গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় হাসপাতালে একজনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬১২ জন নিহত ও ১,৬৪০ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২,০৭০ জনে এবং আহত ১,৭১,৭৩৮ জন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে আনাতা শহরে অভিযানে কয়েকটি যানবাহন জব্দ করেছে। রামাল্লা জেলার আল-মুগাইয়্যির এলাকায় অভিযানের সময় বাড়িঘরের দিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। আল-খলিলের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে রামাল্লার পূর্বে রুম্মোন ও দেইর দিবওয়ান শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ও কৃষি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে প্রায় ৮৮০টি ফিলিস্তিনি পরিবার অর্থাৎ ৪,৭০০-র বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন ব্যাপকভিত্তিক নির্দেশিকা জারি করেছে সৌদি আরব। ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজানে ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে ইবাদত পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ দিনে যখন লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, তখন গ্র্যান্ড মসজিদের চারপাশের কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা ও নির্ধারিত পথ অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মক্কার এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে এবার ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। মসজিদের প্রবেশপথে থাকা ডিজিটাল নির্দেশকগুলো মুসল্লিদের নামাজের স্থানের প্রাপ্যতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দেবে, যেখানে সবুজ সংকেত থাকলে প্রবেশ করা যাবে এবং লাল সংকেত দেখলে বুঝতে হবে নির্দিষ্ট স্থানটি পূর্ণ হয়ে গেছে। যানজট নিরসনে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে ওমরাহ যাত্রীদের জন্য পাবলিক বাস, ট্যাক্সি এবং হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে বিশেষ পার্কিং ও শাটল সার্ভিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পথচারী চলাচল এলাকায় মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল বা যেকোনো অননুমোদিত যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবেশপথ, করিডর এবং জরুরি বহির্গমন পথে ভিড় না করতে এবং নামাজ শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অন্যদের সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে। বয়স্ক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা নামাজের জায়গা, অগ্রাধিকারভিত্তিক পথ এবং ইলেকট্রিক কার্ট সুবিধা। ভিড় এড়াতে ছোট শিশুদের সঙ্গে না আনারও পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওমরাহ পালনকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে এবং আবাসনস্থলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের অতিরিক্ত ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পারমিট গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে পালনের কথা বলা হয়েছে। গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত কেনাবেচা এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং যেকোনো সন্দেহজনক আচরণ নজরে এলে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করায় যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তার উপদেষ্টাদের একাংশ ভিন্ন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের চাওয়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় বিশেষ করে অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী তা তিনি জনসমক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কড়া ভাষণের পরও প্রশাসনের ভেতরে ইরানে হামলার পক্ষে এখনো ‘একক সমর্থন’ নেই। উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে অর্থনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অনিশ্চিত ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি আমেরিকান জনগণের জন্য সরাসরি সাফল্য এনে দিয়েছে। তার সব পদক্ষেপই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ। রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচন ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না তা নির্ধারণ করবে। ডেমোক্র্যাটরা এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রেসিডেন্টের শেষ মেয়াদে নীতিনির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। রিপাবলিকান কৌশলবিদ রব গডফ্রে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ইরান সংঘাত ট্রাম্প ও তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকভিত্তি ঐতিহ্যগতভাবে বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার বিপক্ষে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ অবসানের কথা বলেছিলেন। গত মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ঘরানার অনেকেই সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ইরান তুলনামূলকভাবে অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। ফলে এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ট্রাম্প শুক্রবার আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান ‘ন্যায্য চুক্তিতে; না এলে ফল ভুগতে হবে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ইরান কঠোর জবাবের হুমকি দেয়। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানে জয়ী হন। এ সময়ে তিনি মুদ্রাস্ফীতি কমানো ও ব্যয়বহুল বিদেশি সংঘাত এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাতে তিনি এখনো ভোটারদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেননি। রিপাবলিকান কৌশলবিদ লরেন কুলি জানান, হামলা যদি সীমিত ও দ্রুত ফলদায়ক হয়, তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেন। তবে যে কোনো পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে। ট্রাম্প সম্ভাব্য হামলার কারণ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি ইরানে বিক্ষোভ দমনের কঠোরতার প্রতিক্রিয়ায় হামলার হুমকি দিলেও পরে সরে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি তুলেছেন এবং কখনও কখনও ‘শাসন পরিবর্তনের’ কথাও বলেছেন। তবে বিমান হামলা কীভাবে সেই লক্ষ্য পূরণ করবে, তা পরিষ্কার নয়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেন। কিন্তু ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনা শেষে তারা কয়েক দিনের মধ্যেই একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুত করবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, চলতি সপ্তাহে জেনেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু মৌলিক ‘নির্দেশক নীতিমালা’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে খুব শিগগিরই চুক্তি সই হচ্ছে। আরাকচি মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক এমএস নাওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, সামরিক পদক্ষেপ নিলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়বে। এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তেহরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে চুক্তিতে না পৌঁছালে ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার তিনি বলেন, সীমিত হামলার কথা তিনি ‘বিবেচনা করছেন’। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তাদের একটি ন্যায্য চুক্তিতে আসাই ভালো। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য হামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা বা তেহরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে বিষয়টি ট্রাম্পের নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল। এরও আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবারও হামলার হুমকি দেন। এ সময়ে তেহরান ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, অল্প সময়ের মধ্যে ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, তার হুমকির পর ইরান গণফাঁসির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৭,১১৪টি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত করেছে। এছাড়া আরও ১১ হাজার ৭০০টি ঘটনা পর্যালোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইরান সরকার ইতোমধ্যে অস্থিরতায় নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আমাদের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে কারও সন্দেহ থাকলে প্রমাণসহ কথা বলুন।