আন্তর্জাতিক

ইরানের প্রস্তাব গ্রহণে ট্রাম্পের প্রতি আরব নেতাদের আহ্বান

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬
এআই দিয়ে নির্মিত ছবি
এআই দিয়ে নির্মিত ছবি

চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা। শনিবার বিকেলে ট্রাম্পের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তারা এই আহ্বান জানান। একই সময়ে তেহরানে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। আঞ্চলিক এই নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।

হোয়াইট হাউস ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছে। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আরব ও উপসাগরীয় নেতাদের আলাপচারিতা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে যে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছেন, আঞ্চলিক নেতারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এই শান্তি প্রচেষ্টায় তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে ‘ফিফটি-ফিফটি’ বললেন ট্রাম্প

এদিকে নেতাদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের আগে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে ‘ফিফটি-ফিফটি’ বা ৫০/৫০ বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি রবিবারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ কড়া ভাষায় বলেন, এই আলোচনা হয় একটি ‘ভালো’ চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একদম ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত করার পথ বেছে নেবে।

পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা

শনিবার সকালের দিকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের তেহরান সফরের পর দুই পক্ষ যুদ্ধ বন্ধের একটি খসড়া রূপরেখার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত এবং স্থায়ী চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যেই আপাতত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এ বিষয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আজ বা আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।

ইসরায়েলের ‘সতর্ক দৃষ্টি’ ও নেতানিয়াহুর ‘উদ্বেগ’

শনিবার ট্রাম্পের এই বিশেষ বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা তথা অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গেও এই প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে শনিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের জরুরি তৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ। এই পুরো প্রক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখছে ইসরায়েলও। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা বলার কথা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগ হলো, এই সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি যদি কেবল যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা তেল আবিবের জন্য বিপজ্জনক হবে। কারণ, এই খসড়ায় ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়— অর্থাৎ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যেতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে এই ইউরেনিয়াম ইস্যুতে বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নেতানিয়াহু শনিবার রাতে তার সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

ট্রাম্পকে দুই রিপাবলিকান সিনেটরের ‘সতর্কবার্তা’

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টর ইরানবিরোধী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং রজার উইকার ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান যদি এই অঞ্চলের জলপথ বা হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে আধিপত্য বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি অবকাঠামোকে জিম্মি করার সক্ষমতা বজায় রাখে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকারও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামপন্থী ইরানি সরকারের সঙ্গে যেকোনো দুর্বল চুক্তি ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

হরমুজ নিয়ে ইরানের হুংকার

অন্যপক্ষে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তারা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার জানান, এই খসড়া প্রস্তাবের মূল ফোকাস হলো- যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে এই পর্যায়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি ও ব্যবস্থাপনা ইরান, ওমান এবং এই অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে হওয়া উচিত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই।

আলোচনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের দুই দিনের তেহরান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনা একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথ তৈরি করেছে। তবে চুক্তি হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় কাটছে না। ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অত্যন্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরান তার জাতীয় অধিকার থেকে একচুলও নড়বে না। তিনি মার্কিন প্রশাসনকে অবিশ্বস্ত আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন, ট্রাম্প যদি আবারও যুদ্ধ শুরু করার ভুল করেন, তবে মার্কিন বাহিনীর জন্য এবারকার পরিণতি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও তিক্ত।

সূত্র: সিএনএন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।   এরমধ্যে রাজধানী কিয়েভে মিসাইল হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র।   কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিক জানিয়েছেন, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তারা। এরমধ্যে প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি হয়।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া নতুন করে রাতভর ১২০টি ড্রোন ও ১২টি মিসাইল ছুড়েছে। যারমধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল।   ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোন ও ছয়টি মিসাইল ভূপাতিত করতে সমর্থ হয়। তবে ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেছেন, সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার আগেই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো বেসামরিক অবকাঠামোতে আছড়ে পড়ে।   রাজধানী কিয়েভে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, অফিস ও একটি ধর্মীয় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি।   দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সামি শহরের মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে আকাশ থেকে ছোড়া বোমা হামলায় এক মেয়ে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ওডেশাতে মিসাইলের আঘাতে প্রাণ গেছে দুজনের।   সূত্র: এএফপি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে ভুয়া স্মোক ডিটেক্টরের ছবি বানিয়ে ধরা খেলেন বাড়িওয়ালা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন চাপে লেবাননে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইসরাইল

