জাতীয়

এনসিপিসহ ৩ দলের নতুন জোটের ঘোষণা আজ বিকেলে

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত হবে জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। জোটের অন্য দুটি দল হলো রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এক বার্তায় জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনে আগ্রহীদের নিয়ে ‘রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন হবে। এতে তিন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: জহির উদ্দিন স্বপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে তরুণদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এআই এখন কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, জিপিইউ ব্যবহারের সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতির মতো স্থানীয় চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রোবটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই গবেষণার প্রসারে নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন। সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে; তবে এআই কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার সুনির্দিষ্ট পথনকশা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই তৈরি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬-কে তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইউএপি, জাপানের CHOWA GIKEN Corporation এবং AI SAMURAI JAPAN-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জনাব কাইয়ুম রেজা চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন এআইভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করেন। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ এবং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নির্বাচিতদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের একটি দল বিজয়ী হয়। বক্তারা এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তরুণদের এআই বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন : কৃষিমন্ত্রী

অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ১২ দেশ থেকে পোস্টাল ভোট দেবেন ২৯ প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: সাবেক মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় একদল ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ এবং ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলায় প্রকল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।   একপর্যায়ে হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অফিস, গাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামও রয়েছে।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, তার ও বিভিন্ন ধরনের পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙচুরেরও অভিযোগ রয়েছে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগান থেকে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, একই মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি—মামুন, আসলাম ও মুন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছিল; তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিক কাজ শুরু, সমীক্ষায় ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব

আহত চীনা নাগরিক জেংলিং হংকে দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ-জাপান পর্যটন অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করতে টোকিওতে ট্যুরিজম সেমিনার

জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারীদের অংশগ্রহণে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওয়ার্ল্ড এয়ার এশিয়া সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয় বলে আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।   সেমিনারে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, জাপান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অংশীদার। প্রথাগত খাতের বাইরেও পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অনবদ্য।   তিনি সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বাগেরহাট-সহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও বাউল সংগীতের মতো লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ এবং সুস্বাদু রসনাবিলাসের ঐতিহ্য তিনি তুলে ধরেন।   পাশাপাশি, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন সহজীকরণ ও দ্রুত ভিসা প্রদান-সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে মর্মে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাপানি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান। এসময় জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের পক্ষ হতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।   সেমিনারে ওয়ার্ল্ড এয়ার এশিয়া সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ইযোসুকে কি কুমা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে। আজকের এই সেমিনার জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে সুদূরপ্রসারী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মর্মে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত এবং ভ্রমণকারী প্রায় ৮০ জন এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় বাড়ছে ডেঙ্গু, আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা-চট্টগ্রাম ফেরত

ছবি: সংগৃহীত

প্রিজনভ্যান থেকে পালানো পিচ্চি রাজার খোঁজ চায় পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস, চালুর লক্ষ্য ডিসেম্বর

0 Comments