চমকপ্রদ এক দলবদলের জন্য 'সবুজ সংকেত' দিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যেখানে জুড়ে দেয়া আছে এক অদ্ভুত শর্তও। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ নয়। মূলত, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে ফিট রাখার জন্যই এমন শর্ত। আর সেই কারণেই স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ইউরোপে ফেরার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি। আর সেই সুযোগে কাজে লাগাতে চায় তুর্কি জায়ান্ট গালাতাসারাই।
তুরস্কের খ্যাতনামা ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান দাবি করেছেন, গালাতাসারাই ও মেসির মধ্যে আলোচনা এরমধ্যেই হয়েছে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী নাকি চার মাসের চুক্তিতে তুর্কি ক্লাবটির হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মোট ম্যাচ হবে ১২টি। এই ম্যাচগুলোর সবগুলোই ইস্তাম্বুলে, অর্থাৎ র্যামস পার্কে। মেসির শর্ত—তিনি কেবল ঘরের মাঠের ম্যাচেই খেলবেন। শর্তটি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও, তুরস্কে তার উপস্থিতি যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করবে, তা এড়াতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত।
তুজেমান অ্যা স্পোর'র লাইভ অনুষ্ঠানে কায়সারিসপোরের বিপক্ষে গালাতাসারাইর ৪–০ গোলের জয়ের পর এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে আরও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেই এই ট্রান্সফার বাস্তবায়িত হতে পারে। সাহসী মন্তব্যের জন্য পরিচিত তুজেমান বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিওনেল মেসিকে গালাতাসারাইতে আনার চেষ্টা করেছিল। মেসি বলেছেন, আমেরিকান লিগে খেলার গতি তার জন্য খুব ভারী হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি চোট নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না।’
সৌদি প্রো লিগ থেকে মেসি প্রস্তাব পেলেও তা নাকচ করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আল-হিলাল প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। মেসি এলে এক মিলিয়ন মানুষ বিমানবন্দরে যাবে।’ তুজেমান আরও জানান, তুরস্কে আসার শর্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘মেসি বলেছেন, তিনি ইস্তাম্বুলে খেলবেন—এই শর্তেই আসবেন। তিনি ১২টি ম্যাচ খেলবেন, তবে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে যাবেন না।’
যদিও গালার হয়ে তিনি শুধু হোম ম্যাচ খেলতেই আগ্রহী, তবে, তুজেমানের দাবিতে সত্যতা থাকলে ওকান বুরুকের দল তুর্কি কাপের ফাইনালে উঠলে, মেসি সেই ম্যাচেও খেলতে পারেন। এর আগে মেসি নিজেই বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য তিনি যেন ‘বোঝা’ না হয়ে যান। কারণ নতুন এমএলএস মৌসুম শুরু হবে বসন্তে, ফলে বিশ্বকাপের আগে হয়তো তিনি প্রত্যাশিত মানের কঠিন চ্যালেঞ্জ পাবেন না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিকল্প খোঁজার পরামর্শও পেয়েছেন তিনি। সাবেক ফুটবলার টেরি ফেলান, যিনি খেলোয়াড়ি জীবনে চার্লস্টন ব্যাটারির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলেছিলেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মেসি কি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন—‘‘আমাকে আরও ভালো প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে, ফিট থাকতে হবে?’’ সৌদি আরব? সেখানে যাওয়ার জন্য তার টাকার দরকার নেই। সৌদি দলগুলো ক্লাব বিশ্বকাপে ভালো করেছে ঠিকই, ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছে, এক-দুটি ম্যাচ জিতেছে—কিন্তু সেটাই সব নয়।’
এসময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘মেসির যদি সত্যিই সেই ক্ষুধা থাকে, তাহলে তাকে এমন জায়গায় যেতে হবে, যেখানে সে নিজেকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে। এখন তো তার জন্য সবকিছু খুব সহজ। পরিসংখ্যান, ভিডিও দেখলে মনে হয়—এই মুহূর্তে এটা তার জন্য প্লেস্টেশন খেলার মতো। এটা স্বাস্থ্যকর নয়।’ লিওনেল মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তিনি প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ডাকে সাড়া দেবেন এবং টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করবেন। এই টুর্নামেন্ট খেলার সময়ই তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রেকর্ড পারিশ্রমিকের চাপ গত আসরে জেঁকে ধরেছিল রিশাভ পান্তকে। দলের প্রত্যাশা একদমই পূরণ করতে পারেননি তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি মনে করছেন, এবার আরও বেশি চাপে থাকবেন ভারতের কিপার-ব্যাটসম্যান। