ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষ আবারও কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে।
বিক্ষোভের জেরে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকেরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষ আবারও কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। বিক্ষোভের জেরে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকেরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি, আর্থিক সচ্ছলতা ও পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি। কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালে প্রতারণার শিকার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আরও ২৮ দেশের নাগরিক। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের অনেককে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে কমিশন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন ও উজবেকিস্তানসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণামূলক বা জবরদস্তিমূলকভাবে নিয়োগের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা সবাই ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্টদের সহায়তায় মানব পাচারের সঙ্গে রুশ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জোরালো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিশন। এ ছাড়া ইউক্রেনের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করেছে তদন্ত কমিশন। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণের কথা উল্লেখ ছিল। নথিপত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য বেসামরিক হিসেবে দেখানো হলেও এর আড়ালে রুশ সামরিক বাহিনীতে লোক নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নিয়োগকারী এজেন্সির মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পেশায় চাকরির প্রলোভন দেখানো হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেকের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়। ভাষা বুঝতে না পারা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেকে চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এক বাংলাদেশির স্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। প্রচণ্ড চাপের মুখে তাঁর স্বামীর সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী রিমেল মিয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ভালো চাকরির আশায় তিনি ২০২৫ সালের মার্চে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে নির্মাণকাজের চাকরি পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে প্রত্যাশিত স্থায়ী কর্মসংস্থান না পাওয়া এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়েন রিমেল। পরে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। সে সময় তিনি যুদ্ধের সম্মুখসারিতে মোতায়েন ছিলেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে তিনি যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন। রিমেল মিয়ার ঘটনা বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় যাওয়া বাংলাদেশিদের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত প্রতারণা নয়, বরং মানব পাচার ও জবরদস্তিমূলক নিয়োগের গুরুতর প্রশ্নও তৈরি করে। বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, ভিসার ধরন, কাজের প্রকৃতি এবং চুক্তির শর্ত যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও নিয়োগপত্রের তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রাশিয়ায় চাকরির নামে বাংলাদেশিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভুক্তভোগীদের সংখ্যা এবং তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পদক্ষেপও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজধানীর শ্যামলীতে অটোরিকশায় যাত্রার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে শিশুমেলার বিপরীত পাশে খিলজি রোডের মোড়সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাই হওয়া ব্যাগে নগদ ৩৫ হাজার টাকা, একটি আইফোন, একটি ভিভো মুঠোফোন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি ডেবিট কার্ড, একটি হাতঘড়ি ও অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিস ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর হাতের একটি আঙুলেও আঘাত লেগেছে। ভুক্তভোগী কাকলি আক্তার নুপুরের স্বামী শাহজাহান আকন্দ শুভ এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার দিয়েছেন। তিনি দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জ্যেষ্ঠ ক্রাইম রিপোর্টার। এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কাজে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় এসবি পরিবহনের বাসে কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা ছিল কাকলি আক্তার নুপুরের। এ উদ্দেশ্যে সকালে স্ত্রীকে নিয়ে আজিমপুরের নিউ পল্টন এলাকার বাসা থেকে অটোরিকশায় কল্যাণপুরের দিকে রওনা হন শাহজাহান আকন্দ। পথে সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাদের অটোরিকশাটি শ্যামলীর খিলজি রোডের মোড়সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি নুপুরের হাতে থাকা ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে যান। পরে তারা দ্রুত শ্যামলীর দিকে চলে যান। শাহজাহান আকন্দ জানান, ছিনতাইকারীদের পিছু নিলেও তারা শ্যামলী স্কয়ার মার্কেটের আগের একটি গলি দিয়ে পালিয়ে যান। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে কুষ্টিয়াগামী বাসে যাত্রা বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নিতে তারা মোহাম্মদপুর থানায় যান। তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলটি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।