অন্যান্য

১৩৩ অধ্যাদেশে আপত্তি, গণভোটসহ ১৫ ইস্যুতে জামায়াতের প্রশ্ন

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোটসহ অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব বিষয়ে দলটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

 

রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। আমরা এসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছেন ওনারা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগে বাছাই কমিটি—সংস্কারের মাধ্যমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্বের উদ্যোগেও আপত্তি জানিয়েছে দলটি।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি সম্পৃক্ত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তাহলে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।

তিনি জানান, যেসব বিষয়ে কমিটিতে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক ঐকমত্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপস করবে না দলটি।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেসব বিষয়ে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোতে আমরা কোনো ছাড় দেব না। সংসদে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজন হলে ভোটাভুটি হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
১৩৩ অধ্যাদেশে আপত্তি, গণভোটসহ ১৫ ইস্যুতে জামায়াতের প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোটসহ অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব বিষয়ে দলটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।   রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। আমরা এসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছেন ওনারা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগে বাছাই কমিটি—সংস্কারের মাধ্যমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্বের উদ্যোগেও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি সম্পৃক্ত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তাহলে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। তিনি জানান, যেসব বিষয়ে কমিটিতে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক ঐকমত্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপস করবে না দলটি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেসব বিষয়ে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোতে আমরা কোনো ছাড় দেব না। সংসদে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজন হলে ভোটাভুটি হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত

৬ মাসে সব স্থানীয় নির্বাচন চায় এনসিপি, সঙ্গে ৫ দফা দাবি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকাসহ ৫ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

জাপানি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাষা শিখবেন বাংলাদেশিরা; শিগগিরই সমঝোতা স্মারক

ছবি : সংগৃহীত
তরুণ প্রজন্ম আর ৭২-এর সংবিধান চায় না : হান্নান মাসউদ

তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’রা আর ৭২-এর সংবিধান চায় না বলে জানিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৩০ বছর পরে জন্ম নিয়ে আমার মতো যারা রয়েছে, তারা কেন ভোটাধিকার পেল না, তারা তার জবাব চায়।’ রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।  বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি এই সংসদের সর্বকনিষ্ঠ এমপি। বাংলাদেশের ইতিহাসেরও সর্বকনিষ্ঠ এমপি। আপনারা যে জেন-জির কথা বলেন, সেই জেন-জির প্রতিনিধি হয়ে আমি সংসদে কথা বলতে এসেছি। জেন-জিরা কী চায়, তা আমি বলছি।’  হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা তো স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি, আমাদের কী ভুল ছিল? আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা কি সেই নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়েছি? ৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তারা চেয়েছিলেন পরবর্তী সন্তানেরা যেন নিরাপদ বাংলাদেশে ভোটাধিকার পায়, রক্ষীবাহিনী যেন না হয়, যেন ভোটাধিকার পায়, যেন আবার দুর্ভিক্ষ না হয়। কিন্তু আমরা কী দেখেছি? আমরা দেখেছি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। ১৯৭৩ সালে ভোট চুরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে ও গণতান্ত্রিকভাবে পুনরুদ্ধার করার জন্য অটল ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আমার হাতিয়ায় তিনবার গিয়েছেন। বেগম জিয়া হাতিয়ায় তিন থেকে চারবার গিয়েছেন। কিন্তু তার পরও আমাদের হাতিয়ায় লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়িহীন রয়েছে।’ হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ‘আমি এই নির্বাচনে ভোট ডাকাতি দেখেছি।আমার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, প্রধানমন্ত্রী আছেন, আমি এখানে প্রশ্ন করি—৯৪ সালের মাগুরার নির্বাচন কারা আয়োজন করেছিল? আজ আবার কি মাগুরা মার্কা নির্বাচন আয়োজন করবেন?’ তিনি বলেন, ‌‘সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী হিসেবে আমি নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা করতে গিয়ে তিন-তিনবার হামলার শিকার হয়েছি। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় গিয়েছি, সেখানেও আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। সরাসরি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে কোপাতে আসা হয়েছে। তারা তো তারাই, যাদের প্রত্যেকের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্ত লেগে আছে। এই বিশ্বাসঘাতকতা এই রাষ্ট্র আর সইবে না। আপনারাও সইতে পারবেন না। বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য এই দেশে আবার দিতে হবে।’ হান্নান মাসউদ আরো বলেন, “আমার এলাকায় একজন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে শুধু ‘শাপলাকলি’তে ভোট দেওয়ার কারণে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রীর হয়ে কথা বলেন। তার উচিত, দেশে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, সেটি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু সেটিতে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন।”

মারিয়া রহমান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির রহস্য উন্মোচন করলেন নাসীরুদ্দীন

ছবি: সংগৃহীত

রাতে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

ছবি: সংগৃহীত

গুচ্ছ পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহন চালু করল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ৪০ দিনের বিরতি শেষে আজ রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় শুরু হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে দীর্ঘ ছুটির পর প্রতিষ্ঠান খোলার প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। এই কার্যক্রম শুধু খোলার দিনের জন্য নয়, বরং বছরজুড়েই তা অব্যাহত রাখতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ তদারকি, কার্যকর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ, বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর কথাও বলা হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও আজ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার গত ৯ মার্চ থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি কার্যকর হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল, যা আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। রমজানে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পরবর্তী ১০টি শনিবার দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পাঠদান চলবে। এর প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ এপ্রিল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সিলেবাস সময়মতো শেষ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছে: নাহিদ ইসলাম

সংগৃহীত ছবি

সংকটেও জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে জনস্বার্থ রক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রী : প্রিন্স

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন তারেক রহমান

0 Comments