ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মচারী ছিলেন।
নিহতরা হলেন উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মন্ডলের বড় ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজ করে কষ্টে পরিবারের খরচ চালাতেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ চার বছরেও পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একইদিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি।
একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলুও প্রায় দেড় বছর আগে কর্মসংস্থানের আশায় ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারেননি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, রোববার বিকালেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সোমবার ভোরে ইরাক থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না। ঝড়ে ঘরটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দেশে আনার অনুরোধ জানাই।
বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের (জেটিকেএসএম) সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল অব লেবারের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে বিলম্ব, বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ে জটিলতা এবং শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়। সভায় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী সময়মত ভিসা নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। এ কারণে নিয়োগকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র নবায়নে যাতে অযথা বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে লেবার ডিপার্টমেন্টের কার্যকর নজরদারি কামনা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া রাখার অভিযোগও সভায় উত্থাপন করা হয়। হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবাসী কর্মীরা পরিবারের স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মত পরিশোধ নিশ্চিত করা মানবিক ও আইনি দায়িত্ব। সভায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তাদের পরিবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান না বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এদিকে শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছোটখাটো বিরোধ দীর্ঘসূত্রতায় গড়ালে তা শ্রমিকদের জীবন ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত সমাধান ও কার্যকর মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সভায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্ট আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতেও ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্টের এ সমন্বিত উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত বৈঠক ও কার্যকর সমন্বয় অব্যাহত থাকলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ আরও সুগম হবে।
মালদ্বীপে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে অসুস্থ প্রবাসী কর্মী কামাল হোসেনকে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট প্রদান করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম প্রবাসী কামাল হোসেনের হাতে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিমানের টিকিট হস্তান্তর করেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের সান্নিধ্যে প্রয়োজনীয় সেবাযত্ন নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’-এর কল্যাণ তহবিল থেকে তার বিমানের টিকিটের ব্যয় বহন করা হয়েছে। এ সহায়তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকারের মানবিক উদ্যোগেরই অংশ বলে উল্লেখ করা হয়। টিকিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যে-কোনো মানবিক, স্বাস্থ্যগত ও কল্যাণমূলক সহযোগিতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বদা পাশে রয়েছে। প্রবাসীদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ আমজাদ আলী উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসীদের যে-কোনো সংকট ও মানবিক পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশন আবারও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার পরিচয় দিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। কৌশলগত খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে কুয়েতকে প্রতীকীভাবে খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তরের মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। রোববার (২৫ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সফররত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর কাছে খাদ্য সহায়তার প্রতীকী চালান হস্তান্তর করেন। সরকার জানিয়েছে, এটি একটি বৃহত্তর মানবিক সহায়তা উদ্যোগের অংশ। এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী একাধিক ফ্লাইটে ধাপে ধাপে কুয়েতে পাঠানো হবে। চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে কুয়েতের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সহায়তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ বরাবর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা পত্রও হস্তান্তর করেন। এতে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়। সংকটময় এই সময়ে কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের এই সহায়তা দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।