বিশ্ব

হামলার আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড এলার্ট জারি

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জঙ্গি হামলার বড় একটি পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করার পর এমন দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সমর্থন পেয়েছিলেন।

 

রোববার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শাহিদ ও মোহাম্মদ উজ্জ্বল। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবেশী দেশের নাগরিক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার একটি গার্মেন্টস কারখানা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিরুপ্পুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই গোষ্ঠী ভারতের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল।

গ্রেপ্তারের খবর আসার পর দিল্লিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আইএসআই-সমর্থিতরা দেশজুড়ে স্থানীয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। একটি গোয়েন্দা সতর্কবার্তায় লস্কর-ই-তৈয়বা লাল কেল্লার কাছে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরও জঙ্গিদের নজরদারিতে ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযানে ৮টি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে পোস্ট করতেন। তারা নকল আধার কার্ড ব্যবহার করে গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করছিলেন এবং পরিচয় গোপন রেখেছিলেন।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। লাল কেল্লা, জামা মসজিদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতিতেই বাড়ছে ঝুঁকি, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জাপানের

সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে জাপান সরকার ড্রোন উড়ানোর ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে ড্রোনের নিষিদ্ধ উড্ডয়ন এলাকা প্রায় ৩০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ মিটার করা হয়েছে।   জাপানের সংবাদ সংস্থা কয়ডা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় সম্রাটের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশের সীমিত আকাশসীমা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থার কারণে নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি এক কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ‘ইয়েলো জোনে’ ড্রোন উড়ালে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ ইয়েন (প্রায় ৩,১২০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।   এর আগে শুধু ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনার ঠিক ওপর দিয়ে ড্রোন উড়লে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তবে সংশোধিত আইনের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।   এ ছাড়া সম্রাট, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও পাবে কর্তৃপক্ষ।   সরকারের মতে, ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে আধুনিক ড্রোনগুলো আগের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ও দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় নতুন বিধিনিষেধ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।   নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে সরকার অনলাইনে সরকারি মানচিত্রে নিষিদ্ধ এলাকা প্রকাশ করবে এবং ড্রোন বিক্রেতাদের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পরীক্ষায় অনিয়ম ও বেকারত্ব ইস্যুতে কোটায় মাঠে নামছেন রাহুল, সরব বিজেপি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বে মাছ উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায়, তবে জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ থামার আভাস, শুল্ক নিয়ে নতুন পদক্ষেপে ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিমান দুর্ঘটনা: মহাসড়ক বন্ধ, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরে একটি ছোট বিমান মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও যানজটের সৃষ্টি হয়।   এতে একজন নিহত হয়েছেন। তবে মহাসড়কে থাকা কোনো যানবাহনের যাত্রী আহত হওয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। লারেডো পুলিশ বিভাগের তদন্তকারী হোসে বায়েজা জানান, রাত ১০টার কিছু পর বিমানটি লুপ-২০ মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে মহাসড়কটি উভয় দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি মহাসড়কের একটি ব্যারিয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একপাশে কাত হয়ে পড়ে আছে এবং আগুন জ্বলছে।   প্রত্যক্ষদর্শী জাইরা গারজা জানান, সহকর্মীদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনাটি দেখেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন, বিমানের ভেতরে থাকা একজন ককপিটের জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় আশপাশের লোকজনও বাইরে থেকে জানালা ভেঙে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   গারজা বলেন, পরে বিমানের দরজা খুলে যায় এবং কিশোর-কিশোরী বলে মনে হওয়া তিনজন দ্রুত বেরিয়ে আসে। তাদের পেছনে একজন পাইলট বলে মনে হওয়া ব্যক্তিও বের হন। এ সময় আরেকজন ক্রু সদস্য অচেতন অবস্থায় থাকা একজনকে বিমান থেকে বের করার চেষ্টা করেন।   ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গারজা বলেন, ‘দৃশ্যটা যেন সিনেমার মতো ছিল। আগুন দেখে আমি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম।   কারণ বিমানটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারত।’

মারিয়া রহমান জুন ১৭, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

‘আমি না থাকলে ইসরায়েল টিকেই থাকত না’, দাবি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আটক অর্ধশতাধিক

ছবি - সংগৃহীত

ইরান চুক্তি নিয়ে সিআইএ প্রধানের সংশয়, হোয়াইট হাউসে ভিন্নমত

ছবি : সংগৃহীত
কেন জটিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর তদারকি ক্ষমতা মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি এবং আলোচিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তুও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে মার্কি প্রেসিডেন্ট ভাইস জ্যাডি ভ্যান্স বলেছিলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল ভিত্তি হবে যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা এবং সেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।   আইএইএর পরিদর্শকরাও ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অংশ ছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবামার আমলে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শন মেনে নিয়েছিল।   বিনিময়ে দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা হয়।   তবে ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে চুক্তিটি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আইএইএর কিছু কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, সংস্থাটির কিছু কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এই অবিশ্বাসের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে। পরিদর্শকের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। যদিও পরমাণু চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে প্রযুক্তিগত মতবিরোধ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং অধিকাংশ বিরোধের সমাধান হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করতে শুরু করে এবং আইএইএর ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে।   এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও শীতল হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গ্রোসি যথাযথ গুরুত্ব দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও সেটি বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইএইএ ও ইরানের পারস্পরিক আস্থার সংকট। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব যদি আবারও আইএইএর ওপর ন্যস্ত হয়, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান অবিশ্বাস নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে আইএইএর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কতটা কার্যকর ও সহযোগিতামূলক থাকে তার ওপর। সূত্র : সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ মমতা

ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান

ছবি : বিবিসি

স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে রুশ সংশ্লিষ্টতা, দাবি বিবিসির

0 Comments