প্রথমবারের মতো সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে সংস্থাটির নিজস্ব কোনো সংরক্ষণাগার না থাকা, এলপিজি পরিচালনায় সীমিত অভিজ্ঞতা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর বাজার কাঠামো—সব মিলিয়ে এ উদ্যোগ ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
বিপিসি মূলত জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে অভ্যস্ত। এলপিজি পরিচালনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিপিসির বর্তমানে নিজস্ব কোনো এলপিজি সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণের জন্য তাদের বেসরকারি অপারেটরদের ওপর নির্ভর করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি জেটি ব্যবহার করে প্রায় ৫০ হাজার টনের জাহাজ খালাস করা যাবে। সংরক্ষণ সুবিধার জন্য প্রতি মেট্রিক টনে মাসে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হতে পারে বিপিসিকে। দীর্ঘ সময় পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকলে ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ বাবদ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি খাত। তাদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর সঙ্গে বিপিসির দরকষাকষি চলছে। ব্যবসায়ীরা চান সরকার নিজ উদ্যোগে বড় চালান আমদানি করুক এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৫০০ টনের ছোট লটে কিনবে। তবে বিপিসির আশঙ্কা, নিজস্ব স্টোরেজ না থাকায় বড় চালান এনে দ্রুত বিক্রি সম্ভব না হলে ভাড়া ও ডেমারেজের চাপ বাড়বে।
এ বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।
কীভাবে আমদানি করবে আর কতটুকু আমদানি করবে, তা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের আমদানি করে দিলে আমরা তা বিক্রি করব।’ এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে এলপিজির দাম কমেছে। আমরা কোথাও কারও কাছ থেকে বেশি নিচ্ছি না। সরকার মনিটরিং করলে কেউ বেশি দাম নিতে পারবে না।’
বর্তমানে বিপিসি বছরে ২৭ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করে, যা মোট বাজারের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিপিসি কিছু অবকাঠামোগত উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
চট্টগ্রামের সাগরিকা (উত্তর কাট্টলি) এলাকায় প্রায় ৪০ একর জমিতে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের সঙ্গে যৌথভাবে বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) বাস্তবায়িত হলে দেশের শোধন ক্ষমতা বাড়বে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংকট সামাল দিতে বিপিসি সৌদি আরব, আজারবাইজানসহ ১১টি দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে আমদানির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর না হলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার আশঙ্কা রয়েছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরব, আজারবাইজান, আলজেরিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১২টি সরকারি কোম্পানির কাছে এলপিজি সরবরাহের আগ্রহ, শর্ত ও সক্ষমতা জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ২১ ও ২৪ জানুয়ারি এসব কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সচিব শাহিনা সুলতানা কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা এলওএবির মাধ্যমে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের এলপিজি চাহিদা সংগ্রহ করেছি। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯টি জি-টু-জি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমদানির আগ্রহ জানতে চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোটেশন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত সভা করছি। গত ১২ জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে অপারেটরদের পক্ষ থেকে এলসি খোলা সহজ করা, ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণ এবং এলপিজিকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরাসরি মনিটরিং করছে।’
এ ছাড়া সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিপিসি এলপিজির ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুততম সময়ে আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে এলপিজি সংকট দূর হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ফের স্থিতিশীল হবে।
দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা এখন প্রায় ১৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। চাহিদা দ্রুত বাড়লেও বাজারটি এখনো প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশের এলপিজির বার্ষিক বাজারের আকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আমদানির বাজারে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছে মেঘনা গ্রুপের মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, তাদের দখলে বাজারের ১৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি ১৬ শতাংশ, যমুনা স্পেকটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার ১৪ শতাংশ, ওমেরা পেট্রোলিয়াম ১২ শতাংশ এবং বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মহাকাশের অসীম শূন্যতায় লুকিয়ে আছে নানা অজানা রহস্য। আমাদের প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়া মঙ্গল গ্রহের একটি উল্কাপিণ্ডে মূল্যবান খনিজ পাওয়ার দাবি করেছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা উল্কাপিণ্ডটি ভেঙে অপ্রত্যাশিতভাবে মূল্যবান খনিজ গার্নেটের কণা পাওয়া গেছে। মঙ্গল গ্রহের কোনো নমুনায় এবারই প্রথম এই খনিজের সন্ধান মিলল। উল্কাপিণ্ডটি বর্তমানে কানাডার