জাতীয়

ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ অবকাশ, শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে টানা ১৬ থেকে ২৩ দিনের ছুটি

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোতে এই ছুটি কার্যকর হবে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ছুটি শুরুর তারিখ ২৪ মে হলেও ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাস শেষে দীর্ঘ ছুটিতে যেতে পারবে।

 

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে ৭ জুন থেকে ক্লাস শুরু হবে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের অবকাশ উপভোগ করবে।

 

অন্যদিকে দেশের আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতে ছুটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ছুটি থাকবে। ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছে।

 

শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুনের পর জুলাই ও আগস্ট মাসেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

 

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যেও ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মের তীব্রতা এবং ঈদুল আজহার ছুটি সমন্বয় করেই প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য এই দীর্ঘ অবকাশ নির্ধারণ করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সুফিসাধকের আস্তানা থেকে আজকের বঙ্গভবন

বর্তমানে বঙ্গভবন যে জায়গায় অবস্থিত, সুলতানি আমলে জায়গাটি ছিল ঢাকার সুফিসাধক হযরত শাহজালাল দাখিনির। কথিত আছে, সুলতানের চরদের হাতে সুফিসাধক ও তার অনুসারীরা নিহত হন।   এরপর তাদের এখানে কবর দেওয়া হয়। পরে স্থানটি মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে। মুঘল শাসনের শেষের দিকে সম্ভবত এলাকাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।   জনশ্রুতি আছে, ব্রিটিশ রাজত্বের সময় আর্মেনীয় জমিদার মানুক এখানে বসবাস শুরু করেন এবং নিজের নামানুসারে এর নামকরণ করেন।   ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি মানুকের কাছ থেকে স্থানটি কিনে নেন এবং এখানে একটি বাংলো তৈরি করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘দিলখুশা’।   ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকার এ স্থানটি কিনে নেয় এবং একটি প্রাসাদসদৃশ বাড়ি তৈরি করে। এটি ১৯১১ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেলের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটি বাংলার গভর্নরের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।   ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম হলে প্রাসাদটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসভবনে পরিণত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি গভর্নর হাউসের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভবন’ করা হয়। ওই দিনই আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হন এবং বঙ্গভবনকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলেও ভবনটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় নতুন চার মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

ছবি: সংগৃহীত
গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ রুটে আসছে মেট্রো

