বিশ্ব

ইউরোপীয় গাড়ি আমদানি শুল্ক ১১০ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে করবে ভারত

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ফাইল ছবি : রয়টার্স


ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করছে ভারত বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে এগোনোর মধ্যে এটিই হবে ভারতের বিশাল বাজার সবচেয়ে বড় মাত্রায় উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ। চুক্তিটি মঙ্গলবারের মধ্যেই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনার বিষয়ে অবহিত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা সীমিত সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমাতে সম্মত হয়েছে।


এই ছাড় প্রযোজ্য হবে ১৫ হাজার ইউরোর বেশি আমদানি মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে।
সূত্রগুলো আরো জানায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শুল্ক আরো কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে। এর ফলে ভলকসওয়াগেন, মারসিডিস-বেঞ্চ এবং বিএমডব্লিউ–এর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ফাইল ছবি : রয়টার্স
ইউরোপীয় গাড়ি আমদানি শুল্ক ১১০ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে করবে ভারত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করছে ভারত বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে এগোনোর মধ্যে এটিই হবে ভারতের বিশাল বাজার সবচেয়ে বড় মাত্রায় উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ। চুক্তিটি মঙ্গলবারের মধ্যেই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনার বিষয়ে অবহিত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা সীমিত সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমাতে সম্মত হয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে ১৫ হাজার ইউরোর বেশি আমদানি মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে। সূত্রগুলো আরো জানায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শুল্ক আরো কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে। এর ফলে ভলকসওয়াগেন, মারসিডিস-বেঞ্চ এবং বিএমডব্লিউ–এর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন খামেনি

ফাইল ছবি : রয়টার্স

সমালোচনার মুখে এবার ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিফিল প্রত্যাহারের পর লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বাড়লেও যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা ট্রাম্পের

আফগানিস্তানে ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সেনাদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যের জেরে ইউরোপীয় মিত্রদের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আংশিকভাবে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন বলে মনে হয়েছে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই দাবি—ন্যাটো ‘কিছু সেনা পাঠিয়েছিল’, কিন্তু তারা ‘সামনের সারি থেকে একটু পেছনে, কিছুটা দূরে ছিল’—শনিবার নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। কোপেনহেগেন  থেকে এএফপি জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতি সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেন। শনিবার, এক দিন আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দেওয়ার পর, ট্রাম্প অন্তত ব্রিটিশ সেনাদের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে মনে হয়। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সৈন্যরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে!’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, আর তারা ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের মধ্যে। এটি এমন এক বন্ধন, যা কখনো ভাঙবে না।’ ট্রাম্প যখন এই বক্তব্য দেন, তখন লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা সাহসী ব্রিটিশ ও মার্কিন সৈন্যদের কথা তুলেছেন—যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ ট্রাম্পের আগের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাজ্যই নয়; শনিবার আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা তাদের সেনাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যে তার সরকারের বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে ন্যাটো অভিযানে ‘আমাদের দেশ যে মূল্য দিয়েছে, তা প্রশ্নাতীত—৫৩ জন ইতালীয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৭০০’র বেশি আহত হয়েছেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই কারণে আফগানিস্তানে ন্যাটো দেশগুলোর অবদানকে খাটো করে দেখানো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন তা আসে একটি মিত্র রাষ্ট্রের কাছ থেকে।’ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্মরণ করেন, ২০১১ সালে আফগানিস্তানে নিহত পাঁচ পোলিশ সেনার বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘তখন আমার সঙ্গে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, আমেরিকা কখনোই পোলিশ বীরদের ভুলবে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই কথাটি মনে করিয়ে দেবেন।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দপ্তর শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যগুলো জবাব দেওয়ার যোগ্য নয়।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপ্রধান নিহত সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং জাতির কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করতে চান।’ ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রায় ৯০ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন শনিবার ফেসবুকে লেখেন, ‘ডেনিশ ভেটেরানরা যে বলেছেন- এই কষ্ট কতটা গভীর, তা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না- আমি তা পুরোপুরি বুঝি।’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে মিত্র বাহিনীর সেনাদের অঙ্গীকার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন তোলা অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনসংখ্যার তুলনায় ডেনমার্ক ন্যাটোর সেই দেশগুলোর একটি, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সহ্য করেছে।’ ২০০৩ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪ লাখ। ডেনিশ বার্তা সংস্থা রিৎসাউয়ের তথ্যমতে, বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১২ হাজার ডেনিশ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে ডেনিশ ভেটেরানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে নীরব পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি অপমানজনক এবং সত্যিই ভয়াবহ বলে মনে করি। যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের স্বজনদের মধ্যে এসব মন্তব্য যে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করেছে, তাতে আমি বিস্মিত নই।’ প্রথমে হোয়াইট হাউস স্টারমারের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই সঠিক, ন্যাটোর অন্য যেকোনো দেশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্র বেশি করেছে।’ ৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে এই প্রথমবার ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর করা হয় এবং ব্রিটেনসহ একাধিক মিত্র দেশ আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়। ব্রিটেন ছাড়াও ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি ও পোল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনারাও সেখানে নিহত হন। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস তার দেশের দেওয়া ‘ভারী মূল্য’-এর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘২০০১ সালে আমাদের মার্কিন মিত্ররা যখন সহায়তা চেয়েছিল, তখন আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল।’ তিনি যোগ করেন, ‘অনেক আহত ব্যক্তি আজও সেই সময়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ঘিরে সৃষ্ট ট্রান্সআটলান্টিক সংকট এখন আপাতত প্রশমিত হয়েছে। বুধবার ইউরোপ তার দাবির বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও সরে আসেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্টের ছেলে

