খেলাধুলা

ইউরোপার শিরোপা জয় করে ইতিহাস গড়ল অ্যাস্টন ভিলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চমৎকার দুই গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল অ্যাস্টন ভিলা। বিরতির পর তারা ব্যবধান বাড়াল আরও। একপেশে লড়াইয়ে ফ্রেইবুর্ককে হারিয়ে ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হলো উনাই এমেরির দল।

 

ইস্তানবুলের বেসিকতাস পার্কে বুধবার রাতে ফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে ভিলা। ইউরি টিয়েলেমান্স দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। তৃতীয় গোলটি করেন মর্গ্যান রজার্স।

 

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এর আগে সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে, ইংলিশ লিগ কাপ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাদের আগের সাফলের গল্প তো আরও পুরনো; সেই ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ওই সময়ের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ক্লাবটি।

উনাই এমেরির ছোঁয়ায় সব খরা এক দিনেই দূর হলো।

 

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই এমেরির দখলে। পঞ্চমবার জিতে সেটাই আরও পোক্ত করলেন এই স্প্যানিয়ার্ড; সেভিয়ার হয়ে টানা তিনবার জয়ের পর, সবশেষ ২০২০-২১ আসরে আবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি ভিয়ারিয়ালের হয়ে।

 

প্রতিযোগিতাটি মোট ছয়বার ফাইনালে উঠে পাঁচবারই সফল এমেরি। কেবল একবার জিততে পারেননি আর্সেনালের ডাগআউটে থেকে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে।

 

স্বপ্ন পূরণের মিশনে নেমে ৪১তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ভিলা। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় দারুণ ক্রস বাড়ান মর্গ্যান রজার্স, ছুটে গিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার টিয়েলেমান্স।

 

এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মাঝেই বিরতির আগমুহূর্তে আরেকটি চমৎকার গোল করেন বুয়েন্দিয়া। ডি-বক্সের বাইরে সতীর্থের পাস পেয়ে, একটু আড়াআড়ি এগিয়ে শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার, বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়।

 

৫৮তম মিনিটে জয়ের পথে আরও এগিয়ে যায় ভিলা। বাঁ দিকে একজনকে কাটিয়ে গোলমুখে পাস দেন বুয়েন্দিয়া, আর সঙ্গে লেগে থাকা একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে ছোট্ট টোকায় বল জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার রজার্স।

 

১২ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো, তবে আমাদু ওনানার হেড পোস্টে বাধা পায়। অবশ্য আরেকটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে গেলেও, লড়াইয়ে ফেরার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি ফ্রেইবুর্ক।

 

গত শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাকা করে ভিলা। দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরল তারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দুই তারকা। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে? ভবিষ্যদ্বাণী করলেন জ্যোতিষী

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই ঘিরে উত্তেজনার শেষ নেই। এরই মধ্যে ম্যাচের ফল নিয়ে সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন প্রখ্যাত ক্রীড়া জ্যোতিষী জর্জিও আরমাস।   তার দাবি, নির্ধারিত ৯০ মিনিট বা অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে না; ফাইনালের টিকিট নির্ধারণ হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে। একই সঙ্গে লিওনেল মেসিকে নিয়েও দিয়েছেন বিশেষ বার্তা।   প্রখ্যাত ক্রীড়া জ্যোতিষী জর্জিও আরমাস দাবি করেছেন, সেমিফাইনালের এই লড়াই নির্ধারিত সময়ে বা অতিরিক্ত সময়েও অমীমাংসিত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শ্যুটআউটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ফাইনালিস্ট।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে আরমাস বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, তার পুরনো একটি ভবিষ্যদ্বাণী ইতোমধ্যেই ফলে গেছে। এখন পুরো মনোযোগ পেনাল্টি শ্যুটআউটের দিকে।   আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘দিবু’ যেন এখন থেকেই পেনাল্টি ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও উভয় দলের শক্তিমত্তা যে প্রায় সমান, সে বিষয়টিই বারবার সামনে আনছেন এই জ্যোতিষী।   ম্যাচ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আরমাস। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক ও চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবেন।   জ্যোতিষীর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তার আগের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো মনে করিয়ে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। আবার অনেকে সম্ভাব্য রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শ্যুটআউটের কথা ভেবে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।   সূত্র: মার্কা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে যেতে মেসিকেই থামাতে হবে ইংল্যান্ডকে

ছবি: সংগৃহীত

হালান্ডের আবেগঘন বার্তা, জানালেন মনের কথা

ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ড ম্যাচে জার্সি বদলাতে চায় আর্জেন্টিনা, কারণ কী?

ছবি: সংগৃহীত
ফেরার সিরিজে নজরকাড়া মোসাদ্দেক, আইসিসির সেরা হওয়ার লড়াইয়ে

প্রায় চার বছর পর ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যান অব দা সিরিজ হয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। চমকপ্রদ সেই পারফরম্যান্সে বড় একটি স্বীকৃতি আদায় করে নিলেন তিনি। আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দা মান্থ’ নির্বাচিত হওয়ার বিবেচনায় আছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।   জুনের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মোসাদ্দেকের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের শুবমান গিল ও নিউ জিল্যান্ডের ন্যাথান স্মিথ। মেয়েদের ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ব্রাইস, ভারতের শ্রী চারানি ও ইংল্যান্ডের ড্যানি ওয়াট-হজ।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচে মোসাদ্দেক রান করেছিলেন ১৫৭। মাত্র এক ম্যাচে আউট হওয়ায় তার গড়ও ছিল ১৫৭, স্ট্রাইক রেট ১১৬.২৯।   ২০০২ সালের অগাস্টের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে গত ৯ জুন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। পরে বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হন।   পরের ম্যাচে তিনি আউট হয়ে যান ১৪ বলে ১৫ রান করে। শেষ ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৫৬ রান করে।   গিল সেরার বিবেচনায় উঠে এসেছে টেস্ট ও ওয়ানডের যৌথ পারফরম্যান্সে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তিনি ১২৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। এরপর ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচের দুটি ব্যাট করে ১৩৫.২২ স্ট্রাইক রেটে রান করেন ২৩৮ (অপরাজিত ৮৪ ও ১৫৪)। দলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তিনিই ছিলেন ম্যান অব দা সিরিজ।   ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা সিরিজ হয়ে এই তালিকায় এসেছেন স্মিথও। পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ জিল্যান্ডের স্মরণীয় সিরিজ জয়ে এই পেসার শিকার করে ১৬ উইকেট। এর মধ্যে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে এক ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।   মেয়েদের ক্রিকেটে স্কটিশ অলরাউন্ডার ব্রাইস দারুণ ফর্মে ছিলেন বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সব মিলিয়ে এই সময়ে সাত ম্যাচে ১৭৮ রান করেন তিনি ১৪০.১৫ স্ট্রাইক রেটে, উইকেট শিকার করেন ১১টি।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করে সেরার লড়াইয়ে এসেছে শ্রী চারানি। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চারটি। এই সময়ে ছয় টি-টোয়েন্টিতে ১৪ উইকেট নেন তিনি ওভারপ্রতি মাত্র ৬.৬৯ রান দিয়ে।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পথে বড় অবদান ছিল ওয়াট-হজের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস।   সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে মাস-সেরা নির্বাচন করা হয়ে থাকে আইসিসির স্বাধীন ভোটিং একাডেমি ও ক্রিকেট অনুসারীদের ভোটে। ভোটিং একাডেমির ভোট বিবেচনায় নেওয়া হয় ৯০ শতাংশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬

কেপ ভার্দে তারকাকে নিলো ব্রাজিলের ক্লাব

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা, বাড়তি নিরাপত্তা

ছবি: সংগৃহীত

শ্বকাপে গোলের সুযোগ নষ্ট, প্রাণনাশের হুমকিতে আত্মগোপনে কলম্বিয়ার ফুটবলার

ছবি: সংগৃহীত
দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পক্ষে-বিপক্ষে যত বিতর্ক

টানা দুই বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে সৌদি আরব, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে মোট পাঁচটি পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের এক আসরে এর আগে কোনো দল এত বেশি পেনাল্টি পায়নি। এবারের বিশ্বকাপেও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।   কাতারে পাঁচ পেনাল্টি পাওয়া থেকে শুরু করে এবার আলজেরিয়া ও মিশরের অভিযোগ, এমনকি সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক। অনেকের প্রশ্ন, ফিফা কী আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে?   আজ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়। ম্যাচে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার পাঁচ মিনিট পর ভিএআরের সহায়তায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ড বাতিল করে ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে হারে।   তবে এসব বিতর্ক থাকলেও, প্রতিটি সিদ্ধান্তই যে ভুল ছিল বা এর মাধ্যমে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং এসব ঘটনাকে ঘিরেই আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিচে দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হলো:   কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে রেকর্ড ৫ পেনাল্টি ২০২২ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে সৌদি আরব, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে মোট পাঁচটি পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের এক আসরে এর আগে কোনো দল এত বেশি পেনাল্টি পায়নি। কয়েকটি সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হলেও প্রায় প্রতিটি পেনাল্টিই ‘সফট কনটাক্ট’ বা রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিল।   সৌদি আরব ম্যাচ: পারেদেসকে ধরে রাখার ঘটনায় পেনাল্টি উদ্বোধনী ম্যাচে কর্নারের সময় সৌদি ডিফেন্ডার সৌদ আবদুল হামিদ বক্সে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ধরে রাখেন। রেফারি প্রথমে ঘটনাটি দেখেননি। পরে ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেন এবং ১০ মিনিটে সেটি থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি।   যোগাযোগ (কন্ট্যাক্ট) থাকলেও বলটি অন্যদিকে যাচ্ছিল এবং সেট-পিসে এ ধরনের ধস্তাধস্তি প্রায়ই একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা যায়। তাই অনেকেই সিদ্ধান্তটিকে অত্যন্ত কঠোর বলে আখ্যা দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়।   পোল্যান্ড ম্যাচ: শেচনির গ্লাভসের স্পর্শে পেনাল্টি পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩৬ মিনিটে গোলরক্ষক ভয়চেখ শেচনি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মেসির মুখে হালকা স্পর্শ করেন। রেফারি ড্যানি ম্যাকেলি প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি দেন। অনেক বিশ্লেষক এটিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ‘সফট’ পেনাল্টিগুলোর একটি বলেন। পরে শেচনি মেসির শট ঠেকিয়ে দেন।   নেদারল্যান্ডস ম্যাচ: আকুনিয়ার পেনাল্টি ও মেসির হ্যান্ডবল মার্কোস আকুনিয়ার ওপর ডেনজেল ডামফ্রিসের চ্যালেঞ্জে রেফারি পেনাল্টি দেন এবং ভিএআরও সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। পাঁচ পেনাল্টির মধ্যে এটি তুলনামূলক কম বিতর্কিত হলেও স্পর্শের মাত্রা ও ঘটনার অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   একই ম্যাচে মেসি ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে বল স্পর্শ করলেও হলুদ কার্ড পাননি। পরে প্রতিবাদের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন। অনেকের মতে, হ্যান্ডবলের জন্যও কার্ড পেলে সেটিই হতো তার দ্বিতীয় হলুদ।   পারেদেসের ট্যাকল ও ডাচ বেঞ্চে বল মারা নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে নাথান আকেকে কঠোর ট্যাকল করার পর পারেদেস রেফারির বাঁশি বাজার পর ডাচ বেঞ্চের দিকে জোরে বল মারেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তিনি মাত্র একটি হলুদ কার্ড পান। অনেকের মতে, তাকে সরাসরি লাল কার্ড অথবা পরপর দুটি হলুদ কার্ড দেওয়া উচিত ছিল।   ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স ম্যাচের বিতর্ক ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের ধাক্কাধাক্কিতে দেওয়া পেনাল্টি নিয়ে মতভেদ ছিল। কেউ বলেন গোলরক্ষক বাধা দিয়েছেন, আবার কেউ বলেন আলভারেজই গোলরক্ষকের সঙ্গে ধাক্কা খান। ভিএআর রিভিউ না হওয়াও বিতর্ক তৈরি করে।   