সর্বশেষ

হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা সদর থানার গেটে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ওসির প্রত্যাহার দাবি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সদর উপজেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানের প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরা সদর থানার গেটে অবস্থান নেন এবং সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় হামলার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

 

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পীসহ একাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ঘটনায় তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

নেতাকর্মীরা বলেন, উদীয়মান ছাত্রনেতৃত্বকে ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরও কেউ বিক্ষোভ সমাবেশ করলে সে বিষয়ে তাঁর কিছু করার নেই।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা জাসাসের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন, জেলা তাঁতি দলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাহেব আলী, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, আলিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম জিকুসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাড্ডায় ডিবির অভিযানে গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজন ডাকাত, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগর এলাকায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মো. এস এম আরিফুল ইসলাম পাভেল (৩০)। ডিবি জানিয়েছে, তিনি একটি ডাকাত দলের সদস্য। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে আফতাবনগরের এম-ব্লক, ৫ নম্বর সেক্টরের ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   ডিবি সূত্র জানায়, ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাভেল নামে এক ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি পুলিশের।   অভিযানে অংশ নেওয়া গুলশান ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার বলেন, “আত্মরক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিবি সদস্যরা পাল্টা এক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে পাভেলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে তাকে আটক করা হয়।”   পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, আহত পাভেলের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বাকেরগঞ্জ গ্রামে। তিনি আবু সাদেক সর্দার বাদলের ছেলে এবং বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় বসবাস করছিলেন।   ঘটনার বিষয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা সদর থানার গেটে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ওসির প্রত্যাহার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মগবাজারে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নাকচ

ছবি : সংগৃহীত
পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনে ১৩ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করছে ব্রিটেন

পরিবেশবান্ধব বা শূন্য নিঃসরণ গাড়ির প্রযুক্তির প্রসারে প্রায় ১৩ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের যৌথ বিনিয়োগে এই অর্থায়ন করা হবে।   ঘোষিত অর্থের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড সরকারি খাত থেকে দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড পাবেন গাড়ি প্রস্তুতকারক ও গবেষকেরা। নতুন জিরো-এমিশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।   এ ছাড়া ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করা হবে সংযুক্ত ও স্বয়ংক্রিয় চালনাসংক্রান্ত নয়টি বিশেষ প্রকল্পে। এসব প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সেন্সর, ব্রেক-বাই-ওয়্যার সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিমুলেশন প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হবে।   যুক্তরাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ব্লেয়ার ম্যাকডুগাল বলেন, আধুনিক মোটর শিল্পের সূচনা হয়েছিল ব্রিটেনে। দেশটির সরকার চায় পরবর্তী প্রজন্মের পরিবেশবান্ধব গাড়িও যেন যুক্তরাজ্যের মাটিতেই নকশা ও তৈরি করা হয়।   গ্রিন ট্রানজিশন বা পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাজ্য কঠোর কৌশল নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের পর দেশটিতে কেবল পেট্রল বা ডিজেলচালিত নতুন গাড়ি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।   এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে বাজারে আসা সব নতুন গাড়িকে শতভাগ শূন্য নিঃসরণ বা পরিবেশবান্ধব হতে হবে।   সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পোড়ানোর নির্দেশ, হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান ৩ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

আলিয়া মাদরাসার প্রবেশপথে পুলিশের ব্যারিকেড, উত্তেজনা ঘিরে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত
আলীকদমে তীব্র নদীভাঙন, জিও ব্যাগেও মিলছে না স্থায়ী সুরক্ষা

বান্দরবানের আলীকদমে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদী ও চৈক্ষ্যং খালের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিন তীরবর্তী এলাকা ভেঙে পড়ছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলীকদম সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাগানপাড়া এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মংচিং হেডম্যানপাড়া এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর পাড়ের মাটি প্রতিদিন ধসে পড়ছে এবং অনেক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।   ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর তীরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছে। আলীকদমের পশ্চিম বাগানপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার এবং চৈক্ষ্যং খালের প্রায় ৮০ মিটার অংশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।   তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একইভাবে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে বছর ঘুরে আবারও শুরু হয় ভাঙন, আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ হারায় বসতভিটা ও আবাদি জমি।   ভাঙনের কারণে অনেক কৃষক জমি চাষ করতে পারছেন না। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এতে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ সাময়িক সুরক্ষা দিলেও নদীভাঙন ঠেকাতে পরিকল্পিত ও টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নদীর গতিপথ ও স্রোতের ধরন বিবেচনায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করা সম্ভব হবে।   এ বিষয়ে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, অস্থায়ী জিও ব্যাগের পরিবর্তে দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে আলীকদমের নদীভাঙন কবলিত মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নেই: জয়সওয়াল

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা কলেজের জুলাই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ার অভিযোগ শিবির ও ছাত্রশক্তির

0 Comments