যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য
রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে সেই তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এআই মামলার নামে একটি এসএমএসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে এই প্রতারণা চলছে। এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে, দেওয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ।
রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। এমনকি ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে পরিচয় গোপন করেও একজন নাগরিক পোস্ট করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে কমেন্টও করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেও এই এসএমএসের কথা জানতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারী। প্রতারকের পাঠানো এসএমএসের ছবিসহ তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ফোনে একটি এসএমএস এসেছে। এটা কি সত্যিকারের এআই মামলা, নাকি কোনো স্ক্যাম?’ আর সেই ছবিটি তিনি সংযুক্ত করেছেন সেখানে লেখা আছে “[বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ] জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। জরিমানা নম্বর: ২০২৬-বিডি-৫৬১২৩০৪৩টি। তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (ক্যামেরা নম্বর: টিআর-৭৭২) অনুযায়ী, আপনার যানবাহনটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হলে, আপনার লঙ্ঘনের রেকর্ড জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আপনি আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হবেন। অনুগ্রহ করে ২৪ মে মধ্যরাতের পূর্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করুন: https://bspbrtcar-govbd.online। এই বার্তাটি পুনরায় খুলতে ‘১’ চাপুন, লঙ্ঘনের রেকর্ড দেখুন এবং ক্যামেরার ছবি ও জিপিএস অবস্থানের তথ্য যাচাই করুন।”
এ বিষয়ে ইয়াসিন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার কীভাবে জরিমানা নেবে, পদ্ধতিটা কীভাবে হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য গ্রাহককে না জানিয়ে এই প্রকল্প চালু করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। আমাদের জানানো উচিত ছিল কীভাবে মামলা হবে, কীভাবে জরিমানা দেওয়া হবে, অথবা মামলাটি আসলেই হলো কি-না। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকার এই উদ্যোগ না নেওয়ায় একটি অসাধু চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’
এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা কালবেলাকে বলেন, ‘এই মেসেজে থাকা কিছু বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যার মধ্যে বিদেশি নম্বর (+63) থেকে বার্তা এসেছে, যা বাংলাদেশের সরকারি ট্রাফিক বা জরিমানা ব্যবস্থার স্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ‘.gov.bd’-এর পরিবর্তে ‘.online/.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সেবা সাধারণত gov.bd ডোমেইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ‘govbd’ শব্দটি ডোমেইনে থাকলেই সেটি সরকারি হয় না।
তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘প্রতারকদের পাঠানো ওই মেসেজে, ভয়ভীতি ও জরুরি চাপ (আরজেন্সি ট্যাকটিক) প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ‘জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত’, ‘আইনানুগ শাস্তি’ ইত্যাদি। এটি ফিশিং ক্যাম্পেইনের একটি পরিচিত কৌশল, যার মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত লিংকে ক্লিক ও পেমেন্টে প্রলুব্ধ করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক যদি বিশ্বাস করে পেমেন্ট করেন, তাহলে কার্ড তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে কালবেলাকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিআরটিএ থেকে এআই মামলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিআরটিএ এই ধরনের কোনো মামলার পেমেন্টও নিচ্ছে না। কেউ যদি বিআরটিএর নাম ভাঙিয়ে কোনো এসএমএস বা অন্য কোনো পন্থায় এই মামলার কোনো পেমেন্ট নেয়, সেটি স্পষ্টতই প্রতারণা।’
