প্রবাসী

হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে আমিরাতে ১৫ জুন সরকারি ছুটি ঘোষণা

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী ১৫ জুন (সোমবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, হিজরি নববর্ষের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে দেশজুড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

 

সোমবার ছুটি হওয়ায় যেসব কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার ও রোববার, তারা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, শারজাহে চার দিনের কর্মসপ্তাহ অনুসরণকারী সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা শুক্রবার, শনিবার ও রোববারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সোমবারের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিনের ছুটি ভোগ করবেন।

 

ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মহররম মাসের প্রথম দিন থেকে নতুন হিজরি বছরের সূচনা হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ইসলামী নববর্ষ নির্ধারিত হলেও আমিরাত সরকার ইতোমধ্যে ১৫ জুনকে হিজরি নববর্ষের সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 

এ উপলক্ষে দুবাই সরকারি মানবসম্পদ বিভাগ দেশটির নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অব্যাহত উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, হিজরি বা ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় এর মাস ও বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রতি বছর কিছুটা এগিয়ে আসে। মহররম মাসের প্রথম দিনকে ইসলামী নতুন বছরের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুরা যেভাবে হয়ে উঠছে দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

গ্লাসগোর আকাশে শীতের মেঘ ভেসে বেড়ায়। তখন ছোট্ট অদ্রি হোসাইনের পৃথিবীটা দুই রঙে আঁকা থাকে। একদিকে তার স্কুল, খেলার মাঠ, ইংরেজি ভাষায় বন্ধুত্ব আর স্কটিশ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।     অন্যদিকে ঘরের দরজা পেরোলেই বদলে যায় সেই পৃথিবী। সেখানে মায়ের মুখে বাংলা গল্প, বাবার কণ্ঠে বাংলাদেশের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলা আর শিকড়ের সঙ্গে এক অদৃশ্য সম্পর্ক।     অদ্রির বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। তার ছোট ভাই আরশাদ হোসাইনের বয়স মাত্র দেড় বছর। দুজনের জন্ম গ্লাসগোতে। এই শহরই তাদের প্রথম পরিচয়, প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম পৃথিবী দেখা। তাদের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশ।     অদ্রিকে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কোথাকার?’ সে বলে, ‘আমি গ্লাসগোর।’ এটাই তার বেড়ে ওঠার শহর। পরিবারের গল্পে, মায়ের ভাষায়, বাবার স্মৃতিতে বাংলাদেশও তার নিজের হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে।     এই গল্পে আরও একটি ছোট্ট মুখ আছে। তার নাম শেহনাজ রুবা হোসেন। বয়স আড়াই বছর। বাবা মো. শাহিনুর হোসেন রুবেল, মা সুইটি আক্তার। জন্ম তারও গ্লাসগোতেই। এখনও পৃথিবীকে চিনছে ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে। বাংলা আর ইংরেজি একসঙ্গে শুনেই বড় হচ্ছে সে। মা যখন বাংলায় আদর করে ডাকেন, আর বাইরে বেরোলেই চারপাশ ভরে যায় ইংরেজি কথোপকথনে, তখন অজান্তেই তার ভেতরেও জন্ম নিচ্ছে দুই সংস্কৃতির এক নতুন পরিচয়।     প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিশুদের জীবন আসলে দুই সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন। স্কুলে তারা ব্রিটিশ সমাজের অংশ। ইংরেজিতে পড়ে, ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখে, স্কটিশ বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়। বাড়িতে তারা বহন করে বাবা-মায়ের ফেলে আসা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি আর আবেগ।     অদ্রি ও আরশাদের বাবা সাগর মনে করেন, সন্তানদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়ের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘একটা সন্তান শুধু যে দেশে জন্মায়, তার পরিচয় শুধু সেই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের ইতিহাস, ভাষা আর সংস্কৃতিও তার পরিচয়ের অংশ।’     প্রবাসী পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। সন্তানকে নতুন দেশের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া, আবার নিজের সংস্কৃতির সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করা।       গ্লাসগোর অনেক বাংলাদেশি পরিবারেই এখন এমন চেষ্টা দেখা যায়। সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় শিশুরা ব্রিটিশ স্কুলে যায়। ইংরেজিতে পড়াশোনা করে। ছুটির দিনে কেউ বাংলা শেখে, কেউ বাংলা গান শোনে, কেউ পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের গল্প শুনে বড় হয়।     বাংলাদেশের সঙ্গে অদ্রির পরিচয় মায়ের রান্নার গন্ধে, পরিবারের গল্পে, উৎসবের আনন্দে। পহেলা বৈশাখের রঙিন পোশাক, ঈদের সকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার সঙ্গে তার নিজের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠছে।     আরশাদ এখনও খুব ছোট। কথা বলতে শেখার বয়স। তার চারপাশেও তৈরি হচ্ছে সেই দুই সংস্কৃতির পরিবেশ। একদিন সেও হয়তো জানবে, তার জন্ম গ্লাসগোয় হলেও তার পরিবারের আবেগ আরও দূরের একটি দেশে।       শেহনাজ রুবা হোসেন  এখনও বাংলাদেশকে চেনে না। তার ছোট্ট হাত ধরে যখন বাবা-মা বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যান, কিংবা ঈদের সকালে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তখন সেই পরিবেশই তার অজান্তে পরিচয়ের ভিত গড়ে দেয়। বড় হয়ে হয়তো সেও প্রশ্ন করবে, ‘বাংলাদেশ কোথায়?’ তখন উত্তরটি শুধু মানচিত্রে পাওয়া যাবে না, পাওয়া যাবে পরিবারের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় আর ভাষার টানে।     প্রবাসী শিশুদের জন্য দেশ অনেক সময় মানচিত্রের কোনো জায়গা নয়। দেশ হয়ে ওঠে স্মৃতির গল্প। দাদু-দাদির মুখে শোনা কাহিনি, বাবা-মায়ের শৈশবের কথা, ঘরের খাবারের স্বাদ আর মাতৃভাষার মায়া।     তারা বাংলাদেশের গ্রামের মাটিতে বড় হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে ভেজেনি, পাড়ার মাঠে খেলেনি, গ্রামের পথ ধরে স্কুলে যায়নি। বাবা-মায়ের স্মৃতির মধ্য দিয়ে তারা সেই দেশের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে।     গ্লাসগোর কোনো এক শীতের সন্ধ্যায় অদ্রি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখবে কুয়াশায় ঢাকা শহর। বাইরে স্কটল্যান্ডের প্রকৃতি, ঘরের ভেতরে বাংলা ভাষার উষ্ণতা। একইভাবে কোনো এক বিকেলে শেহনাজ রুবাও হয়তো জানালার কাঁচে হাত রেখে বৃষ্টিভেজা আকাশ দেখবে, আর ঘরের ভেতর ভেসে আসবে রবীন্দ্রসংগীত কিংবা মায়ের কণ্ঠে শোনা কোনো বাংলা ছড়া। এই ছোট ছোট মুহূর্তই একদিন তাদের শিকড়ের গল্প হয়ে থাকবে।     এই দুইয়ের মাঝেই তৈরি হবে তাদের নিজস্ব পরিচয়। তারা শুধু গ্লাসগোর সন্তান নয়, শুধু বাংলাদেশের উত্তরাধিকারীও নয়। তারা দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন।     অদ্রি, আরশাদ, শেহনাজ রুবাদের মতো প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুরাই আগামী দিনের বিশ্বনাগরিক। তারা কেউ বিজ্ঞানী হবে, কেউ শিল্পী, কেউ চিকিৎসক, কেউ উদ্যোক্তা। পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের ভেতরে কোথাও বেঁচে থাকবে একটি ছোট্ট শব্দ বাংলা। গ্লাসগোর আকাশে তাদের স্বপ্ন উড়বে। আর সেই স্বপ্নের গভীরে, নীরবে, অমলিন হয়ে লুকিয়ে থাকবে এক টুকরো বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’-এর অভিষেক অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে দারুল ক্বিরাতের গ্রীষ্মকালীন কার্যক্রমে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া