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নিলাম থেকে ২৭ কোটি রুপিতে পান্তকে দলে নেয় লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। আইপিএলের ইতিহাসে নিলামে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটার তিনি। পরে তাকে দেওয়া হয় দলের অধিনায়কত্বও। কিন্তু, গত আসরে ব্যাট হাতে প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারেননি পান্ত। ১৩ ইনিংসে ২৪.৪৫ গড়ে রান করেন কেবল ২৬৯। একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করতে পারেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৩.১৬, যেখানে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৪.৪০। তার দল লাক্ষ্ণৌও গত আসরে প্লে-অফে উঠতে পারেনি। ১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম হয় তারা। জিও হটস্পারে আলাপকালে দু প্লেসি বলেন, গত আসরের ব্যর্থতার চাপ এবারও অনুভব করবে পান্ত। আমার চোখে, এবারের আইপিএলে সম্ভবত রিশাভ পান্তই সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে। বেশি পারিশ্রমিকের চাপের মধ্যে কিছু ক্রিকেটার জ্বলে ওঠে, আবার অনেকে পারে না। গত মৌসুমটা তার জন্য সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। দলের ভোগান্তির মতো যেভাবে সে ব্যাট করেছে, রান তোলার বিচারে সেও রান করতে পারেনি। তাই নতুন মৌসুমের আগে সেই চাপ তো আছেই, সঙ্গে দলকে ঘিরে প্রত্যাশার চাপও যোগ হবে…তাদের অধিনায়ক চাপে আছে, রান করা হবে প্রথম কাজ। অধিনায়ক হিসেবে সে যদি রান করতে পারে, তাহলে শুরুতেই চাপ অনেকটা কমে যাবে। তবে এরপরও তার ওপর চাপ থাকবে, সেটা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে। আগামী শনিবার পর্দা উঠবে আইপিএলের। ১ এপ্রিল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের আইপিএল অভিযান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব চেলসির নারী দলের গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান খেলাধুলাকে অসম্ভব পছন্দ করেন। আমি যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লন্ডন গিয়েছিলাম তখন সামনাসামনি ডাক্তার জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছিল।’ প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও তার স্ত্রী-কন্যা খেলাধুলা বেশি পছন্দ করেন উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনিও আমাকে বারবার বলেছেন, ‘আমিনুল আমি যতটুকু না স্পোর্টস পছন্দ করি তার চেয়ে হাজার বার (থাউজেন্ড টাইম) বেশি পছন্দ করে তোমাদের ভাবি এবং আমার মেয়ে জাইমা রহমান।’ আমিনুল হক এসময় আরও বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের জাইমা রহমান কিন্তু চেলসির মেয়েদের ফুটবল টিমেও সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লম্বা এবং সেই সুযোগটা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বা তাকে খেলার সেই সুযোগটি তৈরি করে দেননি।’ আমিনুল হক আরও বলেন, ‘বেসিক্যালি আমি যতটুকু জানি যে তিনি আমার মত একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে থেকেই জটিল হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। বিশ্বকাপ বয়কটের পরে আরও তলানিতে ঠেকেছিল সেই সম্পর্ক। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে পাল্টেছে সেই চিত্র। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এবার মিলল বরফ গলার ইঙ্গিতও। ভারতের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলার জন্য আয়ারল্যান্ডকে ‘না’ করল বাংলাদেশ। যে কারণে আগামী সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যাবেন না মিরাজ-মোস্তাফিজরা। এমনটাই জানা গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ডে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই সূচি বদল করেছে বিসিবি। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা বলেন, ‘সেপ্টেম্বরেই হওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ পিছিয়ে যায়। তাই আমরা আয়ারল্যান্ডকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এই বছর অন্য কোনো উইন্ডোতে সিরিজ আয়োজনের জন্য। কিন্তু ওরা জানায়, এই বছরের জন্য ওদের ঠাসা সূচি রয়েছে। অন্য কিছু ইস্যুও রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত আমরা সরে আসি। ২০২৭ সালে এই সিরিজ খেলার চেষ্টা করব।’ অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। আসলে এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সফরে যায়নি ভারতীয় দল। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৮ আগস্ট ঢাকায় পা রাখবে টিম ইন্ডিয়া। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। সেপ্টেম্বর মাসের ১, ৩ এবং ৬ তারিখ আয়োজিত হবে একদিনের ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো হবে ৯, ১২ ও ১৩ তারিখ। তবে সরকার বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই সফরের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।