ব্রাজিল জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো মনে করেন, তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিকই হতে পারেন সেলেসাওদের আগামী দিনের অন্যতম প্রধান ভরসা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে মাঠে না নামালেও এই ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। চোটের কারণে সেই ম্যাচে ছিলেন না দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তার অনুপস্থিতিতে ভিনিসিউস জুনিয়র গোল করলেও আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মরক্কোর বিপক্ষে আক্রমণের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে এন্দ্রিকের নাম। সুযোগ না পেলেও তার প্রতিভা নিয়ে আশাবাদী দানিলো।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এন্দ্রিক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের একটি দুর্লভ রত্ন। সে শক্তিশালী এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সে একজন তারকা, আর আমরা তাকে আরও বড় ভূমিকায় দেখতে চাই।’
শুধু তাই নয়, জাতীয় দলে প্রজন্ম পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে এনেছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। তার ভাষায়, ‘কাসেমিরো, নেইমার এবং আমার জন্য হয়তো এটাই শেষ সুযোগ। ভবিষ্যতে এই নতুন প্রজন্মকেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা চাই তরুণরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করুক। এন্দ্রিক খুব দ্রুতই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।’
২০২৩ সালে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় এন্দ্রিকের। জাতীয় দলের হয়ে তৃতীয় ম্যাচেই প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর টানা তিন ম্যাচে গোল করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
মরক্কোর বিপক্ষে তাকে মাঠে দেখা না গেলেও গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে এন্দ্রিক সুযোগ পান কি না, সেদিকেই এখন নজর ব্রাজিল সমর্থকদের। শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যা বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে আসছে এক স্মরণীয় দিন। রোববার (২১ জুন) মেক্সিকোর মন্টেরি স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ এফ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে তিউনিসিয়া ও জাপান। আর এই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ। ২০২৬ সালের বর্ধিত এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরেই স্পর্শ করবে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন রোমানিয়ান রেফারি ইস্তভান কোভাকস। তার সহকারী হিসেবে থাকছেন ফেরেনজ তুনিয়োগি এবং মিহাই মারিকা। এছাড়া চতুর্থ অফিসিয়াল এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কোস্টারিকার জুয়ান ক্যালডেরন এবং জুয়ান কার্লোস মোরা। এই বিশেষ মুহূর্তটি উদযাপনের জন্য ম্যাচ পরিচালনাকারী সকল অফিসিয়াল একটি বিশেষ ‘অ্যাডিডাস’ কিট পরিধান করবেন, যার হাতা বা স্লিভে সোনালী স্ট্রাইপ এবং একটি ‘ম্যাচ ১০০০’ প্যাচ থাকবে। ফিফার প্রধান রেফারিং অফিসার পিয়েরলুইগি কলিনা জানিয়েছেন, কোভাকসকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই ম্যাচের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, আর এই মাইলফলকটি ম্যাচটিকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচটি ২০০২ সালের বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও জাপানের লড়াইয়ের স্মৃতিকেও ফিরিয়ে আনছে। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল এবং ১৮টি ম্যাচ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ফিফা বিশ্বকাপ। সেই শুরু থেকে আজ ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে পরিণত হয়েছে। সেই দীর্ঘ পথচলার এক মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব।
লাইভ সম্প্রচারে ভুল তথ্য প্রচার করে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা ফ্লোরেনসিয়া পেনা। শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনার জেরে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে একটি লাইভ স্পোর্টস শো চলাকালে। বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ চলার সময় মাঠে লিওনেল মেসিকে আবেগঘন অবস্থায় দেখা গেলে নানা আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় উপস্থাপিকা দাবি করেন, মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন, যার কারণে মেসি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই তথ্য দ্রুতই ভুল প্রমাণিত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হোর্হে মেসি জীবিত আছেন এবং তিনি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করা হয়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। যাচাই ছাড়া এমন সংবেদনশীল খবর প্রচারের কারণে উপস্থাপিকা ও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন ফ্লোরেনসিয়া পেনা। তিনি জানান, লাইভ সম্প্রচারের সময় প্রযোজনা দলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে ভুল তথ্য প্রচারের দায় তিনি স্বীকার করেন। তীব্র বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত তিনি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে পদত্যাগ করেন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষও জানায়, যাচাই ছাড়া এমন সংবেদনশীল তথ্য প্রচার তাদের নীতিমালার পরিপন্থী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার পর মেসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়, যদিও পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হয় তিনি শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে তার বাবার মৃত্যুর খবর সঠিক নয়।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে কানাডা। জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনাও আরও জোরালো করেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশটি। ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। প্রথম আধা ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই দুই গোল হজম করে এবং একজন খেলোয়াড় হারিয়ে চাপে পড়ে কাতার। বিরতির আগেই আরও একটি গোল হজম করে এশিয়ার দলটি। ঘটনাবহুল ম্যাচে অনেকটা সময় ৯ জন নিয়ে খেলতে হয় কাতারকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও তিন গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে কানাডা। দলের হয়ে তিনটি গোল করেন জোনাথন ডেভিড। এছাড়া অন্য দুই গোলদাতা হলেন কাইল ল্যারিন ও ন্যাথান সালিবা। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ডেভিড একটি অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন। ছয় দশকের মধ্যে প্রথম স্বাগতিক দেশের ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।