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের পর এবার মিশরেও ‘সমকামী’ যাত্রী বহনকারী জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
জন্মহার বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার হ্রাস এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা আর্থিক প্রণোদনা, ছুটি ও আবাসন সুবিধা চালু করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবার ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে উৎসাহিত করতে শতাব্দীপ্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ডেটিং রিট্রিট’।   দেশটির পালগংসান পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রায় এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো ডংহওয়াসা মন্দিরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা শুধু জীবনসঙ্গীই নয়, নতুন বন্ধু ও আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পাচ্ছেন।   দেশ বাঁচাতে সঙ্গী খুঁজুন অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও এখানে এসেছেন।   তার ভাষায়, “আপনাদের লক্ষ্য শুধু একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নয়, ভবিষ্যতে পরিবার গঠন করে দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা।”   ডংহওয়াসা মন্দিরের আয়োজক ইউ চোল-জু বলেন, অতীতে বিদেশি আগ্রাসনের সময় যেমন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি এখন জন্মহার কমে যাওয়াও একটি জাতীয় সংকট। তাই এ সমস্যার সমাধানে তারাও ভূমিকা রাখতে চান।   ভয়াবহভাবে কমছে জন্মহার বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া।   ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসে ০.৭২-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে।   বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান পালনের উচ্চ খরচ, নারীদের কর্মজীবনে অগ্রাধিকার এবং বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন- সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে প্রেম ও সামাজিক মেলামেশার প্রবণতাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে সুযোগ ডেটিং রিট্রিটে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আবেদনকারীদের প্রশ্নপত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা যাচাই করা হয়।   এবারের আয়োজনে অংশ নিতে এক হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন তরুণ-তরুণী।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   ব্যস্ত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যার বৌদ্ধ নাম ‘সুনহিয়েজি’, বলেন, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর তার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।   তিনি বলেন, “অফিস আর বাসা- এই দুই জায়গার মধ্যেই জীবন সীমাবদ্ধ। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই নেই।”   ৩০ বছর বয়সী কোয়ন সেউং-ওহ, যিনি এনিও নামে পরিচিত, জানান, বন্ধুদের উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ব্লাইন্ড ডেট’-এ অংশ নিলেও কোনও সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি।   তার কর্মস্থলে প্রায় ৯৭ শতাংশ সহকর্মীই পুরুষ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন নারীসঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।   দিনভর পরিচয়, আড্ডা আর নানা আয়োজন ৩০ ঘণ্টার এই রিট্রিটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিচয়পর্ব, জুটি বেঁধে হাঁটা, মধ্যাহ্নভোজ, দ্রুতগতির ‘স্পিড ডেটিং’, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দলীয় নানা কার্যক্রম।   প্রথম পরিচয়পর্বেই এনিও নিজের হাতে তৈরি ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করে উপস্থিতদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন।   অন্যদিকে সুনহিয়েজির প্রথম সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মিনহো বেছে নেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে।   দিনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশা, শখ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।   সবচেয়ে বিব্রতকর পর্ব দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর কিন্তু সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন ছিল ট্যালেন্ট শো।   কেউ জনপ্রিয় কে-পপ গানের সঙ্গে নাচেন, কেউ গান গেয়ে শোনান, কেউ আবার স্প্যানিশ ভাষায় নিজের পরিচয় দেন।   এক নারী অংশগ্রহণকারী বাঁশিতে কে-পপের জনপ্রিয় একটি সুর পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন।   সরকারও করছে উৎসাহ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে ও সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।   দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সরকার।   এছাড়া স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিয়মিত ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করছে। কোথাও কাঠের কাজ শেখানোর কর্মশালা, কোথাও নদীর তীরে সঙ্গীতানুষ্ঠান-সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা।   ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় জন্মহার কমতে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।   এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ০.৮ হার থেকে কিছুটা বেশি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সরকারি উদ্যোগের ফল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।   সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অবিবাহিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।     শেষ পর্যন্ত কী হলো? রিট্রিট শেষে মোট আটটি নতুন জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি সম্পর্ক তৈরি হয় অনুষ্ঠানের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।   যারা সঙ্গী খুঁজে পাননি, তারাও হতাশ হয়ে ফেরেননি।   এনিও জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও এই আয়োজনে অংশ নেবেন।   অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি জীবনসঙ্গী না পেলেও অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছেন। রাত তিনটা পর্যন্ত সহঅংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন এবং ইতোমধ্যে একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনাও করেছেন।   আয়োজকদের মতে, সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে ফেরেন না, কিন্তু প্রায় প্রত্যেকেই নতুন বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশাবাদ নিয়ে মন্দির ছাড়েন।    সূত্র: বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিয়েতনামের ফু কুওক দ্বীপে নৌকাডুবি, নিহত ১৫ ভারতীয় পর্যটক

