গতবছর দীর্ঘসময় দেশে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল জানিয়ে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, ২০২৪ সাল থেকে এ ব্যাপারে সরকারকে (অন্তর্বর্তী সরকার) ১০ বার সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি ৫ থেকে ৬ বার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না আসায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ কার্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম' বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউনিসেফের প্রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের টিকা দেশে আনা হয়, যা মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। আর বাংলাদেশে বছরে টিকা সংগ্রহে আনুমানিক প্রয়োজন হয় ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইউনিসেফ জানায়, টিকার ঘাটতির বিষয়ে ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ১০টি বৈঠকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ থেকে ৬ বার আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এ বিষয়ে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। এতে দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বড় প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি বছরের মে মাসে দেশে হামের রুটিন টিকা এসেছে। এখন টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের আওতায় আনা এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা।
ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে বিঘ্ন হওয়া উচিত নয়। সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
টিকা সংকটের কারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, 'মূল কারণ হলো, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় না, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগে কখনও নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি আপনারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাচাই করে নিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই, তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে। এটুকু জানি, আমরা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে। আমরা আশা করেছিলাম, যিনি নতুন করে দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।’
রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, 'আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।'
সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, 'বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে। এই ঘটনার পর ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ বা পরবর্তী আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খতিয়ে দেখব, কেন অনেক বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।’
৫ লাখ সংখ্যাটিকে তিনি ‘মোটা দাগের অনুমান’ উল্লেখ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও প্রাক-বিদ্যালয়, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জায়গায় শিশুদের একত্রিত করতে আমাদের সক্ষমতা ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখতে হবে।’
এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এখন এমনভাবে (টিকাদান) কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়।'
টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, ‘আমরা যা কিনি, তার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। এখানে শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছা। সুতরাং নিশ্চিত করতে হবে, আপনার কাছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে, আপনি সস্তা টিকার পেছনে ছুটছেন না। আপনি সেই টিকাই নেবেন, যার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।'
এ কারণে ইউনিসেফ বহু বছর আগে টিকা সংগ্রহ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় জানিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, 'আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য টিকা সংগ্রহ করি। টিকা প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তাদের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমরা অনেক বেশি পরিমাণে কিনি, তাই আমরা কম দামে কিনতে পারি। ইউনিসেফ যে দামে টিকা পায়, তার চেয়ে কম দামে দরপত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে আমরা তা জানি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে এই শোক পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কাল দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে, গত ১২ জুলাই ইন্তেকাল করেন আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অকৃত্রিম বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শোক পালন উপলক্ষে বুধবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির রুহের মাগফেরাত কামনায় বুধবার দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত নারী বিষয়ক নবম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দিনব্যাপী (১২-১৩ জুলাই) এ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। ইসলামাবাদের জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহরা বেহরুজ আজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান এবং ইরানের ডেপুটি হেড অব মিশন নাবি উল্লাহ শিরাজিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের নারীদের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম উম্মাহর নারীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের মন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণও জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকজয়ী বাংলাদেশী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের জাতীয় সংসদের ভিভিআইপি গ্যালারি থেকে অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দিয়ে তাদের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীরা সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের জন্য ভিভিআইপি গ্যালারি থেকে অধিবেশন দেখার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। পরে প্রতিনিধিদলটি সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনও পরিদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, পড়াশোনা, গবেষণা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নতুন উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে অসাধারণ সাফল্যের সাথে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বয়ে আনার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কোচ ড. মোহাম্মদ আজম খান, একাডেমিক সমন্বয়ক ও মেন্টর তাসনিম মাহফুজ নাফিস, স্বর্ণপদকজয়ী ত্রিদিব রায় আর্য এবং দলের সদস্য নাইরা নাওয়ার আহমেদ, অনন্য যারিফ আকন্দ, নাওফিল রহমান, মুবতাসিম চৌধুরী পিয়ম ও মুরতাজা আব্দুল্লাহ। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।