ছবি: সংগৃহীত
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ প্রবাসীর কঙ্কাল উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে বেগ

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর লাশ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। ফলে তাদের লাশ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের দোকান মালিক আলমগির হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতায় লাশগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে, দেখে কাউকে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই।   তিনি বলেন, লাশ চেনার মতো কোনো অবস্থা নেই। সবগুলোই কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আলেম-ওলামা ও স্থানীয়দের পরামর্শ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর লাশগুলোর দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।   এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও ফরেনসিক প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   মর্মান্তিক এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনরা দ্রুত পরিচয় শনাক্ত, লাশের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।   এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী-এর নেতৃত্বে প্রথম সচিব তৌফিকুল ইসলাম ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং স্বজনদের সহায়তায় কাজ করছেন।   প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ফরেনসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আহত জহিরুল ইসলামের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা বাতিলের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৮ প্রবাসী আটক

বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. অদিতি সাহা অনন্যা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে আটক ৪১ হাজারের বেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময়ে সারা দেশে ৭ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রায় ৯৭ হাজার ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মানবপাচার ও অর্থপাচার প্রতিরোধে পরিচালিত এই অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনকে দেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে এবং অবৈধভাবে অবস্থান, কাজ কিংবা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আপসহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   এদিকে রোববার পরিচালিত পৃথক এক অভিযানে দুটি ই-বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) কারখানা থেকে ৫৮ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন, শ্রম ও পরিবেশ বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।   আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান ও অভিবাসন সংক্রান্ত বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখা এবং অভিবাসন আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কবে খুলবে ওমানের শ্রমবাজার? এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালে ‘লিসবন বাংলা লাইভ কনসার্ট’: জেমস ও জায়েদ খানে মুখর প্রবাসী মিলনমেলা

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কল্যাণে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments