জাতীয়

হাইকোর্ট স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত রায়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ–সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় নিয়ে করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। 

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে স্থিতাবস্থা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বিধানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদনসহ গত ২০ এপ্রিল আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

আর হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েও আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৯ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম আরেকটি আপিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল ও আবেদনের সঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার ও আইনজীবী আহসানুল করিমের করা পৃথক আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৪ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। অপর আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী কারিশমা জাহান শুনানি করেন।

আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখতে রাখতে স্থিতাবস্থা ও সচিবালয় রহিতকরণ আইনের বিধান স্থগিত চেয়ে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।

পরে বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান গণমাধমকে বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। স্থগিতাবস্থা ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তাদের করা আবেদনটি নথিতে রাখা হয়েছে।

 

হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর

গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। এতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।

 

সচিবালয়ের যাত্রা ও বিলুপ্তি

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ রহিতকরণে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়। এর ভাষ্য, অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবনভোলানো হাসিতে মন জয় করা তাহসিনের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ২৯ জুলাই (বাসস): রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে উচ্ছ্বাসভরা হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়া যে কিশোরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, সেই তাহসিন আব্দুল্লাহ এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।   বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাহসিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির।   একটি হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল বেদনার গল্প তাহসিন উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় সে হারায় তার বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও দুর্ঘটনার সময় তারা ভিন্ন ভবনে ছিল। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন বোনকে খুঁজতে ছুটে যায়। কারও মুখে স্যালাইন ও পানির প্রয়োজনের কথা শুনে দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে অপেক্ষা করলেও আর ফিরে আসেনি তার প্রিয় বোন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই দুর্ঘটনার পর প্রাণবন্ত তাহসিন যেন হাসতেই ভুলে গিয়েছিল। একটি হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি তাকে অনেক মিস করি।”   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল সেই হাসি গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রদক্ষিণের সময় হাজারো শিশুর ভিড়ে তাহসিনের উচ্ছ্বসিত হাসি ও দু'হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়। ছবিটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। পরে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক হৃদয়বিদারক গল্প। বিষয়টি জানার পর তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।   স্বপ্ন জানতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজ নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায় জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন এবং মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পরামর্শ দেন। আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তাহসিনের হাতে তুলে দেন।   ‘এটা আমার জন্য সারপ্রাইজ’ সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একটি বড় সারপ্রাইজ। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে এই অভিজ্ঞতার গল্প শোনানোর জন্যও সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এ সময় মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবা নাজমুল হকের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ২৯, ২০২৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে এমপি ফজলুল হক মিলন

অবৈধ হলেও থামছে না ‘বাংলা টেসলা’, নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন উদ্যোগ

প্রায় দুই কোটি মানুষের এই শহরে প্রতিটি দিনই যেন একেকটি যুদ্ধ। সকাল থেকে রাত জীবিকার পেছনে ছুটে চলা মানুষের জন্য এই শহরে নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা। ঢাকার ১১০টি সক্রিয় রুটে ৭,০৪৩টির মতো বাস ও মিনিবাস চলাচলের অনুমতি থাকলেও চলছে মাত্র সাড়ে চার হাজারের মতো। যা প্রয়োজনের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। আর এসবের মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।   গণপরিবহনের এই ঘাটতি দখল করে নিয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, যা ‘বাংলা টেসলা’ হিসেবেও খ্যাত। শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ—সর্বত্র এর অবাধ বিচরণ। নগরবিদদের ধারণা, গত দুই বছরে এই পরিবহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখে।   অটোরিকশা অবৈধ হলেও, এই বাহনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। অটোরিকশা তৈরি, চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ, মেরামত এবং কিস্তিভিত্তিক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এখন লাখ লাখ মানুষের জীবিকা। ফলে শুধু চালক নয়, পুরো একটি আর্থিক চক্র এই খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।   অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে কয়েকজন অটোরিকশা ব্যবসায়ী বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ গাড়ি চলে। ইচ্ছা করলে তো সরকার বন্ধ করতে পারে না। এখন ৭০ লাখ লোক, আপনি পাঁচজন করে ধরেন, একটা গাড়ির পেছনে জীবিকা অর্জন করতেছে। এই কর্মটা যদি বন্ধ করে দেয়, দেশের মধ্যে একটা বিস্ফোরণ ঘটবে।   অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও, অটোরিকশা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় সড়কে বেশ নিয়ন্ত্রণহীন এই পরিবহন। ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করা, বেপরোয়া গতি ও উল্টো পথে চলাচলের কারণে দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার হার, যাতে ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, এটা রিভার্স গিয়ারে গ্র্যাজুয়ালি ধাপে ধাপে কমাতে হবে। যারা অটোরিকশা চালাবেন, তাদের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। তার সঙ্গে অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। রোড ট্যাক্স দিতে হবে। যখন এই ধরনের শর্তগুলো চলে আসবে, তখন দেখবেন যে অনেকগুলো স্ট্যান্ডার্ডের মধ্যে পড়বে না।   তবে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, এই রিকশাগুলো চালানোর জন্য ব্যাটারি লাগে। তাহলে ব্যাটারির জন্য নিশ্চয় একটা শিল্প গড়ে উঠছে। আবার এই ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে একটা চার্জিং স্টেশন দরকার হয়। তখন একটা চার্জিং স্টেশনেরও উদ্ভব হচ্ছে। আমরা যদিও ৫০ থেকে ৬০ লাখ বলছি, মানে যারা রিকশা চালায়, কিন্তু এর পেছনে বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ অলরেডি তৈরি হয়ে গেছে।   এসব পরিবহন চার্জিংয়ে ব্যবহার হচ্ছে আবাসিক সংযোগের বিদ্যুৎ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাওয়ার গ্রিড, যাতে লোকসানে পড়ছে সরকার। নতুন বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর সরকার কর আদায়ের চিন্তা করলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।   সম্প্রতি সংসদে সড়কমন্ত্রী জানান, ব্যাটারিচালিত এই পরিবহনটি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের দাবি: রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অভিযোগে সাহাবুদ্দিনের বিচার সম্ভব

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

এমপি​ হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই : আপিল বিভাগ

  এমপি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এমপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।   বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।   এর আগে গত ৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তার আবেদনে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া থেকে সরোয়ারকে বিরত রাখার আরজিও রয়েছে।   রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসিতে আপিল দায়ের করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তাতে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। পরে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।   হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। সেই সঙ্গে ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও তার ফলাফল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেন। নির্বাচনের পর বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়। তাতে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৯, ২০২৬

অর্থঋণ আইনের নিলাম চ্যালেঞ্জে রিট গ্রহণযোগ্য নয় : হাইকোর্টের রায়

আজ থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুল্যান্স ধর্মঘট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হচ্ছে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

0 Comments