গ্রিস উপকূলে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ অভিবাসী নিহত হয়েছেন।
রোববার (০৭ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ক্রিসির কাছে একটি অভিবাসী নৌকা ডুবে গেছে। শনিবার দেশটির কোস্টগার্ড জানায়, সমুদ্রপথে যাত্রার সময় নৌকাটি দ্বীপ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৬ মাইল) দক্ষিণে উল্টে যায়। এ ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, নৌকাটি প্রথম দেখতে পায় একটি তুর্কি কার্গো জাহাজ। এরপর তারা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিত দুজনকে উদ্ধার করেন। তাদের ক্রিট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে।
২০১৫-১৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে গ্রিস ছিল অভিবাসী সংকটের সামনে থাকা প্রধান দেশ। তখন এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ গ্রিস হয়ে ইউরোপে পৌঁছেছিল।
এরপর কিছুটা কমে এলেও গত এক বছরে আবারও লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আসার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষত ক্রিট, গাভদোস ও ক্রিসি— আফ্রিকার উপকূলের কাছাকাছি থাকা এই দ্বীপগুলোর উদ্দেশে নৌকা যাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে মার্কিন নৌবহর ইরানের জলসীমার একদম কাছে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্দেশের অপেক্ষা—আর তাতেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হতে পারে ভয়াবহ যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সামরিক হামলার সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা, সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান এবং সেনা কমান্ডারদের লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ‘মানবাধিকার রক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই সামরিক বাহিনী তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত। তার দাবি, ইরান পরমাণু বোমা অর্জনের পথে এগোচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি। তবে ইরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, পরমাণু কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিটি দেশেরই এটি চালানোর অধিকার আছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হামলা হলে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, ইসরায়েলকেও জবাব দেবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, তারা ১ হাজার নতুন ড্রোন যুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আত্মঘাতী, নজরদারি ও সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন। সেনাপ্রধান আমির হামাতি বলেন, ‘বিদ্যমান হুমকির ভিত্তিতে আমাদের যুদ্ধ সক্ষমতা কৌশলগতভাবে বাড়ানো হয়েছে।’ গত জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। ইরানের সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ আকরামিনিয়া বলেন, সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক জবাব দেওয়া হয়েছিল, তবে এবার হামলা হলে ‘তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ জবাব’ দেবে তেহরান। এদিকে, তেহরানের সাধারণ মানুষ দ্বিধান্বিত অবস্থানে রয়েছে। কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করতে পারবে না, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ হলে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো বড় সংঘাত শুরু হলে তার মাশুল গুনতে হবে আমাদেরই।’ ইরান সরকারও বেসামরিক প্রস্তুতির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষমতা দিয়েছেন গভর্নরদের। তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পার্কিং শেল্টার নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কাতারের আমির ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ফোনে আলোচনা করেছেন। তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দুপক্ষকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানে হামলার প্রয়োজন হয়তো পড়বে না।’ যদিও এক দিন আগেই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘তেহরানের সময় ফুরিয়ে আসছে।’ তার এই দ্বৈত বার্তার মধ্যে পরিষ্কার যে, চাপের কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক হুমকিকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও গড়াতে পারে বড় সংঘাতে। আর সেই সংঘাত যদি শুরু হয়, তার প্রভাব শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রে নয়—বিপর্যস্ত করবে পুরো বিশ্বকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযান আরো জোরদার হলো। জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আওতায় একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অনুমোদিত এই পদক্ষেপে শুল্কের হার নির্দিষ্ট করা হয়নি কিংবা কোনো দেশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ট্রাম্প বলেন, কিউবা সরকারের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ও নীতির’ হাত থেকে ‘মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি’ রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর জবাবে শুক্রবার সকালে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল ট্রাম্পের যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন। দিয়াস-কানেল বলেন, ‘এই নতুন ব্যবস্থা একটি চক্রের ফ্যাসিবাদী, অপরাধমূলক ও গণহত্যামূলক চরিত্রকে তুলে ধরে, যারা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে মার্কিন জনগণের স্বার্থ জিম্মি করে রেখেছে।’ কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে জানায়, এই আদেশ এমন এক দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অচল করে দিতে পারে, যা ইতিমধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। রাতের টেলিভিশন সংবাদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানায়, ‘মার্কিন সরকার জীবনের সব ক্ষেত্রকে শ্বাসরুদ্ধ করে দেবে। ’ চলতি মাসের শুরুতে এক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাবাহিনীর আটক করার ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া ও দেশটির নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বারবার বলে আসছেন। ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেন, ‘কিউবা খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে’, এবং যোগ করেন, একসময় দ্বীপটির প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি কিউবায় আর তেল বা অর্থ পাঠাচ্ছে না। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। রদ্রিগেজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দিত অবরোধ নীতিতে অন্য দেশগুলোকে যুক্ত করতে ব্ল্যাকমেইল ও জবরদস্তির আশ্রয় নিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সেখান থেকে আর্থিক মুনাফা অর্জন করছে ইরান সরকার। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের ফলে অনলাইন সেবায় প্রবেশ সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, সীমিত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে ইরানিদের ভিপিএন কিনতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ একই সময়ে বহু পরিবার খাদ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। পোস্টে আরও বলা হয়, ইন্টারনেটের ওপর এই নিয়ন্ত্রণের ফলে তা এখন একটি বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে, যা কেবল অল্পসংখ্যক মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। অথচ দেশটির লাখো মানুষের জন্য ইন্টারনেট বর্তমানে একটি অত্যাবশ্যক যোগাযোগমাধ্যম ও জীবনরেখায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক লাভ করছে। একই সঙ্গে তারা ইরানে অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্য মানুষকে যেন দৈনন্দিন প্রয়োজন ও যোগাযোগের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য না করা হয়। এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস আন্দোলনে রূপ নিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৮ জানুয়ারি অনলাইন পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানায়, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ইন্টারনেট বন্ধের আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, সংকটময় পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের মৌলিক অধিকার ব্যাহত করা হচ্ছে।