ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মানের সাবেক তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের একটি শ্রম আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া এই রায়ে আদালত জানান, পিএসজির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী এমবাপ্পে তিন মাসের বকেয়া বেতন এবং সাইনিং বোনাস পাওয়ার অধিকারী।
আদালত উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ফরাসি পেশাদার ফুটবল লিগ—এলএফপি—এই পাওনাগুলোর দাবি স্বীকৃতি দিয়েছিলো। পাশাপাশি, এমবাপ্পে বকেয়া বেতনের অর্থ পাওয়ার যোগ্য নয়—এমন কোনো চুক্তির প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি পিএসজি। এছাড়াও এমবাপ্পের বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানি’র পাল্টা অভিযোগও করেছিলো ফরাসি ক্লাবটি।
এ কারণে ক্লাবটির সেই যুক্তি খারিজ করে দেন বিচারকরা। ফ্রান্সের শ্রম আদালত গতকাল নির্দেশ দিয়েছেন, ডিএসজি যেন এমবাপ্পের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে।
রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমবাপ্পের আইনজীবী ফ্রেদেরিক ক্যাসেরো। তিনি বলেন, বেতন পরিশোধ না করার কারণে এমন রায়ই প্রত্যাশিত ছিল।
এক বিবৃতিতে এমবাপ্পের আইনজীবী দল জানায়, এই রায় প্রমাণ করে—চুক্তির মাধ্যমে নেওয়া অঙ্গীকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। পেশাদার ফুটবল অঙ্গনেও শ্রম আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে আর মাত্র আট উইকেট পেলেই দুর্দান্ত এক মাইলফলক স্পর্শ করবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার সুনীল নারাইন। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মালিক হয়ে যাবেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। এক যুগ আগে গায়ানা থেকে আসা সেই উষ্কখুষ্ক চুলের 'মিস্ট্রি স্পিনার' যখন প্রথম কেকেআরের বেগুনি-সোনালি জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন, কে জানত তিনিই হয়ে উঠবেন কলকাতার ঘরের ছেলে। টানা ১৫ মৌসুম একই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। আইপিএলের এই যুগে, যেখানে দল বদলানো প্রায় নিয়ম, সেখানে কেকেআরের সঙ্গে নারাইনের এ সম্পর্ক একটু আলাদা। অভিষেক মৌসুমেই ২৪ উইকেট নিয়ে কেকেআরকে এনে দিয়েছিলেন প্রথম শিরোপা। অবিচল নারাইন এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। গৌতম গম্ভীর থেকে শুরু করে দীনেশ কার্তিক, এউইন মরগান, শ্রেয়াশ আইয়ার হয়ে এখন আজিঙ্কা রাহানে—অধিনায়ক বদলেছে বারবার। কিন্তু নারাইন আছেন অবিচল। ১৮৯টি ম্যাচ খেলেছেন কলকাতার হয়ে, যেখানে ক্লাবের অন্য কোনো খেলোয়াড় ১৫০-এর গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। এরই মধ্যে বল হাতে নিয়েছেন ১৯২টি উইকেট, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন একবার, সাতবার চার উইকেট। শুধু কি বল হাতে? ব্যাট হাতেও তিনি বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করেছেন বহুবার। ১২২ ইনিংসে করেছেন ১৭৮০ রান। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও সাতটি ফিফটি। অপেক্ষমাণ মাইলফলক এই মৌসুমে বল হাতে আর মাত্র আটটি উইকেট পেলেই প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে আইপিএলে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন নারাইন। আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে মাত্র একজনই এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন—ভারতের স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল (২২১ উইকেট)। ভুবনেশ্বর কুমারও ১৯৮ উইকেট নিয়ে এই তালিকার খুব কাছে। কিন্তু কোনো বিদেশি বোলার যা করতে পারেননি, নারাইন এবার হয়তো সেটাই করে দেখাবেন। একসময় আইপিএলে বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো। ১৮৩ উইকেট পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার এবার থাকছেন কলকাতায়, তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, পরামর্শক হয়ে। ২৯ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ আইপিএল অভিযান শুরু করবে কেকেআর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাইমা রহমানের ফুটবল অনুরাগ এবং চেলসির বয়স-ভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত আমার একটি আলোচনাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় গোলরক্ষক আমিনুল হক। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি । পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে স্পষ্ট করতে চাই যে, আমার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি তার ক্রীড়া প্রতিভার বিষয়টি তুলে ধরা। এটি একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা ছিল, যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কোনো অবকাশ নেই।’ পোস্টে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘একটি ব্যক্তিগত বক্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন বা অপব্যাখ্যা না করার জন্য। তথ্যগত বিভ্রান্তি বা আমার বক্তব্যে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (ডব্লিউসিএল) টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় এবারের আসরে প্রতিযোগিতা আরও জমজমাট হওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। এর আগে এই টুর্নামেন্টে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে দল অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে। ক্রিকেটের অবসরপ্রাপ্ত কিংবদন্তিদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলের মতো তারকারা আগের আসরগুলোতে খেলেছেন। আয়োজকদের আশা, বাংলাদেশের যোগদানে ২০২৬ আসরে প্রতিযোগিতার মান আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দর্শকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে প্রচারিত ডব্লিউসিএল অল্প সময়েই বড় দর্শকশ্রেণি তৈরি করেছে। উদ্বোধনী আসর দেখেছেন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি দর্শক, আর দ্বিতীয় আসরে দর্শকসংখ্যা ছিল ৪২৩.১ মিলিয়ন, যা টুর্নামেন্টটির বৈশ্বিক প্রসারকে আরও স্পষ্ট করেছে। ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হার্শিত তোমর বলেন, গত দুই বছর ধরে সমর্থকদের অনুরোধের পরই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের প্রতিনিধিত্বকারী জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই সিদ্ধান্তকে দেশের ক্রিকেটভক্তদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সমর্থকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে। দলের সহ-মালিক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ডব্লিউসিএল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। এই টুর্নামেন্টকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, এতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। টুর্নামেন্টের জন্য আমরা বাংলাদেশের সব কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে চাই।’ ইতোমধ্যেই সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ও মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সে খেলতে সম্মতি দিয়েছেন। দলের শক্তি বাড়াতে আরও কয়েকজন পরিচিত তারকাকে দলে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাদেক। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ফলে আসন্ন ডব্লিউসিএল আসরটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।