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো একটি বড় মেট্রো রেল রুট। রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তের গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো রেল চালুর বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।   প্রস্তাবিত এই রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০.৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২.৯০ কিলোমিটার হবে এলিভেটেড আর ৭.৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।   কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০৩৬ সালের ডিসেম্বর। অর্থাৎ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১০ বছর সময় লাগতে পারে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।   প্রস্তাবিত মেট্রো রেলটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বছিলা, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার ও মিটফোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাবে।   এরপর নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরিপাড়া, সারুলিয়া ও সাইনবোর্ড হয়ে রুটটি নারায়ণগঞ্জের দিকে এগোবে। পথে ভুইগড়, জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।   এই রুট চালু হলে রাজধানীর পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সরাসরি মেট্রো রেল যোগাযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, পুরান ঢাকা, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়া করা বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি আনতে পারে।   ব্যয় ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা প্রকল্পের প্রাথমিক হিসাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। আর প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ বিদেশি ঋণ বা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প সহায়তা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে যেকোনো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে বিবেচনা করা হবে। তবে এখনই প্রকল্পের ব্যয় চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।   বেশির ভাগ পথ এলিভেটেড প্রস্তাবিত ৩০.৪ কিলোমিটার মেট্রো রেল রুটের বেশির ভাগই উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২২.৯০ কিলোমিটার থাকবে মাটির ওপরে। আর ৭.৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ। পাশাপাশি ডেমরা ও মাতুয়াইল মৌজায় প্রায় ১৬৩.৮৬৬ একর জমিতে মেট্রো রেলের ডিপো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।   মেট্রো রেলের প্রযুক্তি ও সংকেতব্যবস্থা বাংলাদেশের বর্তমানে চালু থাকা মেট্রো রেল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই ধরনের মেট্রো রেল কোচ ভবিষ্যতে একে অন্যের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়—এমন ব্যবস্থাও রাখার কথা বলা হয়েছে।   আগে ছিল গাবতলী-ডেমরা এমআরটি লাইন-২ নিয়ে এর আগে গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত রুটের পরিকল্পনা ছিল। পরে রাজধানীর হালনাগাদ পরিবহন পরিকল্পনায় নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই এখন গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রুট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   সরকারি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সময় দুটি রুট পরীক্ষা করা হবে। একটি হলো গাবতলী-ডেমরা এবং অন্যটি গাবতলী-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ। অর্থাৎ সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত রুটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   দিনে যাত্রী হতে পারে ১৪ লাখ রাজধানীর ভবিষ্যৎ পরিবহন চাহিদার কথা বিবেচনা করে এমআরটি লাইন-২-কে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়েছে। হালনাগাদ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় এটি মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।   পরিবহন পরিকল্পনার ২০৪৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, উন্নয়নের ধরনভেদে এমআরটি লাইন-২ দিয়ে দিনে ১০ লাখের বেশি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। সর্বোচ্চ পরিবহন চাহিদার পরিস্থিতিতে এই রুটে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার যাত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।   এ কারণে ভবিষ্যতে রাজধানীর গণপরিবহনে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেট্রো রেলের মাধ্যমে দ্রুত, নিরাপদ, সময়সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   আগে হবে সমীক্ষা মেট্রো রেল নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশার কাজ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজও করা হবে। এসব কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।   সমীক্ষা তদারকির জন্য ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মেট্রো রেল সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকৌশল বিষয়ে ডিএমটিসিএলের প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে।   এদিকে প্রকল্পে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্থানীয় ও দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজের প্যাকেজ এমনভাবে করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় ঠিকাদাররাও অংশ নিতে পারেন। এতে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।   যানজট কমানোর বড় সুযোগ রাজধানীর সবচেয়ে বড় সমস্যা দীর্ঘ যানজট। প্রতিদিন রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়। এর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজধানীতে আসা মানুষের দীর্ঘ যাত্রাও যুক্ত হয়। এমন বাস্তবতায় গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো রেল চালু হলে সড়কনির্ভর যাতায়াতের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।   বিশেষ করে পুরান ঢাকা, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের সময় বাঁচবে। বিদ্যুত্চালিত মেট্রো রেল হওয়ায় পরিবেশের ওপর চাপও তুলনামূলকভাবে কম রাখার লক্ষ্য রয়েছে।   তবে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। এটি বর্তমানে প্রকল্প প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের পরই প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সমীক্ষায় রুটের বিকল্পগুলোও যাচাই করা হবে।   পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত তৈরি হবে রাজধানীর একটি দীর্ঘ মেট্রো রেল করিডর। রাজধানীর পশ্চিম থেকে পুরান ঢাকা হয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জকে একই দ্রুতগতির গণপরিবহনব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের মানুষের যাতায়াতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন।   বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, ‘প্রস্তাবিত মেট্রো রেল প্রকল্পটি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সময়ে আরো একটি ব্যয়বহুল মেট্রো রেল প্রকল্প নেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া দরকার।’  

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে ডিজাবের শুভেচ্ছা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন পেলেন মির্জা ফখরুল

রাজপরিবার থেকে রাজনীতিতে, এবার মন্ত্রী হলেন সাচিং প্রু জেরী

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের পর চেয়ার ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রায় এক মাস তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বের অবসান ঘটে। ওই দিন দুপুরে বঙ্গভবনে শেষ কর্মদিবসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন। বিদায়ের আগে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ সনাতন পার্টির

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের হাত কামড়ে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি, ১০ ঘণ্টা পর ফের আটক

ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি

0 Comments