হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক বৈঠকে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিকে (এডনক) ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে আমিরাতে বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডিসিওপি) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। ওমান উপসাগরীয় উপকূল দিয়ে সরাসরি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত দুটি দেশেরই হরমুজ প্রণালির বাইরে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ আছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন ব্যাহত হয়।
কুয়েত, ইরাক, কাতার ও বাহরাইন প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি মজুত শুরু করেছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর মেয়াদ আর বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৬ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখনো সংঘাত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। এ কারণে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, প্রণালিটি ‘খোলা’ রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছার কথাও আবার জানিয়েছেন তিনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানকে নিয়েও হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে ওমান বাধা দিলে দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। সামুদ্রিক পরিবহনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাহাজটি আটক করা হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, জাহাজটি থামানোর পর বর্তমানে কেশম দ্বীপের কাছে অবস্থান করছে। তবে জাহাজটির নাম বা লঙ্ঘনের বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মাত্র পাঁচটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন কোনো কার্গো জাহাজ চলাচল রেকর্ড হয়নি। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমার বিষয়টি মানছে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, তেহরান কোনো সময়সীমার চাপে সিদ্ধান্ত নেবে না। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) মেয়াদ শেষ হওয়া এই সমঝোতা আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের জন্য সাদা পতাকা ওড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছেন ট্রাম্প। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কোনও কার্যকারিতা নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে করা ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কি না সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তাতে রাজি নয় তেহরান। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না’। তিনি আবারও বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।’ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা’। তিনি বলেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি। নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে।’ তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে—যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধান—দুই দিক থেকেই এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রণালিটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তারা চাইলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে পারে। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। এটি কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী বা প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও ইরানের থাকবে। তবে হরমুজ প্রণালির পুরোটা শুধু ইরানের ভূখণ্ড, এমন দাবিও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সহজ নয়। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার চওড়া। ফলে ইরান ও ওমানের জলসীমা সেখানে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অন্য কোনো অঞ্চলকে নিজের দেশের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইনের মতে, নতুন কোনো ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে হলে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সিনেট অনুমোদিত চুক্তি বা কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় তা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার দাবির কোনো বাস্তব আইনি ভিত্তি তৈরি হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড বানানো সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও এখানে বড় বিষয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। এদিকে ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনাও করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আলোচনায় শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। তবে হরমুজ পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর মতো কিছু শর্ত মানতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের একটি বড় অংশ তার নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা হতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, ট্রাম্প অনেক সময় বড় ধরনের বক্তব্য দেন। তাই তার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হলেও সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত নয়। তবে বক্তব্যটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ ইরান যুদ্ধের কয়েক মাস পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত তীব্র রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা