জাতীয়

ইউনিসেফের দফতরে বৈঠকে যে আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিশু ও নারীর কল্যাণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, এমন একটি ব্যবস্থা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শিশু ও নারীর কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।

 

তথ্য অধিদফতর জানায়, শুক্রবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দফতরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। এরপরও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভাবস্থা, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা এবং বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে।

 

বৈঠকে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশলের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করা হবে।

 

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকেও তিনি স্বাগত জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই তারিখ নির্ধারণ করেছি বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাবলিগের মাওলানা সাদপন্থিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ কথা বলেন তিনি।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে এক বছর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। আজকে দুই অংশের একটি পক্ষ (মওলানা সাদপন্থি) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে বেশ কিছুদিন আগে জুবায়েরপন্থি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদেরকেও বলেছিলাম আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলব। মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা চাই যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব। যেহেতু আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেইনি, এর বেশি এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না।  তিনি বলেন, জুবায়েরপন্থিদের দাবি প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব তারা করতে চান। আর সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে রমজানের আগে এবং ওই দুই পর্বের পরে এর মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে প্রস্তাবিত এই দুই পর্ব শুরুর আগেই সাদপন্থিরা ইজতেমা করতে চান।  জুবায়ের অংশের প্রস্তাব দিয়েছিল সাদপন্থিরা যেন অন্য কোথাও ইজতেমা করে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরাও বলেছিলাম আমার এতে যা সহযোগিতা করার করব। কিন্তু এতে মাওলানা সাদের অনুসারীরা সম্মত হননি। আমরা দুই পক্ষকেই একত্রে ইজতেমা করার আহ্বান জানিয়েছি। মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ধর্ম অনুসারে ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে সেই হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ভিসানীতি অনুসারে দেখা হবে। এ বিষয়ে এখন আমরা চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। ভিসানীতি অনুসারে যেভাবে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় সেভাবে নেবে, তারপরে দেখা যাবে, বলেন তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বতসোয়ানার নাগরিক লেসেদি মোলাপিসি। ছবি: সাহারা রিপোর্টার্সের সৌজন্যে

বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বতসোয়ানার নাগরিককে মুক্তি দিল ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় প্রসাধনীর বাজার ছাড়াল এক বিলিয়ন ডলার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভূমিকম্প আসার আগেই প্রস্তুত হতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি: প্রধানমন্ত্রী

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব আয়োজন শান্তিতে স্বস্তিতে নিরাপদে পালন করুন।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, এসব পরিচয় কোনও মুখ্য বিষয় নয়। অতএব সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি।”    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। সনাতন ধর্মমতে, হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রী-কৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর এবং দুষ্টপ্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন-ই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।    “বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরুপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।”    তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যালঘু’। সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, এসব পরিচয় কোনও মুখ্য বিষয় নয়। অতএব সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি।”    তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র এবং সমাজে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে করতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। আমাদের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।”     প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ একে ওপরের সঙ্গে মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম এবং সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুটু রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব।”    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি। দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। দেশে কোনও রকমের সাম্প্রদায়িক উসকানি কিংবা বিদ্বেষ যেন আমাদের সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে আমি সজাগ দৃষ্টি রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানাই। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।”    তিনি আরও বলেন, “সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।”     প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায়, যে রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে। এভাবেই ‘রাষ্ট্র -সরকার এবং নাগরিক’দের মধ্যকার পারস্পরিক ‘দায়িত্ব-আস্থা এবং আলাপের’ মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সবার কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।    “এই দেশ আপনার আমার— আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।”    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সব উৎসব আয়োজন শান্তিতে স্বস্তিতে নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারও জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

ইস্টার্ন রিফাইনারির ২য় ইউনিটের চুক্তি স্বাক্ষর আজ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

নোয়াখালী বিভাগ দাবি, ডেপুটি স্পিকার বললেন,‘চাঁদেও নোয়াখালীর লোক আছে’

তৈরি পোশাক রফতানি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পলাতক শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ ৩০ জনকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।   এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় হাজির করা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।   এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।   অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। প্রসিকিউশন বলছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জন্মাষ্টমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বিএনপির ৩৪ বছরের রাজনীতি ও কারাবাসের স্মৃতিচারণ স্পিকার হাফিজের

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআই

0 Comments