সময়টা ভালো যাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের। সেই প্রভাবটা পড়েছে তার ক্যারিয়ারেও। যে কারণেই এবার ৩৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি ব্রাজিলের অনলাইন চ্যানেল কেজ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন।
মূলত ক্যারিয়ারজুড়ে একের পর এক চোট এবং বর্তমান ফিটনেস সমস্যাই তাকে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল থেকে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।
গত বছর চোট নিয়ে খেলে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর জন্য তাকে শারীরিক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। তবে নেইমার স্বীকার করেছেন, পূর্ণ ফিট না হওয়ায় তাকে কিছুটা সাবধানে খেলতে হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নেইমারের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের কারণে তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামতে পারেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা রাখলেও শর্ত দিয়েছেন পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার। নেইমার নিজেও মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া এক ‘বড় চ্যালেঞ্জ’।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আগামী বছর কী হবে আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইব। এখন আমি কেবল এ বছরটি নিয়ে ভাবছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ক্যারিয়ারের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়ের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল জয়ের পাশাপাশি পিএসজির হয়েও অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই তারকা ফুটবলার এ মৌসুমে নিজের শতভাগ দিয়ে খেলতে মুখিয়ে আছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার যদি সত্যিই ডিসেম্বরে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার আগে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আফ্রিকান দল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে ড্র করেও বড় বিপদের শঙ্কা দেখেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে এমনই মন্তব্য করেছেন দলটির তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের শুরুতেই ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে এরপর আর তারা আক্রমণে ধার বজায় রাখতে পারেনি। বরং বিরতির আগে কঙ্গো সমতায় ফেরে এবং ম্যাচটি ১–১ গোলে শেষ হয়। পুরো ম্যাচে পর্তুগালের পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। বিশেষ করে রোনালদো ছিলেন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়, পুরো ম্যাচে মাত্র তিনটি শট নিতে পারেন তিনি। ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমরা যে যথেষ্ট করিনি, তা নয়। এটাই ফুটবল। ম্যাচ জেতার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা হেরেও যেতে পারতাম।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন শুরু চাইনি, তবে এটা শেষ নয়। আমাদের মনোবল ধরে রেখে পরের ম্যাচে ভালোভাবে ফিরতে হবে।” পর্তুগালের এই ড্র তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে চাপ তৈরি করেছে, যদিও দলটি এখনো পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রাখছে।
কেমন আছেন? নাদিয়া: ভাই ভালো আছি। কিন্তু এখন এখানে রাত তিনটা বাজে। কথা বলার মতো অবস্থা নাই—একে অনেক রাত, আবার গলা বসে গেছে। আমি একটু পরেই ফোন দিচ্ছি। (বেশ কিছু সময় পরে ফোন দিলেন নাদিয়া) আপনি কি আগে ফিফার কোনো ম্যাচ সরাসরি দেখেছেন? নাদিয়া: আগে কোনো ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়নি। এবারই প্রথম। খেলা দেখতে গিয়ে এতটাই এক্সসাইটমেন্ট ছিলাম যে বিশ্বাসই হচ্ছিল না আর্জেন্টিনার খেলা দেখছি। স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। যখন মাঠে গিয়ে বসলেন, সেই সময় কেমন লাগছিল? নাদিয়া: এটা দারুণ এক অনুভূতি। খেলা শুরু হওয়ার বহু আগে এসেছিলাম। স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। নাচ–গানে সবাই মেতে আছে। এর মাঝে আবার ভাবছিলাম গতবার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল। এবার কী যে হয়। কারণ, বড় দলগুলো তুলনামূলক ভালো করছে না। অনেক অঘটন ঘটছে। কিন্তু মেসিকে দেখতে এসেছি এটাই ভালো লাগছিল। এখন তো খেলা দেখে ইতিহাসের একটা অংশ হয়ে গেলেন... নাদিয়া: হ্যাঁ, এখন তো একদমই ইতিহাসের অংশ। আর্জেন্টিনার এত অর্জনের একটা ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইলাম, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের পরে সবার উচ্ছ্বাস দেখে কী মনে হচ্ছিল? নাদিয়া: সরাসরি খেলা না দেখলে এটা বোঝা