আন্তর্জাতিক

ইরানের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই: পেজেশকিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনোভাবেই আলোচনা বা সমঝোতা করা হবে না।


পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিই দেশটিকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে।

তার ভাষায়, যদি ইরান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করত, তাহলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করত।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল ভিত্তি, তাই এ বিষয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে না।

তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, তাদের দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে জনতার পিটুনিতে এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। দেশটির ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।   গত জুন থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়।   নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের কেউ কেউ বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে কয়েকটি দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।   সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।   দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সঙ্গে নতুন জোটে কানাডা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২, আহত ৮

ছবি: সংগৃহীত
ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছে ফিরে গেল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান

সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। গত সোমবারের এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমানগুলো ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার পর সেগুলো ফিরে যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ইসরায়েল আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানগুলো ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।   তবে এ ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, ইসরায়েল আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। এরপর সেই ঘটনাকে পাল্টা হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারত। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কোনো গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি।   ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অনীহা এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এ তৎপরতা এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের আন্দোলনে ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান, যেভাবে হলো এর উৎপত্তি

ছবি: সংগৃহীত

সামরিক সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার পাকিস্তান-মালদ্বীপের

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কাছে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক আল-আখবারিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য মেনে না নেওয়া। তার মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মূল সমস্যার অজুহাত মাত্র।   আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান মেনে নিতে চায় না, যেখানে মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করা হবে এবং দেশটির ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এ কারণেই পরমাণু ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   আলোচনা নিয়ে অবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর আগে তিন দফা আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে।   গত বছরের জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, দুই দফা হামলার সময়ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এ ছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, যা পরে যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’      তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া ঠেকাতে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রেখেছে বলে জানান তিনি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সম্মত শর্তের ভিত্তিতে নৌপথটি পুনরায় চালু করার পর চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা হতে পারে।   আরাগচি বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ যাতে পুরোপুরি ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করছে অপর পক্ষের ওপর। আলোচনায় হওয়া সমঝোতাগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে চললেই কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবারও চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি, আবেদন করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের ১৩৭ ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের পরিবারেও, বাবাকে সতর্ক করেছিলেন ছেলে

0 Comments