আন্তর্জাতিক

চীন সফরে ট্রাম্পের অর্জন কী

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।

 

শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন।

গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।

ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে।

অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না।

বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে।

তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।

তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে।

এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।

তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
হরমুজ প্রণালি
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সমঝোতার (ইসলামাবাদ সমঝোতা) শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।   মঙ্গলবার কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের সাথে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্তসমূহ-যার মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ মুক্তি।   গালিবাফ বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই: সমঝোতা স্মারকটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ-যার মধ্যে রয়েছে অবরোধ প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত সম্পদ মুক্তি, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ও হুমকি বন্ধ করা এবং অন্যান্য শর্তাবলীতে যা আমেরিকা চুক্তি অনুযায়ী সম্মত হয়েছিল-বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি খোলা হবে না।’   সূত্র: আল-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভোটার আইডি ব্যবস্থার মতো যুক্তরাষ্ট্রে একই নিয়ম চান ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আবেদন ফের নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কায় বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া  যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।   মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.১৪ ডলারে উঠেছে। এর আগে আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম জুলাইয়ের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বেড়ে ৮৫.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.৩৭ ডলারে উঠেছিল।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অবসানের কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। তেহরান আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর উত্তেজনা বেড়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।   ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে কঠোর বার্তা দিলেন ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের বাধার অভিযোগ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি ব্যর্থ হলে হরমুজে হামলা চালাবে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
গাজা নিয়ে এআই চ্যাটবটের উত্তর কী হবে, তা নিয়ে কাজ করছে ইসরায়েল

গাজা ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরে প্রভাব ফেলতে ইসরায়েল-অর্থায়িত একটি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ প্রচারণার লক্ষ্য শুধু সাধারণ মানুষের মতামত প্রভাবিত করা নয়, বরং এআই যেসব অনলাইন উৎস থেকে তথ্য নেয়, সেসব উৎসের মধ্যেও নির্দিষ্ট বয়ান বা বক্তব্য ঢুকিয়ে দেওয়া।   পলিটিকোর পর্যালোচনা করা নথির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটিতে গাজা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইহুদিবিদ্বেষের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ‘ইসরায়েলি বাহিনী কি বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েল কি ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?’—এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তথ্য সাজানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়া তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাইরোর মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল। মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের এক ডজনের বেশি নিবন্ধ ১ লাখ ডলারের একটি প্রচারণার অংশ ছিল। নথিতে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ও সূত্রনির্ভর উপাদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের ধরন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রচলিত মতামতধর্মী লেখা বা প্রচারণামূলক নিবন্ধের বদলে অনেক প্রতিবেদন এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে, যেভাবে মানুষ সরাসরি চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করে। এখানেই বিষয়টির গুরুত্ব। চ্যাটজিপিটি, পারপ্লেক্সিটি ও অন্যান্য এআই সার্চ টুল এখন ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ ও সংক্ষেপ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। ফলে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের বক্তব্য সমর্থন করে এমন তথ্যকে অনলাইনে বেশি পরিমাণে, নির্দিষ্ট কাঠামোয় এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, এমনভাবে প্রকাশ করে, তাহলে এআইয়ের উত্তরে সেই বক্তব্য উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পলিটিকোর নিরপেক্ষভাবে করা কিছু পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ও পারপ্লেক্সিটি গাজা, ইহুদিবাদবিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই প্রচারণা পদ্ধতিগতভাবে চ্যাটজিপিটি বা অন্য এআইয়ের ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তর বদলে দিয়েছে। একইভাবে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের প্রতিটি লেখা এআইকে প্রভাবিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল, এমন প্রমাণও নেই। তবে ঘটনাটি একটি নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি তথ্য এখন জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর ব্যবহৃত অনলাইন উৎসের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে এর পার্থক্যও রয়েছে। বিজ্ঞাপন দেখলে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন সেটি প্রচারণা। কিন্তু কোনো এআই যদি সেই তথ্য নিজের উত্তরের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে যে তথ্যটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি প্রচারণা রয়েছে কি না। হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে অবশ্য একটি ঘোষণা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাদের তথ্য উপাত্ত পাইরো হাভাস মিডিয়া জার্মানির হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের পক্ষে বিতরণ করছে। এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন একটি কৌশলও সামনে এসেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও। আগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ ফলাফলে ওপরে আনার চেষ্টা করা হতো। এখন একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য, প্রতিষ্ঠান বা তথ্যকে এআইয়ের খুঁজে পাওয়া ও উদ্ধৃত করার সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল, কোম্পানি, লবিং প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে। কারণ যুদ্ধ, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে তথ্য জানতে এখন অনেক মানুষ সরাসরি এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এআইয়ের উত্তর তৈরির আগে ইন্টারনেটে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন উৎসকে এআই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোনো ব্যবহারকারী যদি এআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘গাজায় কি দুর্ভিক্ষ চলছে?’ কিংবা ‘গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে কি না?’—তখন তিনি ধরে নিতে পারেন যে এআই বিভিন্ন স্বাধীন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু সেই উৎসগুলোর কোনোটি যদি আগে থেকেই কোনো রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার অংশ হয়, তাহলে তথ্য ও প্রচারণার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাইরো অবশ্য তাদের কাজকে প্রতারণামূলক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গ বলেছেন, ইসরায়েল তাদের নিয়োগ করেছিল এবং মার্কিন আইনে বিষয়টি প্রকাশও করা হয়েছে। তার দাবি, তারা ইসরায়েল সম্পর্কে সঠিক ও সূত্রনির্ভর তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং ইসরায়েলবিরোধী ভুল তথ্য মোকাবিলা করতে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য কারণে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের পর রাজনৈতিক প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সেই প্রতিযোগিতা পৌঁছে যাচ্ছে এআইয়ের তথ্যভাণ্ডারেও। এআই শুধু তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় না; বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে সেটিকে বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত উত্তর তৈরি করে। ফলে রাজনৈতিক বয়ানের লড়াই এখন শুধু মানুষকে কী বলা হবে, তা নিয়ে নয়; এআই সেই উত্তর তৈরির সময় কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেটি নিয়েও। অর্থাৎ ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধ হয়তো ব্যবহারকারী প্রশ্ন করার পর শুরু হবে না। বরং সে প্রশ্ন করার অনেক আগেই, ইন্টারনেটে কোন তথ্য থাকবে এবং এআই কোন তথ্য খুঁজে পাবে, সেই পর্যায় থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে।   সূত্র: আরবনিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বানাতে পারবেন ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে জয় দাবি গালিবাফের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে

0 Comments