যায় না। চারপাশে সবার অপেক্ষা মানুষটা কখন এসে দাঁড়াবেন, মানে মেসি। কখন খেলা শুরু হবে। আমরা তো অনেক আগে এসেছিলাম। স্টেডিয়ামে আসার জন্য লাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। তখন থেকেই দেখছি সবাই উৎসব মুডে আছেন। মাঠে তো আরও বেশি উচ্ছ্বাস সবার। আর্জেন্টাইন অনেকের সঙ্গে কথা হলো। কথা বলে বুঝতে পারলাম তাঁরা খেলা নিয়ে অনেক বেশি ইমোশনাল। কেন ‘ইমোশনাল’ মনে হলো? নাদিয়া: তাঁরা খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই একের পর এক দেশাত্মবোধক গান গাইছিলেন। এক পাশে পুরো আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা গানবাজনা নিয়ে মেতে ছিলেন। মেসির নাম নিয়েই; সবাই মেসিকে সম্মান জানাচ্ছিলেন। কখন মেসি আসবে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরাও মেসির জন্য অস্থির থাকেন। আবার যখন খেলা শেষে নামছিলাম, তখন নামার সময় আমাদের পাশে থাকা রেলিংয়ে সবাই ঢোলের মতো তাল মিলিয়ে বাজনা তুলে গান গাইছিলেন। এসব অসাধারণ অনুভূতি। আর্জেন্টিনার মানুষ যখন জানতে পারলেন আপনি বাংলাদেশের, তখন প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? কারণ, তাঁরা জানেন বাংলাদেশে দেশটির অনেক সমর্থক রয়েছেন? নাদিয়া: আমরা খেলা দেখব বলে অনেক আগেই বাসা থেকে বের হয়েছি। আমার সঙ্গে নাঈম ছিল। সে–ও মেসিকে পছন্দ করে। কিন্তু জার্মানির সমর্থক। স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত আমাদের অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কোন দেশ থেকে এসেছি জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশ বলার পরে আর্জেন্টাইনরা সঙ্গে সঙ্গে চিনেছে, বলেছে, ‘তোমরা আমাদের বন্ধু।’ মাঠেও আমাদের পাশে অনেকে ছিলেন। তাঁরাও বলছিলেন তোমাদের সঙ্গে খেলা দেখে অনেক ভালো লাগল। মাঠে মেসি যখন পা রাখেন, সেই মুহূর্তটা কেমন ছিল? নাদিয়া: আমরা তো টেলিভিশনেই যখন খেলা দেখি, তখন মেসিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। চিল্লাচিল্লি শুরু করি মেসি বলে বলে—এখানেও সবাই আগে থেকেই চিল্লাচ্ছিল। সরাসরি মেসির এন্টি দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। সবাই বলছি, ‘এই এখন ঢুকবে মেসি।’ তখন শুরু হয়ে গেল স্টেডিয়ামজুড়ে কাউন্টডাউন। টেন থেকে ওয়ান পর্যন্ত গুনতে শুরু করে দিল। ওয়ান বলার সঙ্গে মেসি এসে দাঁড়াল। মেসি এসে দাঁড়ানোর পরে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম, চিল্লায়ে আমার গলার স্বরই বেসে গেছে। মেসি মাঠে এলে কী অবস্থা হয় এটা সরাসরি দেখার অনুভূতি জীবনেও ভুলব না। কবে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার পরিকল্পনা করলেন? নাদিয়া: গত বিশ্বকাপ হলো কাতারে। তখন অনেকেই খেলা দেখতে গিয়েছিল। তখন খুব আফসোস হয়েছিল, এত কাছে, যেতে পারলাম না। এর পর থেকেই সিদ্ধান্ত নিই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিস করব না। তখন থেকেই লেগে ছিলাম কীভাবে টিকিট করব সেসব নিয়ে। গত বছর লটারি করেছিল ফিফা। সেখানে একের পর এক হতাশ হতে হয়। মনে হচ্ছিল এবারও খেলা দেখা হবে না। পরে সেকেন্ড একটা মাধ্যম থেকে আমরা টিকিট কাটি। এ বছর এপ্রিলে ফাইনালি টিকিট হাতে পাই। তখন আশ্বস্ত হই, খেলা দেখা হচ্ছে। এর আগপর্যন্ত বিশ্বাসই হচ্ছিল না। আর কোনো ম্যাচ দেখবেন? নাদিয়া: টিকিট পাওয়াটাই কঠিন। টিকিট পেলে তো পরের রাউন্ডের খেলাও দেখতে চাই। তবে এবার দেখলাম ম্যাচ শুরুর আগেও ফিফা আরও টিকিট ছাড়ছে। সেগুলো বেশ চড়া দামে। এভাবে যদি পরের রাউন্ডের কোনো টিকিট পাই, তাহলে কিনে ফেলব। মেসির কোনো টুর্নামেন্টই মিস করতে চাই না। আর যদি কোনো ম্যাচ না–ও দেখা হয়, তাহলেও কোনো আফসোস নেই। আমি সার্থক, মেসির হ্যাটট্রিক ম্যাচ দেখে ফেলেছি, আর কোনো ম্যাচ না দেখলেও আফসোস নেই। কবে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে? নাদিয়া: আমি ঈদের আগে এসেছি। আত্মীয়স্বজন আছে, তাদের সঙ্গে সময় কাটছে। নাঈম এখানেই আছে। আপাতত আছি কিছুদিন।
ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থেকে টি-টোয়েন্টিতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে সেই শঙ্কায় সত্যি হলো। প্রথম ম্যাচের একাদশে নেই এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এদিকে আজ অভিষেক হতে যাচ্ছে ডানহাতি পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইনের। আর ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাওহীদ হৃদয়ের। ২০০৫ সালে প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দুই দশকের বেশি সময়। এবার শুধু জয় নয়, সদ্য শেষ হওয়ার ওয়ানডে সিরিজটাই নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। টানা দুই ম্যাচ জিতে আগে-ভাগেই সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে সান্তনার জয় পায় সফরকারীরা।