অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। সে সময় কারাগারে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন তথ্য পৌঁছাত না। তবে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত কারাগারে পৌঁছালে সেখানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার তাকে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’—এই দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণার মূল লক্ষ্য।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইন সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
শীতলপাটি ও মৃৎশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে পারলে মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল। ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’—বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই যমজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুর নাম মো. হুজাইফা ও মো. আকরাম। তাদের দুজনেরই বয়স দুই বছর। নিহত শিশুরা ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. আক্কাস মিয়ার ছেলে। দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ির বাইরে ফুটবল খেলছিল দুই শিশু। একপর্যায়ে তাদের বলটি পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। বল আনতে গিয়ে দুই ভাই পানিতে পড়ে ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পুকুরপাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক পথচারী পানিতে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা শিশু দুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। থানায় অভিযোগ করেনি পরিবার ঘটনার বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় নিহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি। দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেরকুটা গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
কলোনি বা বস্তির কথা মনে এলেই চোখে ভেসে ওঠে ঘিঞ্জি ঘরবাড়ি, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অপরিচ্ছন্ন রাস্তা আর দুর্গন্ধময় পরিবেশের ছবি। তবে সেই চেনা চিত্র বদলে দিয়ে এবার আলোচনায় এসেছে ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনি। কয়েকজন তরুণের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই সবুজ কলোনির ছবি নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও। তিনি ছবিটি পাঠিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কাছে। এরপর কলোনিটি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। একসময় অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধের জন্য পরিচিত বাঁশবাড়ি কলোনি এখন ফুলে-পাতায় সাজানো সবুজের ঠিকানা। রাস্তার দুই পাশের দেওয়ালজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ভার্টিক্যাল গার্ডেন। তারকাঁটার সঙ্গে ঝুলছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার গাছ। কোথাও জবা, কোথাও হাসনাহেনা, জুঁই ও বেলি; রয়েছে বাগানবিলাসসহ নানা ফুল, ফল ও ভেষজ গাছ। গাছের পাশে ঝুলছে ছোট্ট বার্তা, ‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে।’ শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ গাছের পরিচর্যায় অংশ নিচ্ছেন। বাঁশবাড়ি কলোনির এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন চার বন্ধু মুরাদ হোসেন কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম দাস। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং রাস্তার উন্নয়নকাজের পর এলাকাটিকে আরও সুন্দর করার চিন্তা আসে তাদের মাথায়। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় গাছ লাগানোর উদ্যোগ। উদ্যোক্তা মুরাদ হোসেন কানন জানান, আগে কলোনির রাস্তা নিচু ছিল। ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াত। রাস্তা সংস্কারের পর তারা ভাবেন, এলাকার পরিবেশ সুন্দর করা গেলে শিশুরাও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে গাছ লাগানো শুরু করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কানন বলেন, ফুলের পাশাপাশি ফলজ ও ভেষজ গাছও লাগানো হয়েছে। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন বাগান থেকে ফুল নিয়ে পূজায় ব্যবহার করতে পারেন, সেই বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রেখেছেন। নিজেদের অর্থায়ন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চলছে গাছের পরিচর্যা। কোনো গাছ নষ্ট হলে আবার লাগানো হচ্ছে। উদ্যোক্তা উত্তম দাস বলেন, চার বন্ধু মিলে এলাকাটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। এখন বাইরের মানুষ এসে বাগান দেখে প্রশংসা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও গাছের যত্ন নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সৌন্দর্য ধরে রাখা এবং এলাকাটিকে আরও সুন্দর করে তোলা। স্থানীয় বাসিন্দা সিমা রানী জানান, আগে এলাকার পরিবেশ অনেক খারাপ ছিল। এখন সবাই মিলে বাড়ির সামনের গাছগুলোতে পানি দেন ও পরিচর্যা করেন। এতে বাড়ির সামনের জায়গার পাশাপাশি পুরো এলাকার পরিবেশও সুন্দর হয়েছে। একসময় যে কলোনিকে অনেকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন, এখন সেই এলাকার পরিবর্তন দেখে প্রশংসা করছেন। অন্য কলোনিতেও সবুজায়নের পরিকল্পনা বাঁশবাড়ি কলোনির এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলোনির সবুজায়নের ছবি পরিবেশমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ লাগালেও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরিতে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানান, নগরের অন্য কলোনিগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কেও ফুলের টব বসানো, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশবাড়ি কলোনির ছবি পাঠানোর পর তিনি উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। মানুষ নিজের বসবাসের জায়গাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তুলতে চাইলে অন্য এলাকাগুলোকেও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ উন্নয়নে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাঁশবাড়ির মতো উদ্যোগ অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বসবাসের পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সম্মিলিত উদ্যোগে বদলে যাওয়া এক কলোনি বাঁশবাড়ি কলোনির পরিবর্তন শুধু দেওয়ালে গাছ লাগানো কিংবা ফুলের বাগান তৈরির গল্প নয়। এটি নিজেদের এলাকা নিজেরাই বদলে দেওয়ার এক সম্মিলিত প্রয়াস। চার তরুণের ভাবনা বাস্তব রূপ পেয়েছে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে। গাছ লাগানো, পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া গাছ আবার লাগানো সবকিছুতেই রয়েছে স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা। একসময় দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত বাঁশবাড়ি এখন পরিচিত হচ্ছে ‘সবুজ কলোনি’ নামে। প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসা এই উদ্যোগ নগরের অন্যান্য কলোনিতেও সবুজায়নের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় মানুষের সদিচ্ছা, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে বসবাসের পরিবেশ বদলে দেওয়া সম্ভব, বাঁশবাড়ি কলোনি তারই একটি উদাহরণ।
ভিডিও সম্পাদনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ভিন্ন একটি ভিডিওতে সংযুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিও সম্পাদনা করে পানিসম্পদমন্ত্রীর নামে অপপ্রচার করা হচ্ছে। মন্ত্রী মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে দেওয়া বক্তব্যকে নিয়ে সম্পাদনা করে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার শনাক্ত করা হয়েছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে। ‘বাংলাফ্যাক্ট’ হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে তথ্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।