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এআই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কারও মোবাইলে এখনো কোনো মেসেজ পাঠানো হয়নি। ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে। যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি সরাসরি ট্রাফিক বিভাগের অফিসে গিয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান ভূমিকার প্রশংসা করে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সংসদে এনসিপির মাত্র ৬ জন সংসদ সদস্য থাকলেও তাদের ৫ মিনিটের বক্তব্যের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৪৫ মিনিট ব্যয় করতে হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহীদ ওসমান চত্বরে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “সংসদে আমরা পাই ৫ মিনিট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রিপ্লাই দেন ৪৫ মিনিটে। আমরা যদি ৪৫ মিনিট সময় পাই, তাহলে তার জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি পুরো অধিবেশন লেগে যাবে। এই তরুণ প্রজন্ম কারও কাছে তাদের বিবেক বন্ধক দেয়নি” তিনি আরও বলেন, এনসিপির এই ৬ জন সদস্য আসলে ২১২ জনের সমপরিমাণ শক্তি ও প্রভাব রাখেন। নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যখন এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেয়, তখন প্রতিপক্ষ তাদের ‘চিলড্রেন পার্টি’ আখ্যা দিয়ে উপহাস করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, এনসিপি ৫০০ ভোটও পাবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তাদের ভোট ১ লাখ ৬৮ হাজারে পৌঁছায় এবং কোনো কেন্দ্রেই তাদের বিজয় ঠেকানো সম্ভব হয়নি। আগামীতে মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেয়র নির্বাচনে তরুণদের বেশি বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। পরাজিত হলেও সমস্যা নেই, অন্তত নিজের ভোট নিজে পেলেও নির্বাচনে থাকুন। যতদিন তরুণ প্রজন্ম রাজপথে এবং নেতৃত্বে সক্রিয় থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে না।” রায়পুর শহীদ ওসমান চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মাহবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিন এবং লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাছুম বিল্লাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। রয়টার্স লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিলেও সাক্ষাৎকার দেননি। এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এবারই তিনি সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন। বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও ফাঁসির আসামি। এক প্রশ্নের জবাবে রয়টার্সকে তিনি বলেন, "দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।" তার ভাষ্য, "আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।" ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। তবে আমি নিজেই যাব।" রয়টার্স লিখেছে, শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বর্তমান বিএনপি সরকার দুই বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আবার শেখ হাসিনা ফিরলে তা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ সাক্ষাৎকারে বলেননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, "আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।" সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি। "গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।" কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর কেন দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তার বাসভবনের দিকে যখন জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন জীবন শঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ছাড়েন। তিনি বলেন, "যখন কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতেই পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-বেঠিক বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।" দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, "তারা হয়ত আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন। শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে তার বা দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের বাক্স্বাধীনতার অবারিত সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এই একই সুযোগ জন্ম দিয়েছে এক ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির, যাকে বলা যায় ‘স্ক্রিনশট সংস্কৃতি’। কারও ব্যক্তিগত চ্যাটের কথোপকথন, বহু বছর আগের কোনো ভুল মন্তব্য, বা অসতর্ক মুহূর্তের কোনো বার্তার ছবি তুলে অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মজার বিষয় হলো, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার এই একটামাত্র ক্লিকে আসলে একসঙ্গে চারটি আলাদা পাপ ঘটে যায়। কোরআন-হাদিসে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। ৪টি স্তর ভেঙে ভেঙে দেখানো হলো। ১. গোপনীয়তা লঙ্ঘন: অপরাধের শুরু স্ক্রিনশট সংস্কৃতি শুরু হয় আসলে স্ক্রিনশট নেওয়ার অনেক আগে থেকে। পুরোনো চ্যাট ঘেঁটে দেখা, কারও অতীতের ভুল খুঁজে বের করার চেষ্টা থেকে। এই ‘গোয়েন্দাগিরি’ নিয়ে কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের গোপন অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) লক্ষণীয়, এই আয়াতে গোপন অনুসন্ধান আর গিবত দুটিকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। কারণ, একটা ছাড়া আরেকটা ঘটে না। কেউ আগে খুঁজে বের করে, তারপর প্রচার করে। স্ক্রিনশট সংস্কৃতিতে এই দুটি ধাপই আছে, শুধু মাধ্যম বদলেছে—চোখ-কান দিয়ে গোয়েন্দাগিরির জায়গায় এসেছে স্ক্রল করে পুরোনো মেসেজ খোঁজা। ২. বিশ্বাসের খেয়ানত দুজন মানুষ যখন পারস্পরিক আস্থায় কোনো কথা বলে, সেই কথোপকথন একটি আমানত। রাসুল (সা.) এই নীতি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে অতঃপর এদিক-ওদিক তাকায় (অর্থাৎ গোপন রাখার ইঙ্গিত দেয়), তবে সেই কথা একটি আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮) লক্ষণীয়, এই হাদিসে শর্ত হিসেবে সুস্পষ্ট মৌখিক প্রতিশ্রুতিও চাওয়া হয়নি, বরং বলা হয়ছে যে শুধু ইঙ্গিতই যথেষ্ট। কারণ, ব্যক্তিগত পরিসরে কথা বলার মধ্যেই আস্থার ইঙ্গিত নিহিত থাকে। আর আমানতের খেয়ানত মোনাফেকির অন্যতম প্রধান চিহ্ন। মহানবী (সা.) বলেছেন, মোনাফেকের বৈশিষ্ট্য হলো, কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, আমানতের খেয়ানত করে, আর বিবাদে অশালীন আচরণ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪) কারও সঙ্গে সামান্য দ্বিমত হলেই তার পুরোনো গোপন মেসেজ ফাঁস করে দেওয়ার প্রবণতা—এই মোনাফেকি বৈশিষ্ট্যেরই হুবহু ডিজিটাল রূপ। ৩. দোষ প্রচার: পুরস্কারের বদলে শাস্তি মানুষমাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ইসলাম এখানে দুটো বিপরীতমুখী পথ দেখিয়ে দিয়েছে—একদিকে বিশাল পুরস্কার, অন্যদিকে ভয়াবহ শাস্তি। পুরস্কারের ঘোষণা হলো, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ–তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯) আর শাস্তির সতর্কবার্তা হলো, ‘হে সেই সকল লোক, যারা মুখে ইমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কেননা যে ব্যক্তি তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন, তাকে তার ঘরের অভ্যন্তরে হলেও লাঞ্ছিত করবেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০) অর্থাৎ একই কাজের দুটি সম্ভাব্য ফলাফল—গোপন রাখলে আল্লাহর সুরক্ষা, প্রচার করলে আল্লাহর কাছ থেকে একই আচরণ ফিরে আসা। স্ক্রিনশট শেয়ার করা মানে সরাসরি দ্বিতীয় পথটা বেছে নেওয়া। ৪. যাচাই ছাড়া শেয়ার: অপবাদের অংশীদারত্ব আজকাল একটি স্ক্রিনশট আসামাত্র মানুষ সত্যতা যাচাই না করেই লাইক-কমেন্ট-শেয়ারে ভাসিয়ে দেয়। এডিটিং বা ফেক চ্যাট জেনারেটরের যুগে এই স্ক্রিনশট আসল নাকি বানানো, তা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দেওয়া সরাসরি অপবাদ বা ‘ইফক’-এর শামিল। কোরআন বলে, ‘নিশ্চয়ই যারা চায় যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ও কুৎসা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯) এখানে একটা সাধারণ ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। অনেকে ভাবেন, ‘আমি তো শুধু শেয়ার করেছি, মূল অপরাধ তো অন্য কেউ করেছে।’ কিন্তু নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে (বা দেখে), তা-ই যাচাই না করে বর্ণনা করে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫) অর্থাৎ যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়ার মুহূর্তেই আপনি মিথ্যাবাদীর কাতারে চলে যান, স্রষ্টার বানানো হোক বা না হোক। চারটি কাজ একসঙ্গে রাখলে দেখা যায়, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার সিদ্ধান্তে আসলে চারটে পৃথক নৈতিক ব্যর্থতা ঘটে যায়—গোপনীয়তা ভাঙা, আস্থার আমানত নষ্ট করা, দোষ গোপন করার বদলে প্রচার করা, আর যাচাই ছাড়া তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর প্রতিটির জন্য পরকালীন হিসাব আলাদা, কিন্তু ঘটনা ঘটে একই মুহূর্তে, একটাই ক্লিকে। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী হাততালি বা ট্রলিংয়ের আনন্দের বিনিময়ে আমরা যেন নিজের আমলনামা এভাবে নষ্ট করে না ফেলি।