ছবি: সংগৃহীত

স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত, নতুন প্রশ্ন চুক্তি মানা নিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

২০২৮ সালের মধ্যে সুদমুক্ত ব্যাংকিংয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, বিদেশি ব্যাংকের জন্য থাকছে বিশেষ ছাড়

সংগৃহীত ছবি
রুশ ড্রোন ও বোমা হামলায় কাঁপছে জাপোরিঝঝিয়া

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়াতে রাশিয়ার হামলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামনের যুদ্ধরেখা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটিতে এখন নিয়মিতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে স্কুল, সরকারি অফিস, গণপরিবহন, জ্বালানি স্টেশন ও আবাসিক ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে এবং প্রতিটি দিন এখন আতঙ্কের মধ্যেই কাটছে।   ভোর পাঁচটার দিকে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কোর ঘুম ভাঙে রুশ বাহিনীর গ্লাইড বোমার বিস্ফোরণের শব্দে। শহরের উপকণ্ঠে একের পর এক বোমা আঘাত হানার পর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হয় ড্রোন হামলার নতুন দফা। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চালালেও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে।   আন্না জানান, এরপর আর ঘুমানোর সুযোগ ছিল না। তিনি কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিছুক্ষণ পর একটি ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন তার কর্মস্থলের কাছেই বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি ড্রোন বিদ্যুতের তারে আঘাত করলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   তার ভাষায়, “জাপোরিঝঝিয়ায় এখন এটাই স্বাভাবিক একটি দিনের চিত্র।”   স্কুল, বাস ও সরকারি ভবনেও হামলা গত কয়েক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন স্কুল, সরকারি অফিস, জ্বালানি স্টেশন, গণপরিবহনের বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বহু আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। জাপোরিঝঝিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো জানান, একদিনের তীব্র হামলার সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে নিজের বাসার বাথরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক মানুষ, পৌর পরিবহন, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস, আবাসিক ভবন, এমনকি শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।”   ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বৈঠক ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে জাপোরিঝঝিয়া সিটি কাউন্সিলকে সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বৈঠক করতে হয়েছে। সেখানে শহরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন প্রতিরোধী জাল বসানো এবং স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি ভবনের জানালায় বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী বিশেষ সুরক্ষা ফিল্ম লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়র খারচেঙ্কো বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবেও খুব ভয় পাই। রাতে অনেক সময় নিজের অ্যাপার্টমেন্টের করিডরের মেঝেতে ঘুমাই। আমি সাধারণ একজন মানুষ, আমার ব্যক্তিগত কোনও বাঙ্কার বা দেহরক্ষী নেই।”   যুদ্ধরেখা দূরে সরলেও বেড়েছে হামলা ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকায় রুশ সেনাদের শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পিছিয়ে দিতে সক্ষম হলেও হামলা কমেনি; বরং বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো এখন রাশিয়া ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করছে, যা আগে এত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট-এর সামরিক বিশ্লেষক স্যাম ক্র্যানি-ইভানস জানান, রুশ বাহিনী এখন দীর্ঘপাল্লার ‘মাদারশিপ’ ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো বহন করে নিয়ে যায় একাধিক ছোট ড্রোন। পরে সেগুলো আলাদা হয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এখন ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। এতে একটি ড্রোন অন্য ড্রোনের মাধ্যমে রেডিও সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে, ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়ানো সহজ হয় এবং অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার একটি অংশ অন্য ফ্রন্টে সরিয়ে নেওয়াও জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।   এক সপ্তাহেই ভূপাতিত ৮৮৪ ড্রোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার ৮৮৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও দক্ষিণাঞ্চলে রুশ বাহিনী কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবু ইউক্রেনের অন্য কয়েকটি ফ্রন্টে তারা ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং দখলকৃত অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রা কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। শহর ছাড়তে নারাজ অনেকেই প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও জাপোরিঝঝিয়ার কয়েক লাখ মানুষ এখনো শহর ছেড়ে যাননি। বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কো বলেন, “আমাদের খাবার আছে, জ্বালানি আছে। তাহলে কেন চলে যাব? হয়তো আমি সহজে ভয় পাই না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, শহর ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা মাঝে মাঝে মাথায় আসে। তারপরও তিনি চান না, জাপোরিঝঝিয়াও ইউক্রেনের অন্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোর কাতারে নাম লেখাক। তার কথায়, “আমরা শুধু নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছি। বিজয় না আসা পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, তাই করছি।”  সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য সুখবর সৌদি আরবের

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কাতারের আহ্বান

সংগৃহীত ছবি

হামলা-পাল্টা হামলার উত্তেজনায় টিকবে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি উদ্যোগ?

0 Comments