এবি ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মুহম্মদ নজরুল ইসলাম। পদোন্নতির আগে তিনি ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বর্তমানে তিনি ব্যাংকের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ব্যাংকিং ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি দেশের ব্যাংকিং খাতে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের আজীবন ফেলো ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এইচআর ক্লাব বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড এইচআরডি কংগ্রেস তাকে বিশ্বের ১০০ জন মেধাবী মানবসম্পদ নেতার অন্যতম হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইএমবিএ) ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যাংকিং ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবেই এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এই পদোন্নতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রধান নীতি সুদহার রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে যা কার্যকর হবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে রেপোর সুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিলো। আর আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট সাড়ে ১১ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রাখতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে নীতিসুদহার কমানোর ঘোষণা দিল যখন বেশিরভাগ জিনিসের দর চড়া। সর্বশেষ গত জুন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে উঠেছে। আগের মাস শেষে যা ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিলো। গত এপ্রিলে ছিলো ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত অর্থবছরও একই রকম লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য বৈশ্বিকভাবেই নীতি সুদহার বেশি রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর নিয়োগ দেয়। তিনি যোগদান করেই নীতি সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি কমিটির একটি বৈঠক ডাকেন। তবে বৈঠক হওয়ার আগেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে সেই বৈঠক স্থগিত হয়। গত ৩০ জুন চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে সুদহার না কমানোর যুক্তি হিসেবে বলা হয়– উচ্চ মূল্যস্ফীতির গতি ধারা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আপাতত সুদহার না কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাস না যেতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আহসান মনসুর গভর্নর থাকতে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন– মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানো হবে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সময়ে তিনি গভর্নর থাকলে সুদহার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করতেন। সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আজ প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুদ্রানীতি কমিটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে মুদ্রানীতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানন ড. ফিরদৌসি নাহার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ ধরেছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম সুদ ঋণ দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সংকোচনের ধারা অব্যাহত থাকলেও মুনাফা, আমানত এবং বৈদেশিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এসব ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে আমানত সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রপ্তানি আয়ে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণ বিতরণ ও ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম : প্রবণতা ও পরিচালনাগত পর্যবেক্ষণ (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বেশি। এর ছয় মাস আগে, জুন শেষে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা, যা জুনের তুলনায় ৭৭ কোটি টাকার বেশি। যদিও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের অংশ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ১২২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বছরে ঋণ কমেছে প্রায় ৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। শুধু জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসেই ঋণ কমেছে ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকার বেশি। ফলে দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশও ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খাতভিত্তিক ঋণ বিতরণের চিত্রে দেখা যায়, শিল্প খাতই বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রধান ঋণগ্রহীতা। মোট ঋণের ৫২ শতাংশ গেছে শিল্প খাতে। ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে বিতরণ হয়েছে ২০ শতাংশ, ভোক্তা ঋণে ১৬ শতাংশ এবং বাকি অংশ গেছে অন্যান্য খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প খাতে ঋণ কিছুটা বাড়লেও ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে, যা ওই সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছে, যা মোট আমদানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। তবে প্রবাস আয় আহরণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রেমিট্যান্সের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে। আর্থিক সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকেও বিদেশি ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে তারল্য পরিস্থিতিও শক্তিশালী এবং খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি সংকুচিত হওয়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবায় এসব ব্যাংকের শক্ত অবস্থান এখনো দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চলমান সংঘাত সাময়িক বন্ধ থাকার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। দাম ৫ শতাংশ কমে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬১ ডলার বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ০৬ ডলার বা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে। টানা তিন দিনে প্রায় ১৭ শতাংশ কমার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এই দুই বেঞ্চমার্কের দামই ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা