ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে হেনস্তার চেষ্টা করেছে বিএনপি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মজিবুর রহমান মঞ্জু শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ও শহিদের নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল কর্মী বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কথা বলতে থাকে এবং একপর্যায়ে তারা মঞ্জুর দিকে তেড়ে আসে। ঈগল মার্কার উপস্থিত সমর্থকরা মঞ্জুকে ঘিরে ধরে হামলা থেকে রক্ষা করে। এখানে তালহা নামে একজন ঈগল সমর্থককে বেদম মারধর করে সন্ত্রাসীরা। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া একদিন ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে মজিবুর রহমান মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা জামাতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আব্দুর রহিমকে হামলা করে আহত করে এবং তার গাড়িটি ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহিম কালবেলাকে বলেন, তারা আমার গাড়িতে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। পরে লাঠি দিয়ে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছি। কামরুল নামে এক বিএনপি কর্মী হামলায় জড়িত। আমি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছি।
এছাড়া পাচগাছিয়া ইউনিয়নের এলাহিগঞ্জে ঈগল মার্কার বেশ কয়েকজন সমর্থককে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হামলায় শর্শদী ইউনিয়নের ঘাগরা এবং ফরহাদনগরের কালিদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা।
ফেনী জেলার বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
জানতে চাইলে মুজিবুর রহমান মঞ্জু কালবেলাকে বলেন, এভাবে হামলা করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো মানে হয় না। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলাম। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। আশা করছি, তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।
ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে কারো বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কুষ্টিয়া শহরে বাড়িতে একা থাকা এক বৃদ্ধাকে চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন করার পর নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অলংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। রোববার (৮ নভেম্বর) কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে একা ছিলেন এক বৃদ্ধা। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে তাকে অচেতন করে। এরপর ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কয়েকজনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক বাদশাহ মিয়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী থানার নওদা হোগলবাড়িয়া (শুকুরকান্দি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন ও ইন্তাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রেহা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা, এক জোড়া বালা, এক জোড়া কানটানা, দুটি আংটি এবং একটি গলার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় স্বর্ণের দোকানে পরীক্ষা করে উদ্ধার করা অলংকারগুলো প্রাথমিকভাবে স্বর্ণের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এগুলোর ওজন ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে বৃদ্ধাকে অচেতন করার পর স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শেরপুর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজাদের হামলায় জিন্নাত আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিন্নাত আলী ওই গ্রামের মৃত তনু শেখের ছেলে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক গাড়িচালক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা নিয়ে জিন্নাত আলীর সঙ্গে তার ভাতিজাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার দুপুরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় ভাতিজা জসিম, মাজহার ও নজরুলসহ আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে বাবু অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে তারা জমির ডিক্রিও পেয়েছেন। এরপরও প্রতিপক্ষ জমির দাবি করে আসছিল। রোববার তার বাবাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন বাবু। নিহতের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, জিন্নাত আলীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। জমি নিয়ে ভাতিজাদের সঙ্গে তার অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। রোববার দুপুরে এ বিষয়ে কথা-কাটাকাটির পর সন্ধ্যায় তার ওপর হামলা করা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জিন্নাত আলীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় মৃত ঘোষণা করা হয়। তার হাতে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রাজবাড়ীর পাংশায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে মিছিলের পর পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামের রাস্তায় মিছিলটি বের হয়। এতে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে মাকেও দেখা গেছে। মিছিলের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাংশা থানা পুলিশ। তারা হলেন– উপজেলার বাগমারা গ্রামের সাইফুল প্রামাণিক, ইরান প্রামাণিক, মেঘনা (উত্তরপাড়া) গ্রামের নয়ন মোল্লা, বাগমারা গ্রামের রাব্বি হোসেন ও সুহান শেখ সোহান। ভিডিওতে দেখা গেছে, নজরুল ইসলাম ও তাঁর মা মিছিলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পেছনে ব্যানার হাতে এগিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তারা নানা স্লোগান দেন। একই দিন সন্ধ্যার পর নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে মিছিলের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। এতে তিনি লেখেন, ‘এই জনপথ আমার নিজস্ব গ্রামের রাস্তা! বাম পাশে আমার মা, তাঁর বাম পাশে আমার বাড়ি। এই পাংশা আমাদের, এই রাজবাড়ী আমাদের। এখানে বড় হয়েছি! এই আলো-বাতাসের কাছে অনেক ঋণ আছে। তাই এই ঘর থেকেই মুক্তির আন্দোলন শুরু করছি! এখানকার পথচলা ঢাকার রাজপথে বিপ্লবের জন্ম দিবে।’ পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনাটি তারা তদন্ত করেছেন। এতে জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত করে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের রাজবাড়ীর আদালতে সোপর্দ করা হয়।