কখনো কি এমনটা ঘটেছে যে আপনি ঘুমিয়েছেন। হঠাৎ ঘুমের ঘোরেই শরীরে ঝাঁকুনি সৃষ্টি হলো আর আপনি লাফিয়ে উঠে মুহূর্তের জন্য জেগে ওঠেছেন? কিংবা জেগে না উঠলেও কাঁপুনি অনুভব করেছেন?
শরীরে ঘটা এই চমকপ্রদ প্রতিক্রিয়াকে হিপনিক জার্ক বলা হয়। এটি আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি সাধারণ। এটি একটি আকস্মিক ও সংক্ষিপ্ত অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন যা সাধারণত জাগ্রত অবস্থা থেকে ঘুমের দিকে যাওয়ার সময় ঘটে।
যদিও হিপনিক জার্ক স্বাভাবিক বিষয়, তবুও এটি আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যামি শাহ জানিয়েছেন, ঘুমের সময় হিপনিক জার্ক প্রতিরোধ করার জন্য ঘুমানোর আগে কী কী এড়িয়ে চলতে হবে। ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে।
ক্যাফেইন নয়:
ক্যাফেইন আমাদের বন্ধুর মতো কাজ করে। এটি একটি উদ্দীপক যা আপনাকে সজাগ ও জাগ্রত রাখে। রাতে দেরিতে খেলে এটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কফি মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখে। তাই ঘুমানোর আগে খুব বেশি সময় ধরে কফি বা অন্য কোনো এনার্জি ড্রিংক পান করলে হিপনিক জার্কের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সৌদি জার্নাল অফ ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ঘন ঘন খাওয়ার কারণে খারাপ ঘুমের সমস্যায় ভোগে। এটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে কফির প্রধান ভূমিকার সাথে সম্পর্কিত।
মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন:
মানসিক চাপ মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে এবং অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার কারণে ঘুমিয়ে পড়া কঠিন করে তোলে। এটি পেশিগুলোকে শিথিল হতে বাধা দেয় এবং মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। এতে ঘুম অস্থির হয়ে ওঠে, ঘন ঘন ঘটে হিপনিক জার্কও।
ভারী ব্যায়াম নয়:
ঘুমানোর ঠিক আগে তীব্র ও জোরালো ব্যায়াম অ্যাড্রেনালিন ও হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে, যা আপনার শরীরের জন্য বিশ্রাম নেওয়াকে কঠিন করে তোলে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যায়াম করলে তারপর কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম দিন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে ‘বাংলাদেশ লেবার পার্টি’। এর ফলে জোটটি আবারও ১১ দলীয় জোটে রূপ নিল। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লেবার পার্টিকে জোটে যুক্ত করার তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম বলেন, ‘আমরা একটি ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবিরোধী একটি দেশ গড়তে চাই। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জোটে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর মাধ্যমে আমাদের জোটটি ১১ দলীয় জোটে পরিণত হলো। এ সময় বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার কর্মী হিসেবে ১১ দলীয় জোটে যুক্ত হয়েছি। আমরা একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাই। যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা আজ নতুনভাবে শুরু করছি। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ হিসেবেই তিস্তা নদীকে সজীব করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিস্তা সজীব হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনও সজীব হবে। আমরা রাজনীতির জন্য নয়, কথা দিই বাস্তবায়নের জন্য। উত্তরবঙ্গকে নতুনভাবে সাজাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। শুক্রবার রাত ৯টায় রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। বেকার ভাতা দিয়ে মানুষকে নির্ভরশীল করতে চাই না, বরং বেকারত্ব দূর করে মর্যাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা কথা দিলে কথা রাখি। ৫ আগস্টের পর আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি কিংবা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হবে না। আমরা কারও নাম ভুল করে মামলায় ঢুকিয়ে টাকা নিয়ে বের করার রাজনীতি করি না। নিরপরাধ কাউকে জেলের ভাত খাওয়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। জামায়াতের আমির বলেন, ধর্ম কখনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের অন্তরের আবেগ। আমরা বাংলাদেশকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কেউ কেউ বলে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ ইরান, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হবে—আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা গর্বের বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি বলেন, রংপুর ও উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভাণ্ডার। এখানকার মানুষ খুবই ভালো, নিজেদের ন্যায্য দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে না। তাই বলে তাদের সঙ্গে অবিচার করা যায় না। উত্তরাঞ্চলে এগ্রোভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো হবে। উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী। এজন্য কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকারখানা ও বিদেশি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই না উত্তরবঙ্গ আর বঞ্চিত থাকুক। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত সরকার পরিচালনায় দক্ষতার প্রমাণ ইতিপূর্বে দিয়েছে। আমাদের তিনজন নেতা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তারা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, জেলা জামায়াতের আমির ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগতুল্লাহ সিগবা প্রমুখ। এ সময় ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
‘সঠিকভাবে দাঁত প্রতিস্থাপন, সুন্দর হাসি সুস্থ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস–২০২৬ উদযাপন এবং নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ডেন্টাল চিকিৎসার বিশেষায়িত শাখা প্রস্থোডন্টিকস-এর দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয় এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ওড়ানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. আলমগীর কবীর স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যপরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এটিএম সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশ প্রস্থোডন্টিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু তৈয়ব মো. আহসান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আতিক মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডেন্টাল সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) ডা. কামরুল হাসান। বক্তারা নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রস্থোডন্টিকস শাখার উন্নয়ন এবং ডেন্টাল চিকিৎসার অন্যান্য বিশেষায়িত শাখার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে মুখ ও দাঁতের আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র-এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মুখ ও দাঁতের চিকিৎসার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।