রাজ্যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চালু করেছিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য। একাধিক বিধানসভায় ভোটার তালিকায় নামে গরমিল থাকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আসন থেকে হাজার হাজার ভোটার বাদ পড়েছে। তবে সর্বোচ্চ নাম বাদ যাওয়া ২০ আসনে মধ্যে তেরোটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হয়েছে ছয়টি, একটিতে জয় পেয়েছে কংগ্রস।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ উঠেছিল। এসআইআর পরিসংখ্যান প্রকাশ হওয়ায় যেন সব বিতর্কে জল ঢেলে দিয়েছে।
এসআইআর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সামশেরগঞ্জ বিধানসভা আসনে ভোটার তালিকা থেকে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম বাদ গেছে। এই আসনে তৃণমূল জিতেছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে।
সামশেরগঞ্জ ছাড়াও এসআইআরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে লালগোলা (বাদ ৫৫ হাজার ৪২০), ভগবানগোলা (বাদ ৪৭ হাজার ৪৯৩), রঘুনাথগঞ্জ (বাদ ৪৬ হাজার ১০০), মেটিয়াবুরুজ (বাদ ৩৯ হাজার ৫৭৯), সুতি (বাদ ৩৭ হাজার ৯৬৫)। এর সবকটিতেই জিতেছে জোড়া ফুল।
অন্যদিকে এসআইআরে সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রও। সেখানে এসআইআরে ৩৮ হাজার ২২২ নাম বাদ পড়েছে।ওই আসন জিতেছে কংগ্রেস।
তবে শুধু তৃণমূল কিংবা কংগ্রেস নয়। বিজেপির দখলেও রয়েছে এমন কিছু আসন। যেখানে এসআইআরে অনেক নাম বাদ পড়েছে। মানিকচক আসনে এসআইআরে ২৩ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়ে।
আসনটিতে অল্প কিছু ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে কেতুগ্রামে সাম্প্রতিক এসআইআরে ২৬ হাজার ৭৮০ নাম বাদ পড়েছে, বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ সেই আসনে জিতেছেন ২৭ হাজার ৬১০ ভোটে।
পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে আরো চমকপ্রদ তথ্য। ১৮৭টি আসনে যেখানে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তারমধ্যে ১১৯টিতে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবিরি। আর তৃণমূল জিতেছে ৬৫টিতে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১৮৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়েও দ্বিগুণ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদ পড়া ভোটাররা থাকলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত। দেখা গিয়েছে, ১১৯টি আসনে বিজেপি জিতেছে যার মধ্যে ২৮টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। এর মধ্যে আবার ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআরয়ে এত বেশি ভোটার বাদ না পড়লে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে চীন।এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) হামলার ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। খবর আলজাজিরার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় এমন কোনো পদক্ষেপেরই বিরোধিতা করে চীন।’ তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত। পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ ও অসামরিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দিতে হবে। লিন জিয়ান জানান, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, যাতে সংঘাত আর না বাড়ে এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে। সোমবার ইউএই দাবি করে, ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চলে আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটাই প্রথম এমন ঘটনা। তবে ইউএইর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরান বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার চীন সফরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও দেশটিতে সফরের কথা রয়েছে। তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থানকালে আরাগচি তার চীনা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও শিগগিরই চীন সফরের কথা রয়েছে।তিনি আগামী ১৪ মে থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এক শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এসব নির্বাচন লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও বামপন্থী পপুলিস্টদের উত্থানও সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে স্থানীয় ভোটে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটানোর পর, এটিই প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার ফল শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর হবে। এক অডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘শত্রুপক্ষ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে খুবই আশাবাদী। তারা আবারও ভুল তথ্য পেয়েছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত সবাইকে দিতে হবে।’ এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে রুটি, শস্য, তেল ও চর্বিজাতীয় পণ্যের মূল্য। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ আরোপের পর ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে। এতে তেল রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। গালিবাফ দাবি করেন, এটি সরাসরি সামরিক যুদ্ধ নয়; বরং ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পিত কৌশল। তিনি জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড শত্রুর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বার্থে ইরানের জনগণ সব ধরনের চাপ মোকাবিলা করবে।’ সূত্র : শাফাক নিউজ