অন্যান্য

জবি অধ্যাপক হেনস্তার অভিযোগে তিন ছাত্রদল নেতা অভিযুক্ত

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) গণিত বিভাগের এক অধ্যাপককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার (২৯ মার্চ) ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

 

লিখিত অভিযোগে অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, ‘গত ১৭ মার্চ-২০২৬ তারিখে নতুন উপাচার্যের যোগদান উপলক্ষ্যে টিএসসি থেকে চা পান শেষে দুই সহকর্মী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার আহম্মদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নঈম আকতার সিদ্দিকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গতিরোধ করেন।

এ সময় মেহেদী হাসান হিমেল আমাকে জিজ্ঞাসা করেন বাড়ি চাঁদপুর কিনা এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমার একাধিক ছবি আছে কিনা। তার এসব প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বললে আমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করা হয় যে, আমি এলাকায় বিএনপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গুপ্ত’। আমি এ অভিযোগের প্রমাণ জানতে চাইলে হিমেল তার কাছে প্রমাণ আছে বলে জানান। এক পর্যায়ে আমার সহকর্মী ‘একজন শিক্ষককে’ এভাবে জিজ্ঞাসাবাদের কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তখন হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের জাফর আহমেদ, সুমন সরদারসহ ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য আমাদের উদ্দেশ্যে অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন এবং আমার সহকর্মীর মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালান। আমার সহকর্মীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমাকেও ধমক দেওয়া হয় এবং ফোন জোর করে চেক করার চেষ্টা করা হয়।

 

আমি ঘটনাস্থল থেকে প্রশাসনিক ভবনের দিকে যাওয়ার সময় পিছন থেকে আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীনকে অবহিত করলে উপাচার্য লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।’ অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষক লিখিত আবেদনে ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
টিকা ঘাটতিতে বাড়ছে হাম, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে

দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ঢাকায় একাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালের শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে, করিডর পর্যন্ত পৌঁছেছে হামের রোগী।   রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত শনিবার হামে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে তিন শিশু এবং ময়মনসিংহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই)      উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজশাহী, খুলনাসহ প্রায় সারা দেশেই এটি ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের সংক্রমণ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঠিক তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নয় মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যেই এখন বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অথচ এই বয়সে তাদের টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘আউটব্রেক রেসপন্স’ হিসেবে আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ব্যাপক টিকা কর্মসূচি চালানো হতে পারে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া শিশুদেরও অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হতে পারে। টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, টিকাদানের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে আজ (সোমবার) ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন ১৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। অনেককেই করিডর ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর শনির আখড়া থেকে আট মাস বয়সি সন্তান আবদুল্লাহকে নিয়ে গত ১৯ মার্চ থেকে এ হাসপাতালের দুই নম্বর কেবিনের এক নম্বর বিছানায় আছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, প্রথমে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের ইনফেকশন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরে জানতে পারি ছেলে হামে আক্রান্ত। ছেলেকে তিন মাস বয়সে টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর অসুস্থতার কারণে আর টিকা দেওয়া হয়নি। এ হাসপাতালে হামে এক শিশুর মৃত্যুও ঘটেছে। ইপিআইয়ের আওতায় শিশুর ৯ মাস বয়সে এমএমআর-এর প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে হামের রোগীর চাপ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, হাসপাতালে সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের আওতায় আনতে সরকার ৬০৪ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলে সারা দেশে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর কথাও ভাবছে সরকার। এসময় রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ভেন্টিলেশনের অভাবে ৩৩ শিশুর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। চারটি ভেন্টিলেটর মেশিন সোমবারেই পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী রামেক হাসপাতালে গিয়ে সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও ১২টি ভেন্টিলেটর পাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বিঘ্ন, টিকার সংকট ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলনের কারণে সময়মতো হামের টিকা না পাওয়াই এ প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। সূত্রমতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চম সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ থাকায় ইপিআইয়ের টিকা কেনা হয়নি। ফলে ২০২৫ সালে দেশে ইপিআইয়ের টিকা সংকট দেখা দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) সিএসও কনস্টিটিউয়েন্সি স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপারসন ড. নিজাম উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে ইপিআইয়ের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভ্যাকসিনের সরবরাহ ছিল না, আবার কর্মীদের আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ে টিকা ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। ফলে বহু শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারা দেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।এ সময় তিনি জানান, সরকারি দলের সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিফ করা হয়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সারা দেশ ঘুরে হামের প্রাদুর্ভাবের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে।   সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি সারা দেশে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে যা করার, তা-ই করা হবে। সংসদে আলোচনা করে জুলাই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা বিষয়ে ৩০০ বিধিতে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটির সভায় জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও তেল সংগ্রহে যে সংকট চলছে, তা নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার বিকালে সরকারি দলের সভা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ওই সভা মুলতবি করা হয়। সভায় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের ভূমিকা, সরকারের চলমান কার্যক্রম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জবি অধ্যাপক হেনস্তার অভিযোগে তিন ছাত্রদল নেতা অভিযুক্ত

ছবি : সংগৃহীত

১৩৩ অধ্যাদেশে আপত্তি, গণভোটসহ ১৫ ইস্যুতে জামায়াতের প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত

৬ মাসে সব স্থানীয় নির্বাচন চায় এনসিপি, সঙ্গে ৫ দফা দাবি

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকাসহ ৫ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি মনোনিত প্রার্থী হবেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি মনোনিত প্রার্থী হবেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি মনোনিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপি মনোনিত প্রার্থী করা হয়েছে মোবাশ্বের আলীকে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

জাপানি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাষা শিখবেন বাংলাদেশিরা; শিগগিরই সমঝোতা স্মারক

ছবি : সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্ম আর ৭২-এর সংবিধান চায় না : হান্নান মাসউদ

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির রহস্য উন্মোচন করলেন নাসীরুদ্দীন

ছবি: সংগৃহীত
রাতে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলনে আসছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।   রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাত ৯টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।   এনসিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রোববার রাত ৯টায় এনসিপি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত থাকবেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

গুচ্ছ পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহন চালু করল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছে: নাহিদ ইসলাম

0 Comments