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের সঙ্গে ‘চুক্তির’ আহ্বান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের

ট্রাম্পের ‌‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?

আইসিইর হাতে আটক শিশু। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর হাতে দুই বছরের শিশু আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ও তার বাবাকে আটক করেছেন। তাকে আটকের পর টেক্সাসে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের বক্তব্যে এমন নৃশংস আচরণের তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মিনিয়াপোলিসে দোকান থেকে বাসায় ফেরার সময় এলভিস জোয়েল টিই নামের ওই ব্যক্তি ও তার শিশুকন্যাকে আটক করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় এক ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে অভিবাসন কর্মকর্তারা বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠান। পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভাইনরম্যান জানান, পরে দুজনকেই আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাবা এখনো মিনেসোটায় আটক রয়েছেন। এ ঘটনা কল্পনাতীত। এর নিষ্ঠুরতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাবা ও মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর সময় কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিবাসন কর্মকর্তারা বাড়ির উঠান ও ড্রাইভওয়েতে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এক কর্মকর্তা শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় বাবার গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন। আইনজীবী কিরা কেলি জানান, শিশুটির মা দরজার কাছে ছিলেন এবং কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তিনি ঘরের ভেতরে চলে যান। কিন্তু কর্মকর্তারা বাবাকে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে বা ঘরের ভেতরে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের কাছে দিতে দেননি। এরপর বাবা ও মেয়েকে একটি অভিবাসন কর্মকর্তার গাড়িতে তোলা হয়। তবে গাড়িতে কোনো শিশুসিট ছিল না। আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করলে মিনেসোটার এক ফেডারেল বিচারক রাত ৮টা ১০ মিনিটে সরকারকে তাদের মিনেসোটার বাইরে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেন। পরে আরেকটি আদেশে শিশুটিকে অবিলম্বে তার আইনজীবীর জিম্মায় মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। বিচারক বলেন, শিশুটির ক্ষেত্রে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং মামলায় আবেদনকারীর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে আইনজীবীদের অভিযোগ, এসব আদেশের পরও রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী বিমানে তোলা হয়। আইনজীবীরা জানান, ইকুয়েডর থেকে আসা এলভিস জোয়েল টিই-এর আশ্রয় আবেদন এখনো বিচারাধীন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ নেই। শিশুটি যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক হিসেবে আসার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বসবাস করছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শুক্রবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কোনো জবাব দেয়নি। তবে এক বিবৃতিতে ডিএইচএস দাবি করে, বৃহস্পতিবার একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশনের’ সময় তারা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। বিভাগটি তাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে, তিনি বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন এবং শিশুকে নিয়ে ‘বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন’। ডিএইচএস আরও দাবি করে, শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মা তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আইনজীবীরা এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে কারচুপি হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসবে : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

প্রতীকী ছবি ।

ইরানে হামলার আশঙ্কা, গণহারে ফ্লাইট বাতিল

ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নতুন জাতিসংঘ’ বানাতে চাইছেন: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

0 Comments