খেলা

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান প্যাট কামিন্সের

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। খেলা চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের মধ্যে তিনিই প্রথম, যিনি প্রকাশ্যে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।

 

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। সেই উদ্যোগের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন কামিন্সও।

 

অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ওই চিঠি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর আগে পাকিস্তানে ইমরানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সে সময় ইমরান শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে চ্যাপেল উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইমরানের ডান চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

চ্যাপেল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় একাকিত্বের মধ্যে থাকা যে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না এবং দীর্ঘদিনের এমন পরিস্থিতি তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

চ্যাপেলের বক্তব্যের সেই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে নিজের অবস্থান জানান প্যাট কামিন্স। তিনি লেখেন, গ্রেগ চ্যাপেলসহ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের উদ্যোগের প্রতি তিনিও সমর্থন জানাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান যেন যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত থাকে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

কামিন্স আরও বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে যেন মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়। তার মতে, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান প্যাট কামিন্সের

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। খেলা চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের মধ্যে তিনিই প্রথম, যিনি প্রকাশ্যে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।   ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। সেই উদ্যোগের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন কামিন্সও।   অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ওই চিঠি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর আগে পাকিস্তানে ইমরানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সে সময় ইমরান শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে চ্যাপেল উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইমরানের ডান চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।   চ্যাপেল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় একাকিত্বের মধ্যে থাকা যে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না এবং দীর্ঘদিনের এমন পরিস্থিতি তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   চ্যাপেলের বক্তব্যের সেই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে নিজের অবস্থান জানান প্যাট কামিন্স। তিনি লেখেন, গ্রেগ চ্যাপেলসহ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের উদ্যোগের প্রতি তিনিও সমর্থন জানাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান যেন যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত থাকে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।   কামিন্স আরও বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে যেন মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়। তার মতে, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

ছবি : রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা শেষে রিংয়ে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার মাঝেই গুলিতে নিহত তেতে

ছবি: সংগৃহীত

আরেক কীর্তি গড়ে রোনালদো, ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা এখন ৯৭৭

ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে কাটল অচলাবস্থা

এশিয়ান গেমসকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের হস্তক্ষেপে নতুন ঘোষিত অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে।   বৃহস্পতিবার সেনাসদরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগের কমিটির কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নতুন অ্যাডহক কমিটির ২৩ জন কর্মকর্তাকে এশিয়ান গেমসে পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়। ফলে ১১টি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়েছে।   বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, “যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধান এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর সহযোগিতায় অবশেষে সংকটের সমাধান হয়েছে। আগের কমিটির পরিবর্তে আমাদের নামে অ্যাক্রিডিটেশন হবে বলে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন।”   তিনি আরও জানান, সেনাপ্রধান অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) এক কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং সেখান থেকেই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। সেই অনুযায়ী ১১টি ফেডারেশনের ২৩ কর্মকর্তার নাম রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে পাঠানো হচ্ছে।   এদিকে, সমাধানের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। তিনি বলেন, “অবশেষে আমাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই। সভাপতি মহোদয় নিজেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে সমাধান করেছেন। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি খেলোয়াড়ও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।”   বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, “সভাপতি মহোদয়ের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তিনি ওসিএর সম্পাদক পর্যায়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই আমরা নতুন করে রিপ্লেসমেন্টের জন্য নাম পাঠাচ্ছি। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।”   সেনাসদরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিওএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ১১টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
জো রুট। সংগৃহীত ছবি

টেন্ডুলকারের রেকর্ড ছুঁলেন রুট

শ্রীলঙ্কা সিরিজেই আগরকরের ভাগ্য নির্ধারণ, নতুন প্রধান নির্বাচকের দৌড়ে জহির

বাবা হারানো মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
জুনিয়র এশিয়া কাপ সামনে রেখে অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলকে উপহার

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলমান অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় হকি দলের আবাসিক ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত নারী ও পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও ক্লান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন রকমের উচ্চমানের পুষ্টিকর খাবার সামগ্রী পাঠিয়েছেন।       আসন্ন জুনিয়র এশিয়া কাপের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে বর্তমানে বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলের এই কন্ডিশনিং ও স্কিল আবাসিক ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই ক্যাম্পে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং তাদের অনুশীলনে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এই উপহার সামগ্রীগুলো প্রেরণ করেন।       খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের উপযোগী সুষম খাবার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—কর্নফ্লেক্স, ওটস, প্রিমিয়াম মারিয়াম খেজুর, এনার্জি বুস্টার হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মিক্সড নাট এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করতে বিভিন্ন পুষ্টিকর চকোলেট বার।       এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাই আমাদের দেশের হকির ভবিষ্যৎ রূপকার। বিকেএসপির ক্যাম্পে এই তীব্র গরমে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতাকে আমি জানাই সাধুবাদ। ফেডারেশনের নিয়মিত সুযোগ-সুবিধার বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের পাশে থাকা এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা আমি আমার দায়িত্ব মনে করি। আশা করি, এই পুষ্টিকর খাবারগুলো তাদের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং অনুশীলনে আরো বেশি মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে।       এ সময় ক্যাম্পে উপস্থিত খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা সাধারণ সম্পাদকের এই আন্তরিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন সরাসরি সমর্থন, ভালোবাসা ও পুষ্টি সহায়তা মাঠের পারফরম্যান্সকে আরো উন্নত করতে এবং আসন্ন টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬

অবশেষে দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে বিয়ে করলেন রোনালদো

রাসেল মাহমুদ জিমি। ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ান গেমস হকির দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ জিমি, ২৪ সদস্যের দল ঘোষণা

রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। ছবি: এএফপি

ক্রিকেটের বোলিং ছাড়ার সাত বছরেই জ্যাভলিনে ঐতিহাসিক স্বর্ণ জয়

0 Comments