জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত হবে জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। জোটের অন্য দুটি দল হলো রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এক বার্তায় জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনে আগ্রহীদের নিয়ে ‘রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন হবে। এতে তিন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উন্নত ও নির্ভুল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বৈষম্য ও ভ্রান্ত তথ্য মোকাবিলায় সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’ বুধবার (৬ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার রাউন্ড টেবিল-৪-এর সহ-সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন,গৃহকর্মী, কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের উচ্চ ঝুঁকির থাকে। শোষণ ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিরোধে অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি জেনোফোবিয়া ও ভ্রান্ত তথ্যনির্ভর অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা মোকাবিলায় জবাবদিহিতা, ডিজিটাল স্বাক্ষরতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জনআলোচনা জোরদার করতে হবে।। দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মর্যাদা, সুরক্ষা ও সবার কল্যাণ নিশ্চিত করতে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমগ্র সরকার ও সমগ্র সমাজভিত্তিক সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ অপরিহার্য।’
সৌদি আরবে চলতি মৌসুমে হজে গিয়ে মারা গেছেন ১০ বাংলাদেশি হজযাত্রী। বুধবার (৬ মে) সবশেষ মোসাম্মৎ নিলুফা বেগম (৫৭) নামের একজন মারা যান। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। মক্কায় তার মৃত্যু হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইসিটি হেল্পডেস্কের বুধবার রাত ৩টার বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ পর্যন্ত আট পুরুষ এবং দুই নারী হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আটজন মক্কায় ও দুজন মদিনায় মারা গেছেন। এদিকে, এখন পর্যন্ত ১২০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪৭ হাজার ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪২ হাজার ৯৬৯ জন। হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের ৫৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৪৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং ৩০ জুন পর্যন্ত ফিরতি কার্যক্রম চলবে।
বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার আড়াই মাসের মাথায় প্রথমবারের মতো চীন সফরে গেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে দু'দেশের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তিস্তা ইস্যুটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি অমীমাংসিত ইস্যু। সমস্যাটি সমাধানে ২০১১ সালে দেশ দু'টির মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হলেও গত দেড় দশকে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ভারত পানি আটকে রাখায় নদীর বাংলাদেশ অংশে প্রায় প্রতিবছরই খরা দেখা যাচ্ছে, সেইসঙ্গে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা ও নদী ভাঙনের মতো সমস্যা। এ নিয়ে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ তিস্তা তীরবর্তী জেলাগুলোয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গেছে। এমন অবস্থায় বেশ কয়েক বছর আগে চীনের সহায়তায় একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় ঢাকা। এ বিষয়ে প্রাথমিক একটি সমীক্ষাও করে বেইজিং। কিন্তু ভারতের আপত্তির মুখে প্রকল্পটি মূলপর্বের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে চায় তারেক রহমানের সরকার। "এটা আমাদের ওই অঞ্চলের মানুষের মরণ-বাঁচনের বিষয়...এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সেই অঞ্চলের সমস্যা সুরাহা করার এবং এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করবো এবং চীন সফরে এই বিষয়টা আমরা নিশ্চয়ই আলোচনা করবো," মঙ্গলবার চীনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। কী আছে মহাপরিকল্পনায়? তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি'র মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় অংশে এই নদীর ওপর একাধিক ব্যারেজ বা বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ওইসব বাঁধে পানি ধরে রাখার ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা শুকিয়ে যায়। ফলে নদী তীরবর্তী ফসলের মাঠে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে একসঙ্গে সবগুলো ব্যারেজ খুলে দেওয়ার ফলে হঠাৎ বন্যা ও নদী ভাঙন দেখা দেয়। "শুকনো মৌসুমে যখন আমাদের পানি দরকার, তখন ভারত পানি ছাড়ে না। আবার বর্ষাকালে একসঙ্গে এতবেশি পানি ছাড়ে যে, মানুষের ভিটে-বাড়ি, ফসলের মাঠ সব হয় পানিতে তলিয়ে যায়, না হয় নদী ভাঙনের শিকার হয়," বলছিলেন 'তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনার পুরো নাম 'কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট'। সমীক্ষার মাধ্যমে ২০১৬ সালে এর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। সমীক্ষা শেষে ২০২৩ সালে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। মহাপরিকল্পনাটির কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ অংশের উজানে একটি বহুমুখী ব্যারেজ নির্মাণ। সেইসঙ্গে, ১০২ কিলোমিটার নদীখনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু'পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ, ১৭১ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীর দুই তীরে স্যাটেলাইট শহর, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ১৫০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুতের প্ল্যান্ট তৈরিসহ পুরো এলাকাকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই আসবে ঋণের অর্থ থেকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই নিজেদের অর্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখিয়ে আসছে চীন। এ প্রকল্প যাচাই করতে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার চায়না যৌথভাবে প্রায় তিন বছর ধরে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। থমকে গেল কেন? সমীক্ষা শেষে চীন যখন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, তখন তিস্তা প্রকল্পে ভারতও আগ্রহ দেখায়। ২০২৪ সালের মে মাসে বিষয়টি আলোচনা করতে ঢাকা আসেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। এরপর জুনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে দিল্লি। প্রকল্পের সমীক্ষা করতে ভারতের একটি কারিগরি দল দ্রুতই ঢাকায় সফর করবেন বলে শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তখন জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ঢাকায় ফিরে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, "তিস্তার পানির দাবিটা অনেক দিনের। তো ভারত যদি আমাদের তিস্তার প্রজেক্টটা করে দেয়, তাহলে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। সেটাই আমার জন্য বেশি সহজ হলো না?" শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য এবং দিল্লির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিবেচনা করে তখন বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করছিলেন যে, তিস্তা প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত হয়তো ভারতই বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু মাসখানেকের মাথায় গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে চীনের সামনে আবারও সুযোগ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে যান। তখন সরকারের তরফে বলা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনাটি চীনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হবে। এদিকে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরবঙ্গে একাধিক কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। গত নির্বাচনের আগে দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। সেটিরই অংশ হিসেবে এখন চীনের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। কিন্তু তাতে কতটা ভরসা পাচ্ছেন বন্যা, খরা ও নদী ভাঙনের ভুক্তভোগি তিস্তাপারের বাসিন্দারা? "এ ধরনের আলোচনা আমরা আগেও বিভিন্ন সময় দেখেছি। কিন্তু যতক্ষণ না প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে বা এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না," বলেন 'তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদে'র সভাপতি হক্কানী। চীন-ভারতের আগ্রহের কারণ কী? বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা নিয়ে চীন ও ভারতের আগ্রহ মূল কারণ কৌশলগত। এর মধ্যে চীনের আগ্রহী হয়ে ওঠার বড় একটি কারণ 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' বা বিআরআই প্রজেক্ট বলে মনে করেন কেউ কেউ। বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে একই সুতোয় গাঁথতে চাইছে। চীনের বিআরআই প্রকল্পের আওতাধীন বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর। প্রস্তাবিত এই করিডোরের মাধ্যমে চীন তাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশকে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত করতে চায়। এজন্য তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। "অন্য কোনোভাবে এই করিডোরগুলো বা এই ধরনের কানেক্টিভিটি প্ল্যানগুলো চরিতার্থ করা যায় কি না সেটা অবশ্যই চীনের উদ্দেশ্য তো থাকবেই," ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ভারতের গবেষণা সংস্থা 'অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক অনুসূয়া বসু রায় চৌধুরী। সেই কারণে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহকে ভারত বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। ভারত মনে করে, চীন তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে ভারতকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলতে চায়। সেজন্য তিস্তা প্রকল্পে চীনকে হটিয়ে ভারত নিজেই যুক্ত হতে চায় বলে মনে করেন মিজ চৌধুরী। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে চীনের সেভাবে কোনো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। "তিস্তা নদীতে এটি বাংলাদেশের প্রকল্প, এটি চীনের কোনো প্রকল্প নয়। চীন শুধু এখানে অর্থায়ন করতে রাজি হয়েছে। কারণ অন্যরা সে অর্থ দিতে পারছে না," বলেন ড. আহমেদ। ভারতকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলে সেটি শেষ পর্যন্ত কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। "ভারতই তো তিস্তার সমস্যার জন্য দায়ী। তারাই তো পানি আটকে রাখে, আবার যখন দরকার থাকে না তখন ছেড়ে দেয়। তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আদৌ আন্তরিক কি-না, সেটাও ভেবে দেখার দরকার আছে," বলছিলেন হক্কানী। 'বসে থাকা চলবে না' তিস্তায় যে মহাপরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, সেটির সুফল পাওয়ার জন্য তিস্তার পানির হিস্যা নিশ্চিত করাটা জরুরি বলে মনে করে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। "মহাপরিকল্পনাটা মূলত একটা ইন্টারনাল নদী ব্যবস্থাপনা। সেটার সঙ্গে পানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদী হিসেবে তিস্তার পানি যতটুকু আমাদের পাওয়ার কথা ভারতের কাছ থেকে, সেই হিস্যাটাও নিশ্চিত করতে হবে," বলেন পরিষদের সভাপিত হক্কানী। তিস্তার পানি ভাগাভাগির জন্য ২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছিল বাংলাদেশ। বিষয়টি পরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে সেটি শেষ পর্যন্ত করা যায়নি না বলে জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে মিজ ব্যানার্জি পরাজিত হয়েছেন। এর বিপরীতে বড় জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিজেপি। "কাজেই এখন পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিকভাবে জোরালো প্রচেষ্টা চালানো উচিত," বলেন হক্কানী। কিন্তু বিজেপি জয় পেলেও চুক্তির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে চুক্তির জন্য তিস্তার কাজ ফেলে রাখতে চায় না বাংলাদেশ সরকার। "তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না। তবে প্রত্যাশা থাকবে, যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা কনসিডার করতে পারি কি-না। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে," সাংবাদিকদের বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান।-বিবিসি বাংলা