একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের মতোই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রস্তুতি দেখতে এসে এ কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কয়েক দিন আগে নির্বাচন হয়েছে, কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটেনি। আশা করছি, এখানেও হবে না।
কমিশনার বলেন, কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক। ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে শহীদ মিনারসহ আশপাশ এলাকায়।
তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং, শহীদ মিনার রোড ব্যবহারের অনুরোধ, অন্যকোনো রোড দিয়ে আসা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়েল চত্বর কিংবা চাঁনখানপুল দিয়ে বের হতে হবে।’
শহীদ মিনারে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু কিংবা দাহ্য পদার্থ বহন না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
এ সময় র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে থাকবে বোম্ব ডিস্পোজাল, সিসিটিভি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াডসহ নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ বছর ১৬ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাড়ে সাত শতাধিক যানবাহন মাঠে নামানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য পরিবহন শুরু করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথম দিনের সব বর্জ্য রাত সাড়ে নয়টার মধ্যে, অর্থাৎ আট ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দিন বেলা দুইটায় মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনের সিরামিকস রোড এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির কর্মকর্তারা। এই কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ঢাকা উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ বলছে, বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯০ জন কর্মী কাজ করবেন। এর মধ্যে ডিএনসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৬ হাজার ১৬৫ জন, ভ্যান সার্ভিস কর্মী ৪ হাজার ৫০০ জন এবং স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ জন। এ ছাড়া প্রতিটি পিকআপ ভ্যানে ৩ জন করে ২৭৫টি পিকআপে মোট ৮২৫ জন অতিরিক্ত কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার করা হবে মোট প্রায় ৭৫২টি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে রয়েছে ৫৮টি কম্পেক্টর ট্রাক, ২২০টি ডাম্প ট্রাক, ৩২৯টি পিকআপ, ৩২টি কনটেইনার ক্যারিয়ার, ১০টি খোলা ট্রাক ও ১০টি পানির গাড়ি। পাশাপাশি ৪৩টি পে-লোডার, ৯টি ব্যাকহো-লোডার, ৯টি চেইন এক্সক্যাভেটর, ৭টি চেইন ডোজার, ৬টি স্কিড-লোডার ও ৬টি রোড সুইপার ব্যবহার করা হবে। দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন এবং স্প্রে-ক্যাননও। ডিএনসিসি জানিয়েছে, নগরবাসীর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার (৯০ হাজার কেজি), ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন সরবরাহ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বেলচা, টুকরি, কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য পৃথক ১০টি তদারকি দল গঠন করা হয়েছে। চালু রাখা হবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। প্রতিটি এলাকায় অস্থায়ী বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র নির্ধারণের পাশাপাশি বৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রস্তুত থাকবে ড্রেনেজ কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। সেখানে নতুন সংযোগ সড়ক ও দুটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নগরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এর মধ্যে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট স্থানে জমা করার কাজ শুরু করেছেন। তবে প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিরপুরের নির্ধারিত স্থানে পরিদর্শনে যাওয়ার পর সেটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের শুরু হিসেবে ধরা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য পুরো শহরকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন করা। ১২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন।’ দক্ষিণ সিটিতে ৮ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য বেলা দেড়টার দিকে কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য পরিবহন শুরু করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথম দিনের সব বর্জ্য রাত সাড়ে নয়টার মধ্যে, অর্থাৎ আট ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএসসিসি জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার তিন দিনে দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল ও ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি কাজ করবে। পাশাপাশি ৭৫টি ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ ও কোরবানি শেষে যথানিয়মে গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিলিয়ে দিচ্ছেন সামর্থ্যবানেরা। তবে ঈদের দিন দুপুরে সেই মাংসেরই একটি অংশ আবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে মাংস কিনতে এসব অস্থায়ী দোকানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর বাংলামোটর, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর পলিথিন বিছিয়ে, আবার কোথাও ছোট টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল গরু ও খাসির মাংস, ভুঁড়ি, মাথা, পা ও হাড়। প্রতি বছরই ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অস্থায়ী মাংসের বাজার বসতে দেখা যায়। মূলত বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে দুস্থ মানুষেরা যে মাংস সাহায্য হিসেবে পান, তার একটি অংশ তারা নিজেদের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। আবার অনেকে সরাসরি সংগ্রহ করে এনে বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে বিক্রি করেন। সরেজমিনে বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় দেখা যায়, বিক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কোথাও আবার মিশ্র মাংস ও হাড়সহ বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে। রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে এক মাংস বিক্রেতা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশুর মাংস, মাথা, পা ও হাড় সংগ্রহ করে এনে এখানে বিক্রি করছেন। কম দামে পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা বেশি কিনছেন। হাতিরপুল এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, দুপুর থেকেই ক্রেতার চাপ বেশি। অনেকেই এক কেজি বা আধা কেজি করে মাংস কিনছেন। বাজারে যে দামে মাংস বিক্রি হয়, তার চেয়ে এখানে দাম বেশ কম। বাংলামোটরে মাংস কিনতে আসা জাকের আলী বলেন, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে গেলে ৮০০ টাকার ওপরে লাগে। কিন্তু এখানে ভালো মানের মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাংসের পাশাপাশি গরুর ভুঁড়িও বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। এতে আমাদের মতো নিম্নআয়ের পরিবারের মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার মৌসুমি মাংস ব্যবসায়ী রফিক বলেন, যাদের মাংস কেনার সামর্থ্য কম, তারা কম দামে ভুঁড়ি, কলিজা বা হাড় কিনছেন। মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কেউ আধা কেজি চাইলে আমরা তাও দিচ্ছি। এদিকে এসব অস্থায়ী বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই পরিবারের মুখে ঈদের দিন একটু মাংস তুলে দিতে এখানে ভিড় করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বাজারে মাংসের দামও অনেক বেশি। তাই প্রতি বছর ঈদের দিন রাস্তার পাশ থেকে মাংস কিনি। এখানে একটু কম দামে পাওয়া যায়। নাসিমা বেগম নামে এক গৃহকর্মী বলেন, যে বাসায় কাজ করি তারা ঈদে গ্রামের বাড়ি গেছে। তাই এবার কোরবানির মাংস পাইনি। বাচ্চারা মাংস খেতে চেয়েছিল, তাই রাস্তার পাশ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে এক কেজি মাংস কিনলাম।
ঈদের আনন্দের মাঝেও কর্মব্যস্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। দেশের অন্যতম প্রধান এই হাসপাতালে ঈদের দিনেও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকে। ইনডোরে ঈদের দিনেও ভর্তি রয়েছেন ২ হাজার ৩২৪ জন রোগী। চালু রয়েছে প্যাথলজি, এক্সরেসহ অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। এর পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে হাসপাতালের রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থাও করে কর্তৃপক্ষ। বৃহষ্পতিবার দুপুরের দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের খোঁজ খবর নেন, পরিবেশিত উন্নতমানের খাবার পর্যবেক্ষণ করেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। ঈদের দিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম, সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা প্রমুখ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঢাকা মেডিকেল পরিবার সাধ্যমতো চেষ্টা করে সেরা সেবা নিশ্চিত করতে। ঈদ কিংবা অন্য ছুটিতেও সেবা দিয়ে যান চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। ঈদ উপলক্ষ্যে মেডিকেল কলেজের প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। এ সময় ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা কিংবা ঢাকার বাইরের যেকোনো জটিল রোগীর কাছে ঢাকা মেডিকেল এখনও শেষ ভরসার জায়গা। বিছানা খালি না থাকলেও মানবিকতার বিবেচনায় বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগী ফেরাতে পারে না ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।