জাতীয়

এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

ভোক্তা পর্যায়ে জুলাই মাসে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। এর ফলে এলপিজির দাম বাড়বে নাকি কমবে তা জানা যাবে।


বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী জুলাই মাসে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।


আরো বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহীদ প্রকৌশলী ভবনের (ষষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হবে।


এলপিজির নতুন দর ঘোষণা-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর আগে সর্বশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।


সেই সঙ্গে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’: শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল বাংলাদেশ

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পৃথকভাবে রাজ্য দুটিতে ১১০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমের চালান দুটি ভারতে যায়। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে এসব আম হস্তান্তর করা হয়েছে। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম। জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই মিশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে মোট ১১০০ কেজি আম। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১০০ কেজি করে আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৯০০ কেজি আম রাজ্য দুটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশের এই ‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার

‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো.আলী হোসেন ফকির

পূর্বাচলে ৪ থানা, ৬ তদন্ত কেন্দ্র ও ৪১ পুলিশ বক্স করার ঘোষণা আইজিপির

ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে মাঠে সরকারি ও বিরোধী দল

সংগৃহীত ছবি
নতুন পোশাকে দায়িত্বে ফিরলো পুলিশ সদস্যরা

গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরল বাংলাদেশ পুলিশ। সংস্কারের অংশ হিসেবে ৫ আগস্টের পরই পোশাকে পরিবর্তন আনা হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর আজ বুধবার (১ জুলাই) নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। এদিন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে গাঢ় নীল শার্টে ও খাকি প্যান্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে নতুন পোশাক পরছেন পুলিশ সদস্যরা। এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছেনি নতুন পোশাক। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন। যারা পেয়েছেন তারা নতুন ইউনিফর্মেই দায়িত্ব পালন করছেন।   এখানে উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। উঠে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবিও। গত বছর ২০ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের রং আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর করা হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পোশাকের রং নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠে। গত ১৮ জুন পোশাকের রং পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্টিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়।  নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।   প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।   প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৮০ কোটি টাকায় নির্মিত ওএসএস ভবনের উদ্বোধন, আধুনিক সেবায় এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা, যে আন্দোলন পরে রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে

ছবি: সংগৃহীত

ধাওয়া খেয়ে কচুরিপানার নিচে আত্মগোপন, সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ধরা পড়লেন চোর

ছবি: সংগৃহীত
সৌরবিদ্যুতের প্রতি মেগাওয়াটে বছরে ৫ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়: গবেষণা

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক সংগঠন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। সংগঠনটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা হ্রাসের মাধ্যমে এই সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।   রোববার প্রকাশিত গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত আট বছরে দেশের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে মোট ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি প্রায় ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। ফলে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটিরও বেশি টাকা।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই দিচ্ছে না, পরিবেশ সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে প্রায় ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ এবং ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করছে।   গত আট বছরে দেশের বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর দূষণকারী পদার্থ নির্গমন এড়াতে সক্ষম হয়েছে। এসব দূষণের মধ্যে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সূক্ষ্ম বস্তুকণা, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, যা বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিগুলোর একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, যেখানে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা।   ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তার মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অন্যতম কার্যকর উপায়।   গবেষণা প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ, নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ, অনাবাদি সরকারি জমিতে বিশেষ সৌর অঞ্চল গড়ে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং সৌর সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভৈরবে মেঘনা নদী থেকে বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল - প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হলি আর্টিজান হামলা মামলা: আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় সাত দণ্ডিতের ভাগ্য

0 Comments