‘শুনেছি ওই পোলাডা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তিনি এ এলাকায় কেন আইছেন।
আমার মনে হয়, তারে এইহানে মাইরা ফেলাইতে আনা হইছে। বাকি যেসব হুনছি সব সাজানো। তদন্ত করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বাইর হইব।’
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর বিষয়ে ঘটনাস্থল তুরাগ নদের পাশে দাঁড়িয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব বয়সী এক ব্যক্তি গতকাল রবিবার এসব কথা বলেন।
মাজার বস্তি এলাকায় ওই ব্যক্তিসহ অন্তত ৩৫ জনের সঙ্গে কথা হয় । তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন জানান, তাঁরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। যা জেনেছেন, ফেসবুকে দেখে জেনেছেন। পাঁচজন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার কেউ এখন কথা বলবে না।
জানলেও বলবে না। কথা বললে ঝামেলা হতে পারে। এই পাঁচজনের কথাবার্তা এমন, যেন তাঁরা কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন। আর বাকি ১৫ জন তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘এভাবে, এখানে তাঁরা কেন এলেন? সাধারণত মাদকের সঙ্গে জড়িত ছাড়া বাইরের কেউ রাতে এখানে আসে না।
গভীর রাতে তো প্রশ্নই আসে না।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে গতকাল কথা বলে জানা যায়, তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলার তদন্তে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। কিভাবে এবং কেন তিনি তুরাগপারে যান, তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ দীপ ওই রাতে কেন ওই বিপজ্জনক স্থানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন, মৃত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে জেরিকা তাসনিম দিশা নামের তরুণী কেন ছিলেন, তাঁকে কেউ পরিকল্পিতভাবে ওই এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য এখনো জানতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রিমান্ডে দিশা
পুলিশ বলছে, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষেণ করে গত শনিবার রাতে কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তাঁকে ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তাহসিফের সঙ্গে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়।
গতকাল বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁকে পুলিশি পাহারায় আদালতে তোলা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তদন্তের স্বার্থে তাঁর রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। ওই দিন রাতে ভিকটিম তাঁর গাড়িতে করে আসামি দিশাকে পৌঁছে দেওয়ার পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বন্ধু হিসেবে তাঁদের দেখা হতেই পারে। এ জন্য তো হত্যার সঙ্গে জড়িত বলা যায় না। সুতরাং তাঁর রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করছি।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর ডিএমপির উত্তরা থানায় তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ড আবেদনে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে মামলার ভুক্তভোগী তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার আগে গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ আসামির যাতায়াত এবং মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের প্রমাণ রয়েছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের সঠিক স্থান নির্ধারণ এবং আগে রিমান্ডে থাকা অন্য আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামির তথ্য ক্রস-চেক বা মিলিয়ে দেখার জন্য জেরিকা দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য ওই তরুণীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা করা হয়।
ঘটনাস্থলের দুটি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাত ১২টা ৫২ মিনিটের দিকে তাহসিফ সাউরি টঙ্গী মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে হেঁটে যাচ্ছেন। তাঁর পাশে হাঁটছিলেন কালো পোশাক পর আরেকজন ব্যক্তি। তাঁদের পেছনে হেলমেট হাতে হেঁটে যাচ্ছিলেন শাহরিয়ার রেজা দীপও। দীপের পাশে হাঁটছিলেন আরো দুজন। এই পাঁচজনকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে মাঠের দিকে যাওয়ার গলির একটি দোকান থেকে। এই ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে কালের কণ্ঠ।
তাহসিফ, দীপসহ অন্যরা এমনভাবে হাঁটছিলেন, যেন এ এলাকায় তাঁরা আগেও এসেছেন। যদিও সেখানে তাঁদের আগেও যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
একই স্থানের আরেকটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা রাত ১টা ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ওই মাঠের গলির দিক থেকে হেঁটে আসতে দেখা গেছে। এর ঠিক ১ মিনিট পর অর্থাৎ রাত ১টা ২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে শাহরিয়ার রেজা দীপ হাতে হেলমেট নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস রোড (আইআরআই) দিয়ে হাঁটছিলেন। যে সড়ক দিয়ে টঙ্গী বাজারের মূল সড়কে যাওয়া যায়। এ ফুটেজও কালের কণ্ঠের কাছে রয়েছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে দুটি সূত্র থেকে এসব ফুটেজ কালের কণ্ঠ সংগ্রহ করেছে।
ফুটেজে ওই মাঠের আশপাশে পুলিশকে দেখা গেছে—এমন তথ্য জানানোর পর টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই এলাকায় আমাদের থানা পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে। ওই রাতেও পুলিশ টহলে ছিল। তবে কোনো ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নৌ পুলিশ বলবে। যেহেতু তারা তদন্ত করছে।’
জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে দীপ কী বলেছেন সে বিষয়ে নৌ পুলিশের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীপ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি জায়গায় বসে ‘মাদক’ সেবন করছিলেন। এ সময় সেখানে আরো অনেকে ছিলেন। সে সময় দুজন পুলিশ সদস্যকে ভেতরে ঢুকতে দেখে তাহসিফসহ অনেকে দৌড় দেন। আর পিলারের কাছে গিয়ে পালান দীপ। এ পর্যায়ে পুলিশ তাঁকে দেখে ফেলেন এবং তাঁর কাছে জানতে চান, এখানে কেন এসেছেন? তখন দীপ তাহসিফের বিমানবাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে আসার কথা জানান। একপর্যায়ে দীপকে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বলেন পুলিশ। তখন দীপ বের হয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে গাড়ি নিয়ে তিনি ওই এলাকা ছাড়েন। এটা দীপের বক্তব্য। তবে তাঁরা সেখানে শুধু মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন—এটা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না। কারণ আমাদের অনুসন্ধান শেষ হয়নি। তবে এটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহসিফ-দীপের সঙ্গে আরো কেউ ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় তাহসিফ আর দীপই যান। সে সময় তাঁদের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন না। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর ডাক দিলে তো অনেকে আসতে পারেন। এসব বিষয় আরো বিস্তারিত তদন্ত হচ্ছে। আর তাহসিফের মৃত্যু কিভাবে হলো, সে ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এ প্রতিবেদক টঙ্গী মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে গত শনিবার রাতে দুবার প্রবেশ করেন। দুবার সেখানে বেশকিছু ব্যক্তিকে দেখা যায়, যাদের কাউকে কাউকে মাঠের মধ্যে বসে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে। আর কয়েকজন ব্যক্তিকে মাদক বিক্রি করতেও দেখা গেছে। ওই মাঠের শুরুতে ছোট একটি মসজিদ রয়েছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাসিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘মাঠের দিকে নামলে ফোন-ম্যানিব্যাগ নিয়ে ফিরতে না-ও পারেন। ভেতরে গেলে এসব রেখে যান। মাঠে যারা আছে, হয় মাদক কিনতে, সেবন করতে নতুবা বিক্রির জন্য আছে। এখানে রাতে একটাও ভালো মানুষ ঢোকে না।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহসিফ-দীপের ব্যাপারে কিছু জেনেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘নিউজে দেখলাম সব। ওরা এখানে কেন এসেছিলেন? এখানে তো মাদকের কারবার ছাড়া আর কিছু চলে না। হয় তাহসিফ মাদক নিতে এসেছিলেন অথবা তাঁকে ট্রাপে ফেলে এখানে আনা হয়েছে।’
মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠের গলির দিকে যাওয়ার আগে হাসু দোকানদার নামে পরিচিত এক চা-দোকানি বলেন, ‘এত রাইতে পোলাডা আইল। আবার নদীতে ঝাঁপ দিব ক্যান সে? তার বাপ কইছে সে সাঁতার জানে। ঘটনা কি ঘটছে বুঝতে পারছি না।’
দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত : তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এর আগে শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধু দীপের সম্পৃক্ততার বিষয় জানার চেষ্টা চলছে। রিমান্ডে তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।
রেজোয়ান বিশ্বাস ও মাসুদ রায়হান পলাশ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা স্বর্ণের ডিম কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে না পেরে পুনরায় আবুধাবিতে ফেরত নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম ওজনের ৬টি স্বর্ণের ডিম আটক করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ মিনহাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্লাইট থেকে অফলোড করা হয়। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যায়। পরবর্তীতে কাস্টমস গোয়েন্দার তৎপরতায় উক্ত যাত্রীর সহযোগিতায় ৩টি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। অপর একটি ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও ৩টি স্বর্ণের ডিম আটক করেন, যার ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্বর্ণের ডিমগুলো ইতোপূর্বে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় সেগুলো পুনরায় আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। স্বর্ণ চোরাচালানের এই ব্যতিক্রমী ঘটনায় নতুন প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে—বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণ দেশের বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হলে তা কি আবার বিদেশে পাচার করা হচ্ছে? কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার সময় কালবেলাকে তিনি বলেন, সাভার-আশুলিয়ায় দিনের বিভিন্ন সময় ১৭৭ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে, সাভারে সকালে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশুলিয়ার নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখেন। তারা কারখানার ভেতরে অবস্থান করে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের একাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ। এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ হবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, সড়ক পরিষ্কারের সময় পুলিশ ওই এলাকায় মনোযোগ দিয়েছিল। কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।