প্যারিসের প্রসিকিউটরের সাইবার অপরাধ ইউনিট সন্দেহভাজন অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর ফ্রান্সের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে তথ্য আহরণ এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণে সহায়তার অভিযোগ।
প্রসিকিউটরের দপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু হয়, যখন তারা এক্স প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সুপারিশকৃত কনটেন্ট খতিয়ে দেখতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত হয়ে এতে বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এক বিবৃতিতে প্রসিকিউটর দপ্তর আরো জানায়, ইলন মাস্ক এবং এক্স-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনোকে এপ্রিল মাসে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক্স এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি এই তদন্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হলে এক্স তখন দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে এবং অ্যালগরিদম কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা এখন একাধিক ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন।
সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে শিশুদের পর্নোগ্রাফিক ছবি সংরক্ষণ বা সংগঠিতভাবে বিতরণে সহায়তা, যৌন ডিপফেকের মাধ্যমে ব্যক্তির ভাবমূর্তি লঙ্ঘন এবং সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতারণামূলক তথ্য আহরণ।
প্রসিকিউটর দপ্তর আরো জানিয়েছে, তারা এক্স প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করছে এবং ভবিষ্যতে লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সীমান্ত নদী ইছামতিতে ঘুরে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, “বাইনুকালারে দেখলাম বাংলাদেশিরা ওঁৎ পেতে আছে। ফাঁকা পেলেই ভারতে হু-হু করে ঢুকে পড়বে।’’ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দীপাবলিতে রোববার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রাজ্যটির হিঙ্গলগঞ্জের ইছামতিতে নদীতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের স্পিডবোটে চেপে বেশ খানিকটা ঘুরে বেড়ান শুভেন্দু অধিকারী। পরে ৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে সময় কাটানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএসএফের স্পিডবোটে চাপার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এ বিজেপি নেতা বলেন, “স্পিডবোটে উঠেছিলাম। সেখান থেকে বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশে সবাই ওঁৎ পেতে বসে আছে। ফাঁকা পেলেই হু হু করে আমাদের ভারতে চলে আসবে। একটা অনুপ্রবেশকারীও রাখব না আমাদের রাজ্যে। সবকটাকে ধরে ওই দেশে পাঠিয়ে দেব। খুঁজে খুঁজে বের করব সব অনুপ্রবেশকারীকে। ১৫ কিলোমিটার ধরে তল্লাশি চলছে। খবরে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দেখানো পথে’ দীপাবলি উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কাটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বছর থেকে শুরু হবে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান। এরপর শুভেন্দু হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপূজারও উদ্বোধন করেন। থানার পূজা উদ্বোধনের পর স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। ডিজিপির নেতৃত্বে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। ইছামতির তীরে বেড়া দেওয়া নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোক্যামিকেল খাতের অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত করে উৎপাদন আবার চালু করতে পারবে ইরান। তবে আগের মতো শক্তিশালী ও আধুনিক জ্বালানি খাত গড়ে তোলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীরা চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর অনেক কিছুই মেরামত করতে পারবেন। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থের অভাব, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা দেশটির জন্য বাধা হয়ে আছে। কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির (সিইওবিএস) স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ জুনের হামলায় তেহরানের শাহরান তেল ডিপোর চারটি ট্যাংক ধ্বংস হয়। একই হামলায় দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে শাহরান, আকদাসিয়েহ ও কারাজের তেল সংরক্ষণাগার এবং তেহরান শোধনাগারেও হামলা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, আসালুয়েহ এলাকায় দক্ষিণ পার্সের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেট্রোরসায়ন শিল্পেও হামলার প্রভাব পড়েছে। ৪ এপ্রিলের হামলায় মাহশাহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পরিষেবা সরবরাহকারী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বান্দার ইমাম শিল্প কমপ্লেক্সেও আঘাত লাগে। এসব স্থাপনা থেকে আশপাশের কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পায়। ফলে একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিছু স্থাপনায় উৎপাদন ফিরছে যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ইরান। ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদনক্ষমতার অর্ধেক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীদের তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে গেছেন। দেশটির এমএপিএনএ প্রতিষ্ঠান উন্নত গ্যাস টারবাইন তৈরির পরীক্ষায় সফলতার কথাও জানিয়েছে। তবে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ইরানের জ্বালানি খাতে বহু বছর ধরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। অনেক যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে। আবার আধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতেও বাধা রয়েছে। গ্যাসক্ষেত্রের বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন কমতে থাকে। উৎপাদন ধরে রাখতে বিশেষ যন্ত্রপাতি বসাতে হয়। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ দরকার। ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সরে যাওয়ায় সেখানে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এলএনজি রপ্তানিতেও পিছিয়ে ইরান ইরান দীর্ঘদিন ধরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস স্থাপনা মেরামত করে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এলএনজি রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রযুক্তি, বিপুল অর্থ, গ্যাস পরিবহনের জাহাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। চীন ও রাশিয়া কতটা সাহায্য করবে? পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান চীন ও রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। দেশটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল সহায়তা ও অর্থায়ন দিতে পারে। তবে ইরানের কাছ থেকে কম দামে তেল কেনা আর সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি প্রকল্প থেকে সরে যায়। নতুন করে বিনিয়োগের আগে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থের নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং লাভের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। রাশিয়ার সহায়তার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ও ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ইরানের জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়েও সংশয় আছে। আবার হামলা হলে বিনিয়োগ করবে কে? ইরানের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো নতুন করে হামলার আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মেরামত করা স্থাপনাগুলোও। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানে বিনিয়োগ করতে বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে আগ্রহী নাও হতে পারে। কারণ, নতুন হামলায় তাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ইরানকে শুধু স্থাপনা মেরামত করলেই চলবে না, কোন স্থাপনাগুলো আগে চালু করা জরুরি, সেটিও ঠিক করতে হবে। গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ঠিক করা গেলে একসঙ্গে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শুরু হতে পারে। ক্ষতির ধরন অনুযায়ী মেরামতে সময়ও লাগবে ভিন্ন ভিন্ন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে কিছু স্থাপনা কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব। তবে বড় যন্ত্রপাতি বদলানো ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির নিয়ন আলোয় ঝলমলে একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের টেবিলের মাঝ দিয়ে চলাচল করছে রোবট ওয়েট্রেস। অপেক্ষায় থাকা এক পরিবারের টেবিলে সদ্য তৈরি পিৎজা পৌঁছে দিচ্ছে সে। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক মানবসদৃশ রোবট নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রেস্তোরাঁয় রোবট কর্মীর উপস্থিতি এখনও বিরল। করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ইলেকট্রনিক কণ্ঠে রোবটটি বলে, ‘সিসিলিয়ানে আপনাদের স্বাগত। আমার নাম রোবিয়া।’ এ সময় লাল এলইডি বাতি দিয়ে তৈরি চোখের পলক ফেলে খাবারের টেবিলে বসা অতিথিদের দিকে তাকায় সে। রোবিয়া ও তার সহকর্মী জোজো পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজের নিজ হাতে তৈরি রোবট। করাচির ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জগৎকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন তিনি। রোবট দুটির মাথা গোলাকার ও সাদা। মুখের সামনে মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো কালো আবরণ রয়েছে। গলায় জড়ানো কালো শাল। এ অঞ্চলের নারীদের পরিধেয় ওড়নার আদলেই তৈরি করা হয়েছে শালগুলো। সিসিলিয়ান রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজ নিজের গবেষণাগারে অধিকাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে রোবট দুটি নির্মাণ করেছেন। নিজেই এগুলোর সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ এখানে সহজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে।’ তার রোবট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘কোবট’-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সহযোগিতায় রোবট দুটি তৈরি করা হয়। এ কাজে বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশও ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতা এবং হোটেলের অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর মতো বিভিন্ন কাজে রোবটের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। তবে পাকিস্তানে এখনও রোবটের ব্যবহার নতুন অভিজ্ঞতা। আজিজের তৈরি রোবট দুটি তাই রেস্তোরাঁয় আসা অতিথিদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। রোবট দুটি খাবার নিয়ে টেবিলে পৌঁছালে অতিথিদের নিজেদেরই ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে হয়। তা না হলে সহায়তার জন্য কোনো মানব কর্মীর অপেক্ষা করতে হয়। উচ্ছ্বসিত ক্রেতারা- পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে রোবট তৈরির কর্মশালা রয়েছে আজিজের। ভবিষ্যতে তিনি তার তৈরি রোবটগুলোকে আরও উন্নত করতে চান। আজিজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো, রোবটগুলোতে ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি বিশ্লেষণের সুবিধা যুক্ত করা।’ তিনি বলেন, ‘এর ফলে রোবটটি আপনাকে দেখে চিনতে পারবে। গতবার আপনি কী খাবার অর্ডার করেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে পারবে। সেই অনুযায়ী আপনাকে আরও ভালো খাবারের পরামর্শ দিতে পারবে।’ এখনই রোবট দুটি পরিবারগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রোবটের কাজ দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন রেস্তোরাঁটিতে। উচ্ছ্বসিত ক্রেতা আহমের জামির এএফপিকে বলেন, ‘এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয়।’ তিনি বলেন, রোবটটি কোন কোন খাবার অর্ডার করা যাবে, সে সম্পর্কেও অতিথিদের জানায়। শিশুরা রোবটগুলো ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে। আর তাদের অভিভাবকেরা ছবি ও সেলফি তোলেন। তরুণ ক্রেতা সোনিয়া দিলোস্কার রোবটগুলোর চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রাহকদের সঙ্গে রোবটের আচরণও তাঁর পছন্দ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি যন্ত্র এবং এর কোনো আবেগ নেই। এ কারণেই গ্রাহকদের সঙ্গে এর আচরণ আমার ভালো লাগে।’ রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানান, রোবটের এই নতুনত্বের কারণে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি করাচির দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ রোবট দেখতে আসছেন। রেস্তোরাঁর কর্মী হেলেন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। রোবট দেখতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসছেন। এখানে এসে তারা প্রথমবারের মতো রোবট দেখছেন।’ তিনি বলেন, ‘রোবটগুলো দেখতে মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত।’