ফাইনালে উসমান দেম্বেলের স্পর্শে আনহেল দি মারিয়ার পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেওয়া পেনাল্টি নিয়মসঙ্গত হলেও ‘সফট’ বলে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে মার্কাস থুরামের ক্ষেত্রে পেনাল্টির বদলে সিমুলেশনের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়।   উল্লেখ্য, ‘সফট পেনাল্টি’ হলো এমন একটি বিতর্কিত পেনাল্টি যা নিয়ম অনুযায়ী সঠিক হলেও, আদতে ফাউলটি খুব সামান্য স্পর্শ বা হালকা প্রকৃতির। ফুটবলে এ ধরনের পেনাল্টি নিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে প্রায়শই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফুটবল খেলার আইন অনুযায়ী যদি কোনো খেলোয়াড় অসতর্ক বা বেপরোয়াভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল করে, তবে রেফারি পেনাল্টি প্রদান করেন। তবে যখন কোনো ফাউল খুব হালকা হয় বা বিপক্ষের খেলোয়াড়ের সামান্য ধাক্কায় বা স্পর্শে পড়ে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করার চেষ্টা করে, তখন তাকে ‘সফট পেনাল্টি’ বলা হয়।   মেসির গোলের সময় বদলি খেলোয়াড় ও মার্তিনেজের আচরণ অতিরিক্ত সময়ে মেসির গোলের সময় আর্জেন্টিনার অন্তত দুই বদলি খেলোয়াড়কে মাঠে ঢুকে উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। পরে আইএফএবি নিয়মে স্পষ্ট করা হয়, খেলায় প্রভাব না ফেললে এমন ঘটনায় গোল বাতিল হবে না।   টাইব্রেকারে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল নিয়েও সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে ফিফা এমন আচরণ নিষিদ্ধ করে।   ২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন বিতর্ক আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আইসা মান্দির পায়ের পেছনে মেসির ‘স্ট্যাম্প’ করার ঘটনায় কোনো কার্ড না দেখানোয় আলজেরিয়া ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে।   অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলের আগে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফাউল ভিএআর পর্যালোচনা না করায় সাবেক ডেনিশ গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল এটিকে স্পষ্ট ভুল বলে মন্তব্য করেন।   কেপ ভার্দের বিপক্ষে দ্রুত ফ্রি-কিক নেওয়ার চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক হয়। যদিও রেফারি বাঁশির নির্দেশ না দিলে দ্রুত খেলা শুরু করা নিয়মসিদ্ধ।   মিশরের বিপক্ষে গোল বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে মোস্তফা জিজোর একটি গোল দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। আক্রমণ শুরুর অনেক আগের একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হওয়ায় মিশর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। তবে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।   সুইজারল্যান্ড ম্যাচ: এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ ৬৭ মিনিটে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার পর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ব্রিল এম্বোলো পারেদেসের ট্যাকলে পড়ে যান। রেফারি প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ পর্যালোচনার সুপারিশ করে। রিপ্লেতে দেখা যায়, ধাক্কা লাগার আগেই এম্বোলো পড়ে যেতে শুরু করেছিলেন। এরপর পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে এম্বোলোকে সিমুলেশনের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় এবং তিনি মাঠ ছাড়েন।   এবারের বিশ্বকাপের আগে আইএফএবি ভিএআরের ক্ষমতা বাড়িয়ে এমন পরিস্থিতিতেও হস্তক্ষেপের সুযোগ দেয়। তবে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন এই সিদ্ধান্তকে ‘বোধগম্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, নতুন নিয়মটি ‘খেলাটিকেই নষ্ট করেছে’। রেমো ফ্রয়লারও প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের আরও অনেক ট্যাকল থাকা সত্ত্বেও কেন এই ঘটনাতেই ভিএআর হস্তক্ষেপ করল।   পরে ১০ জনের দল নিয়ে সুইজারল্যান্ড নিয়মিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের বেশির ভাগ সময় খেললেও ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ এবং পরে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরই কোচকে ছাঁটাই করল সেনেগাল

ছবি: সংগৃহীত

বেঞ্চের শক্তিতে স্বস্তিতে স্কালোনি

এই দলটা কখনোই বিশ্বাস হারায় না: মেসি

0 Comments