রয়্যাল ওন্টারিও মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। পৃথিবীতে সাধারণত তীব্র তাপ, উচ্চ চাপ কিংবা রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গার্নেট তৈরি হয়। আর তাই এই গার্নেট কি সত্যিই মঙ্গল গ্রহে তৈরি হয়েছে কি না বা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা জানতে আগ্রহী বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে কানাডার ব্রক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী তানিয়া কিজোভস্কি বলেন, এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়াবে। গার্নেট যুক্ত এই নতুন ধরনের শিলা মঙ্গল গ্রহের ইতিহাসের পরিবর্তন সম্পর্কে সূত্র দিতে পারে। এটি প্রাচীন মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ বিষয়েও নতুন তথ্য জানাতে পারে। গার্নেট বলতে আমরা সাধারণত গাঢ় রক্ত-লাল রঙের একটি মূল্যবান রত্ন পাথর বুঝি। তবে মঙ্গল গ্রহের গার্নেটটি একদমই আলাদা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, অন্যান্য খনিজের মতো গার্নেট সব সময় চেনারূপে দেখা দেয় না। বিশেষ করে অ্যান্ড্রাডাইট নামের লোহাসমৃদ্ধ একধরনের গার্নেট রয়েছে, যা দেখতে হলদে-সবুজ বা জলপাই রঙের। উল্কাপিণ্ডে পাওয়া অন্যান্য সাধারণ খনিজের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এটি আলাদা করে চোখে পড়ে না। এই কারণে শুরুতে বিষয়টি প্রায় এড়িয়েই যাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে তানিয়া কিজোভস্কি বলেন, উল্কাপিণ্ডের এই ছোট অংশটি দেখতে খুব আকর্ষণীয় ছিল। এটির রাসায়নিক গঠনও ছিল কিছুটা অদ্ভুত। প্রথমে আমরা এটিকে পাইরোক্সিন নামের একটি সাধারণ খনিজ ভেবেছিলাম। পরে আমরা এটিকে আরও ভালো করে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। পরবর্তী বিশ্লেষণগুলো নিশ্চিত করে খনিজটি আসলে অ্যান্ড্রাডাইট। প্রায় ০.৮ বাই ০.৫ মিলিমিটার আকারের একটি ছোট শিলাখণ্ডে মাত্র কয়েকটি কণা পাওয়া গেছে। এই আকার একটি পোস্তদানার চেয়েও ছোট। এনডব্লিউএ ৮১৭১ নামের এই উল্কাপিণ্ডটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ অনেক আগে থেকেই। এটি মূলত একধরনের ব্যাসাল্টিক ব্রেসিয়া শিলা। শিলাটির গঠন কিছুটা ফ্রুটকেকের মতো। ব্যাসাল্ট অংশটি কেকের মূল মণ্ড হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য খনিজগুলো ড্রাই ফ্রুটস বা বাদামের মতো এর সঙ্গে মিশে থাকে। ব্যাসাল্ট এবং এর ভেতরের খনিজগুলোর কারণে এনডব্লিউএ ৮১৭১ মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে অনেক তথ্য জানাতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, উল্কাপিন্ডে থাকা গার্নেট ম্যাগমা থেকে তৈরি হতে পারে। অথবা এটি কোনো রূপান্তরিত রূপ হতে পারে। এ বিষয়ে তানিয়া কিজোভস্কি বলেন, পৃথিবীতে রূপান্তরিত শিলায় গার্নেট পাওয়ার ঘটনা খুব সাধারণ। রূপান্তর প্রক্রিয়াটি তীব্র তাপ, উচ্চ চাপ বা গরম তরলের সংস্পর্শে আগ্নেয় বা পাললিক শিলাকে নতুন রূপ দেয়। মঙ্গলে এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও চাপ তৈরি হতে পারে উল্কাপিণ্ডের আঘাতের ফলে। মঙ্গলের ভূত্বকের ভেতরে ম্যাগমা ওঠার ফলেও এটি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের গ্রহবিজ্ঞানী জেমস ডার্লিং বলেন, এই অনুসন্ধান মঙ্গল গ্রহের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণায় একটি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি আমাদের প্রতিবেশী গ্রহের বিবর্তন বোঝার জন্য একটি চমৎকার নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞান সাময়িকী জিওকেমিকেল পারসপেক্টিভস লেটার্সে এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ছাত্রদলের দুই নেতা। শনিবার (২০ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায় করা হয়। থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুন রাতে আখাউড়া পৌর শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাতুল ইসলাম তারেক এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক পলাশ মিয়া পৃথকভাবে অভিযোগ দুটি দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘Sabidul Islam Siam’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্যসংবলিত পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রিফাতুল ইসলাম তারেকের অভিযোগে স্থানীয় শাওন মিয়া ও আলী আজম অপুকে সাক্ষী করা হয়েছে। অপরদিকে পলাশ মিয়ার অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম, বাপ্পি আহম্মেদ ও রাবিকুল ইসলাম জাকারিয়া। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আখাউড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি, ছাত্রদল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, অভিযোগ দুটি গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দেশটিকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।’ মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান দূতাবাসের আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হার্টম্যান ও এফএফও’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে এই প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থনের জন্য জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এই ধরনের সফর জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথ উন্মুক্ত করবে। প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও সাক্ষাৎ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। জার্মান কর্মকর্তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নমূলক উদ্যোগসমূহ পরিদর্শনের জন্য কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা ঘুরে দেখেন।