙচুর ও মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে উদ্বেগের হার বেশি। একই সঙ্গে গরিব শ্রেণীর তুলনায় ধনী শ্রেণীর মানুষ বেশি নিরাপত্তা-শঙ্কায় রয়েছেন।


মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ উদ্বিগ্ন। শহরাঞ্চলে এ উদ্বেগের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, গ্রামে ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিভাগভেদে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন রাজধানী ঢাকার মানুষ—৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে বরিশাল (৫৪ দশমিক ২১), ময়মনসিংহ ও রংপুর (উভয়ই প্রায় ৪৬), চট্টগ্রাম (৪৩ দশমিক ৬১), রাজশাহী (প্রায় ৪১), সিলেট (৩৭) এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগ (৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ)। এখানেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন। ধনী শ্রেণীতে উদ্বেগের হার ৫১ শতাংশ, গরিব শ্রেণীতে ৪১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ শারীরিক হামলার আশঙ্কা করছেন। শহরে এ হার ৪১ দশমিক ২৮ শতাংশ, গ্রামে ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ। শারীরিক হামলার শঙ্কায় সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ—৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও ময়মনসিংহ। এখানেও নারীরা (৩৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) পুরুষদের (৩০ দশমিক ৭৩ শতাংশ) তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন।
ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হামলার শঙ্কায় রয়েছেন ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ। শহরে এ হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং গ্রামে ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কা করছেন। বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রেও নারীদের উদ্বেগের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি।
বিবিএসের পারসেপশন সার্ভে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, এই জরিপ মূলত নীতিনির্ধারকদের জন্য জনগণের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই করা হয়েছে। নিজের এলাকায় প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ মনে করলেও, সেই নিরাপত্তা কতটুকু বিস্তৃত—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। মানুষের উদ্বেগ ও শঙ্কার জায়গাগুলোই এই জরিপে উঠে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের আস্থা ফিরবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা থেকে যাবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপরই জনগণের আস্থা নির্ভর করে। রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। তা না হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, রাতের বেলায় নিজের ঘরকে নিরাপদ মনে করেন ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ মানুষ। তবে সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পান মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ মনে করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সেবা নিতে ঘুস দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ ঘুস দিয়ে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।


সব মিলিয়ে জরিপের ফলাফল বলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আংশিক স্বস্তির অনুভূতি থাকলেও জানমাল, শারীরিক নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে দেশের একটি বড় অংশ এখনো গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল ফোনে ব্যস্ত চালক, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাস চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল থেকে সিলেটগামী সাগরিকা পরিবহনের বাসটির চালক যাত্রাপথে বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী তাকে মোবাইল ব্যবহার না করে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করেন। তবে চালক যাত্রীদের কথা উপেক্ষা করে মোবাইলে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত সাইফ আলী (৫২), তুষার (৩৪) ও রানী বেগমকে (৫০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত যাত্রী রানী বেগম বলেন, বাস চলার সময় চালক বারবার মোবাইলে কথা বলছিলেন। আমরা কয়েকজন যাত্রী তাকে নিষেধও করেছিলাম। কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ধলা সীমান্ত এলাকা।

মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৮

ছবি : সংগৃহীত

গফরগাঁওয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত: বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল

ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৬ শ্রমিক নিহত

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়ার সিল্কিবান্ধা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম।   পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে লাগে। সেখানে কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি শ্রমিকদের চাপা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।    পুলিশ আরো জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকট কাটাতে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা ও পুনর্নির্মাণের দাবিতে দাঁড়িয়েছেন নাগরিক প্রতিনিধি দল— সংগৃহীত

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের বিচার ও পুনর্নির্মাণের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মাফিয়ার নির্যাতনে লিবিয়ায় বাংলাদেশি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পুলিশকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) তার জামিন স্থগিত করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। এর আগে রোববার (০২ আগস্ট) হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এরপর মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে তার এই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ নিয়ে শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন রোববার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় মরদেহ দেখে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এর পরদিন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে রোববার (০২ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ। এরপর মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে প্রথমবার গ্রেপ্তারের পর তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরে ডিএনএ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ২৩ শতাংশ বাসেরই নেই বৈধ ফিটনেস সনদ

ফাইল ছবি

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ফের বন্যার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ১২ জেলে

0 Comments