১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে দলটি বর্তমানে একটি অবস্থান মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার দাবি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত বিষয়টি মেনে নেওয়ার অবস্থান প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবী, গবেষক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে জাতির কাছে একটি বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। তার মতে, তখন জামায়াত সেই অবস্থান গ্রহণ করলে দলটিকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালের আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার সঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর উল্লেখ ছিল। পরবর্তী সংশোধনী প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার পর আইনের সংশ্লিষ্ট অংশে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’—এভাবে উল্লেখ রাখা হয়। পরে আইনটি সংসদে উপস্থাপিত হলে জামায়াতের কোনো সদস্য এর বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেননি বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী।
সরকারি আইনভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬ ১০ এপ্রিল ২০২৬ প্রণীত হয় এবং এর মাধ্যমে ২০২২ সালের আইন সংশোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক অবস্থান ও বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্জাকের কিছু মতের সঙ্গে তার দ্বিমত থাকতে পারে, তবে ভিন্নমত প্রকাশ ও সমালোচনা গ্রহণের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। তবে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে আলোচনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।
একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আলোচিত অবস্থানটি মেনে নিয়েছে। এটি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট নিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। বিমানবন্দরে স্বল্পসময়ের বিরতি শেষে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির পথে রওয়ানা দেবেন শেরিং তোবগে।
গত সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীতে বেড়েছে সবজির দাম। একই সঙ্গে মাছ, মাংস ও ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, জাত ও মানভেদে বেগুন ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আলু ৩০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছ, ডিম ও মুরগির বাজারও এখনো চড়া। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেসব সবজি তুলনামূলক কম দামে কেনা গেছে, এখন সেগুলোই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারা বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় নতুন করে বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা কমাতে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রিপের মাঝের দীর্ঘ বিরতিতে থাকা বাসগুলো মহাখালী থেকে সরিয়ে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় কোনো বাস তার পরবর্তী ট্রিপের সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে। সেখানে যাত্রী তোলার পর দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকার সড়কে এই ব্যবস্থার দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ডিপোতে আন্তঃজেলা বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে মোট ৯১টি বাস অবস্থান করছিল। দীর্ঘ বিরতির বাস যাচ্ছে পূর্বাচলে মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল জানান, যেসব বাসের এক ট্রিপ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় থাকে, সেগুলোকে মহাখালী টার্মিনাল বা সড়কে অপেক্ষা না করিয়ে পূর্বাচল ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। অবকাঠামোগত বাকি কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপের সময় খুব কাছাকাছি, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ পাবে। সাধারণত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা রয়েছে—এমন বাস প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনালে রাখা হচ্ছে। প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা বন্ধ নতুন ব্যবস্থাপনায় মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী ওঠাতে হবে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর বাসগুলোকে গেট বন্ধ করে সরাসরি গন্তব্যের পথে যেতে হবে। নিয়ম অমান্য করে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুললে সংশ্লিষ্ট বাস ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালিক সমিতি। এ ধরনের ঘটনায় ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকরের পর মহাখালী এলাকায় বাসের এলোমেলো অবস্থান আগের তুলনায় কমেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হয়ে সড়কে না থেমে যাত্রী তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যাচ্ছে। ট্রিপের বাইরে থাকা বাস থাকবে ডিপোতে দীর্ঘদিন ধরে মহাখালী এলাকায় দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সময় অবস্থান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিভিন্ন রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপ পর্যন্ত টার্মিনাল কিংবা আশপাশের সড়কে অপেক্ষা করত। এতে সড়কের জায়গা দখলের পাশাপাশি বিমানবন্দরমুখী সড়কেও যানজট তৈরি হতো। নতুন ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ রয়েছে, সেগুলো মহাখালীতে অপেক্ষা না করে পূর্বাচলের ডিপোতে থাকবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বাসটি মহাখালীতে এসে যাত্রী তুলে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জানান, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে রাখা বাস পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তিনি বলেন, এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে রাখা হবে। মহাখালীতে মূলত চলমান বাস থাকবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানো ও নামানোর ব্যবস্থা করা হবে। ৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তন চায় পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, মহাখালীর যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে সকালে ঢাকায় আসা অনেক বাস রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বড় একটি সময় মহাখালী এলাকায় অবস্থান করত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় এসব বাস সড়কেই দাঁড়িয়ে থাকত। এ কারণে যানজট বাড়ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রিপের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো মহাখালীর সড়কে না থেকে সেখানে অবস্থান করবে। সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়াতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা মহাখালীর পর রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপোর কার্যক্রম কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বা যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। টার্মিনালগুলো সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে ই-টিকিটসহ বিভিন্ন যাত্রীসেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ৯১টি বাস অবস্থান করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বাস স্থানান্তরের পাশাপাশি মহাখালীর সড়কে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।