অর্থনীতি

এক বছরে কৃষিঋণে খেলাপি বেড়েছে ২৯০ শতাংশ, নেপথ্যে কী কারণ?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৯০ শতাংশ, যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও কৃষি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেনামি ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি ও বকেয়া ঋণের চাপের কারণে কৃষি খাতে আর্থিক সংকট দ্রুত বাড়ছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে এ খাতের চাপ কমানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে, তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণের হার এখনও কম। এ কারণে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কৃষি খাতেও ব্যাপক হারে বেনামি ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এসব ঋণের বড় অংশ এখন আদায় হচ্ছে না এবং ধীরে ধীরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ২৯৫ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৮৮ কোটি টাকা। এ সময়ে বৃদ্ধির হার ২২৩ শতাংশ।

সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের মার্চে এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকায়, যা প্রায় ২২০ শতাংশ বৃদ্ধি।

তবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি তুলনামূলক কম। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। এ সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, খেলাপি ঋণের পাশাপাশি কৃষি খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের মার্চে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বকেয়া ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব বকেয়া ঋণের বড় অংশ দ্রুত আদায় না হলে আগামী দিনে সেগুলোও খেলাপি ঋণে পরিণত হবে। বিশেষ করে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি কৃষি ঋণ বিতরণ করায় সেখানে ঝুঁকিও বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে একই সময়ে কৃষি খাতে ঋণ আদায় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে আদায়যোগ্য হলেও যেসব ঋণ এখনও আদায় হয়নি, তার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ফলে সামনের দিনগুলোতে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
এক বছরে কৃষিঋণে খেলাপি বেড়েছে ২৯০ শতাংশ, নেপথ্যে কী কারণ?

দেশের কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৯০ শতাংশ, যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও কৃষি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেনামি ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি ও বকেয়া ঋণের চাপের কারণে কৃষি খাতে আর্থিক সংকট দ্রুত বাড়ছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে এ খাতের চাপ কমানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে, তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণের হার এখনও কম। এ কারণে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কৃষি খাতেও ব্যাপক হারে বেনামি ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এসব ঋণের বড় অংশ এখন আদায় হচ্ছে না এবং ধীরে ধীরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ২৯৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৮৮ কোটি টাকা। এ সময়ে বৃদ্ধির হার ২২৩ শতাংশ। সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের মার্চে এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকায়, যা প্রায় ২২০ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি তুলনামূলক কম। গত বছরের মার্চে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। এ সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, খেলাপি ঋণের পাশাপাশি কৃষি খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের মার্চে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বকেয়া ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব বকেয়া ঋণের বড় অংশ দ্রুত আদায় না হলে আগামী দিনে সেগুলোও খেলাপি ঋণে পরিণত হবে। বিশেষ করে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি কৃষি ঋণ বিতরণ করায় সেখানে ঝুঁকিও বেশি দেখা যাচ্ছে। এদিকে একই সময়ে কৃষি খাতে ঋণ আদায় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে আদায়যোগ্য হলেও যেসব ঋণ এখনও আদায় হয়নি, তার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ফলে সামনের দিনগুলোতে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ রেস্তোরাঁ ও ছোট দোকানেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ঈদে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে আলফামার্ট, লক্ষ্য ৫ হাজার আউটলেট স্থাপন

ফাইল ছবি
মে মাসে এ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার

 বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।  তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে একদিনেই দেশে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অন্যদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৬৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় ১১ মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান ৮৮২ বিলিয়ন টাকা: বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা

ছবি : সংগৃহীত

নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মশালার আয়োজন করেছে বিএসইসি

ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা ইপিজেডে জুতা শিল্পে ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছে এইজার স্যু পার্টস

কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) জুতা ও জুতার আনুষঙ্গিক সামগ্রী উৎপাদনে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সামোয়া ও চীন (তাইওয়ান) মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইজার স্যু পার্টস (বিডি) লিমিটেড। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তিটি সই হয়। বেপজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা ইপিজেডে ইনসোল, আউটসোল, মিডসোল এবং পিইউ জুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে। এ খাতে তারা ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া রুইহং চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। বেপজা জানিয়েছে, কারখানাটি চালু হলে বছরে ৩০ লাখ জোড়া ইনসোল, ১২ লাখ জোড়া আউটসোল, ৩২ লাখ জোড়া মিডসোল এবং ১০ লাখ জোড়া পিইউ জুতা উৎপাদন করা হবে। এতে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস ও নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগের অতিরিক্ত দায়িত্ব) খাদিজা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে বেপজা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এইজার স্যু পার্টস (বিডি) লিমিটেডকে স্বাগত জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বিঘ্ন ব্যবসা পরিচালনায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

খাদ্যশস্য আমদানিতে সময় বাঁচানোর উদ্যোগ

ফাইল ছবি

১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা

0 Comments