২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। জানমাল ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শারীরিক হামলা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের স্থায়ী শঙ্কা কাজ করছে। সরকার ‘ডেভিল হান্ট’ ও ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’সহ নানা উদ্যোগ নিলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরেনি।
এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। জরিপ অনুযায়ী, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দেশের ৪৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ। শারীরিক হামলার আশঙ্কায় আছেন ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হামলার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী ও পুরুষ অংশ নেন। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও বৈষম্য—এই ছয়টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপে দেখা গেছে, যদিও ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ মানুষ নিজেদের আঙিনায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন, তবু শারীরিক হামলা, সম্পদ ভাঙচুর ও মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে উদ্বেগের হার বেশি। একই সঙ্গে গরিব শ্রেণীর তুলনায় ধনী শ্রেণীর মানুষ বেশি নিরাপত্তা-শঙ্কায় রয়েছেন।
মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ উদ্বিগ্ন। শহরাঞ্চলে এ উদ্বেগের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, গ্রামে ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিভাগভেদে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন রাজধানী ঢাকার মানুষ—৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে বরিশাল (৫৪ দশমিক ২১), ময়মনসিংহ ও রংপুর (উভয়ই প্রায় ৪৬), চট্টগ্রাম (৪৩ দশমিক ৬১), রাজশাহী (প্রায় ৪১), সিলেট (৩৭) এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগ (৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ)। এখানেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন। ধনী শ্রেণীতে উদ্বেগের হার ৫১ শতাংশ, গরিব শ্রেণীতে ৪১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ শারীরিক হামলার আশঙ্কা করছেন। শহরে এ হার ৪১ দশমিক ২৮ শতাংশ, গ্রামে ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ। শারীরিক হামলার শঙ্কায় সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ—৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও ময়মনসিংহ। এখানেও নারীরা (৩৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) পুরুষদের (৩০ দশমিক ৭৩ শতাংশ) তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন।
ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হামলার শঙ্কায় রয়েছেন ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ। শহরে এ হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং গ্রামে ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কা করছেন। বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রেও নারীদের উদ্বেগের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি।
বিবিএসের পারসেপশন সার্ভে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, এই জরিপ মূলত নীতিনির্ধারকদের জন্য জনগণের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই করা হয়েছে। নিজের এলাকায় প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ মনে করলেও, সেই নিরাপত্তা কতটুকু বিস্তৃত—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। মানুষের উদ্বেগ ও শঙ্কার জায়গাগুলোই এই জরিপে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের আস্থা ফিরবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা থেকে যাবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপরই জনগণের আস্থা নির্ভর করে। রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। তা না হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, রাতের বেলায় নিজের ঘরকে নিরাপদ মনে করেন ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ মানুষ। তবে সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পান মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ মনে করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সেবা নিতে ঘুস দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ ঘুস দিয়ে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে জরিপের ফলাফল বলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আংশিক স্বস্তির অনুভূতি থাকলেও জানমাল, শারীরিক নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে দেশের একটি বড় অংশ এখনো গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি ভবন ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা। এ সময় ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করে হট্টগোল শুরু করেন তারা। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরার একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাকবিতণ্ডা মারামারিতে রূপ নেয়। বিষয়টি দ্রুত অন্যান্য রিকশাচালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত না করার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিহত রিকশাচালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় উপস্থিত জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা যায়নি। পুলিশ জানায়, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও জড়িতদের শনাক্তের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আসামি ধরতে গিয়ে মবের স্বীকার হয়ে ফিরে এসেছেন থানা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে রেখে একদল নারী ও পুরুষ আইনের কাজে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টির করছেন- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায়।মবের বিষয়টি উলিপুর থানার ওসি স্বীকার করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমি-জমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এদিকে ১০ মার্চ বিকালে মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় আসামিরা বাড়িতে থাকা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম ও কন্যা আফ্রিদা আজিজ সাথিকে মারধর করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং বসত ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা চুরি করে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এরপর থানা পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার (১৫ মার্চ) মামলা গ্রহণ করেন। মামলার বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাহিরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকেন না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে। এ বিষয়ে মাহাবুবার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারো বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুইবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যের ব্যাপারে থানায় ডাকেন। পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ আসামি ধরতে গেলে আসামিরা নারী এবং ভাড়াটিয়া লোকদের দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। ফলে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মিন্টু মিয়া নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফরিদ উদ্দিন নামে একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে নদীর ঘাটে থাকা ১২টি নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের গাজিরপাড়া নৌকাঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।মৃত মিন্টু মিয়া (৫০) চিলমারী ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিন রহমানের ছেলে। নিখোঁজ ফরিদ উদ্দিন (৪৫) একই এলাকার এছাহক মেম্বারের ছেলে বলে জানা গেছে। ঝড়ে প্রচুর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ভুট্টাখেতসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে মিন্টু মিয়া ও ফরিদ উদ্দিন গাজিরপাড়া নৌকাঘাট এলাকায় নৌকা বাঁধতে যান। এ সময় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘাটে থাকা প্রায় ১২টি নৌকা ভেঙে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে উঠে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা আরও জানান, ঝড়ের সময় মিন্টু মিয়া গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাড়িতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অপরদিকে ঝড়ের সময় ফরিদ উদ্দিন নদীতে নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ ফরিদ উদ্দিনকে উদ্ধারের জন্য রোববার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। রোববার বিকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঝড়ের সময় প্রচুর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।