সারাদেশ

দিয়াবাড়ি হাটে গরু এনে ভোগান্তিতে বেপারীরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বড় এক জোড়াসহ তিনটি গরু নিয়ে জামালপুর থেকে রাজধানীর দিয়াবাড়ি হাটে এসেছেন খামারি মো. মামুন। তিন দিন হয়ে গেল, একটি গরুও বিক্রি হয়নি।

 

বড় জোড়ার দাম ৮ লাখ এবং অন্যটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। তবে গ্রাহকরা এর আশপাশেও দাম বলছেন না।

মামুন বলেন, ‘‘গরুর দাম চাইতেছি ৪ লাখ, কিন্তু ক্রেতারা বলে আড়াই লাখ। এই দামে গরু বিক্রি করা সম্ভব নয়। একটা গরু পালতেই ৩ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে।’’

মামুন একা নন, হাটের বেশির ভাগ ব্যাপারির অবস্থা এরকম। খামারি ও ব্যাপারিরার বলছেন, এবার হাটে ‘অনেক বেশি’ গরু এসেছে। সেই তুলনায় দাম নেই।

এরমধ্যে বৃষ্টির কারণে অনেক গ্রহক হাটে আসতে পারছে না। যারা আসছেন, তারা ‘ন্যায্য দামও’ বলছেন না বলে বিক্রেতাদের ভাষ্য।

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, এখনো হাটের দুদিন আছে, তাই ব্যাপারিরা দাম ছাড়ছে না। তারা সর্বোচ্চ দাম ধরে রেখে বেশি লাভের আশায় গরু ছাড়ছেন না।

সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মাঠের বাইরেও ১৬ নম্বর সেক্টরে যাওয়ার রাস্তার দুই পাশে গরু বাঁধা।

এছাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচে এবং মেট্রো লাইনের দুই পাশে গরু নিয়ে দাঁড়িয়েছেন ব্যাপারিরা। মূল হাটে মাঠের ভেতরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ক্রেতারা রাস্তার মধ্যেই গরু দেখছেন বেশি।

 

বড় গরু ‘দর্শনীয়’, চাহিদা বেশি ছোট ও মাঝারির

হাটেরর ইজারাদাররা বলছেন, হাটে গত কয়েক দিনে প্রায় এক লাখ গরু-ছাগল এসেছে; আরো আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত বড় গরুর ক্রেতা কম। বিক্রি যা হচ্ছে, তার মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরুই বেশি। তবে বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতা আসতে পারছে না বলে ব্যাপারিদের ধারণা।

বগুড়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে দিয়াবাড়ির হাটে এসেছেন সিদ্দিক মিয়া। তিনি বললেন, “দুদিন হল এসেছি। এখনো সেভাবে গ্রাহক নেই। আজ থেকে হাট জমে উঠবে মনে করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে সেটাও হয়ে ‍উঠছে না।”

সিদ্দিকের সাতটি গরুর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাকি ছয়টি গরুর দামই দুই লাখের বেশি চাইছেন। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনে আর কথা বাড়াচ্ছেন না।

কুষ্টিয়া থেকে আটটি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারি মো. হাসেম। তিনি বলেন, ‘‘গতকাল আইচি, এখনো বিক্রি হয়নি। পানি পানি মানুষ আইতে পারতেছে না। যারা আহে তারাও ভালো দাম কয় না। খুব কষ্টে আছি গরু লিয়া।’’

জামাল হোসেন নামের একজন ব্যাপারি বললেন, তিনি এসেছেন পাঁচ গরু নিয়ে। এখনো বিক্রির খাতা খুলতে পারেননি।

“আমার গরুর ওজন ৬ থেকে ৭ মণ হবে। তাই দাম চাচ্ছি ২ লাখের বেশি, কিন্তু ক্রেতায় বলে দেড় লাখ টাকা। এভাবে দাম বললে গরু বিক্রি করা সম্ভব না।

সোমবার এই হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা গাজী ফোরকান। তার পর্যবেক্ষণ হল, বাজারে প্রচুর গরু আছে, কিন্তু বিক্রেতারা কেউ দাম ছাড়ছে না।

“এখনো দুদিন হাট আছে। আজ হাট ঘুরে দেখলাম চাম বেশ চড়া। তারপরও পছন্দ হলে একটা কিনে নিয়ে যাব।

 

রাস্তা জুড়ে গরুর হাট, সরালো ডিএনসিসি

উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে দুই পাশের দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্যাপারিরা। তাতে যান চলাচলা বিঘ্নিত হচ্ছিল, সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছিলেন।

মেট্রো রেলের যাত্রী আসফাকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দিয়ে হাট বসিয়ে দেক এলাকা জুড়ে। এখানে পুলিশ, র‌্যাব সবাই আছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।”

শেষ পর্যন্ত বিকাল ৩টার পর অভিযান চালিয়ে এসব পশু সরিয়ে দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

খামারিরা বলছেন, সকাল থেকে আকাশ খারাপ থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে অনেকে মেট্রো স্টেশনের নিচে গরু নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। হাটের কিছু স্বেচ্ছাসেবকও তাদের নিচে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিলেন।

পাবনার খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি হাটের মোড়ে আসার পরই দেখি আকাশ খারাপ। শুনলাম হাটের ভেতরে অনেক পানি, তাই ভেতরে না গিয়ে স্টেশনের নিচে অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম।”

তবে হাটের ইজারাদারের সহকারী চান মিয়া বললেন, তারা কখনোই মেট্রো স্টেশনের পাশে কাউকে দাঁড়াতে বলেননি।

“বরং মাইক দিয়ে বার বার আমরা সেখান থেকে গরু সরিয়ে হাটের ভেতরে নিয়ে আসার কথা বলেছি। কিন্তু অনেকে কথা শুনছেন না।”

উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিয়াবাড়ি পশুর হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে মূল সড়কে বিক্রির জন্য কোরবানির পশু রাখা হয়েছে দেখতে পেয়ে প্রশাসক দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখান থেকে সব ধরনের কোরবানির পশু সরিয়ে দেন এবং রাস্তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন।

পশুর হাটের ইজারাদারকে তাৎক্ষণিক ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন প্রশাসক। পরে ইজারাদারকে সড়কে হাট না বসানোর নির্দেশ দেন তিনি।

নির্দেশনা অমান্য করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করারও নির্দেশ দেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

 

হাট জুড়ে পানি, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

এবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ দামে ইজারা হওয়া হাট হল দিয়াবাড়ি পশুর হাট। পাঁচ দিনের জন্য ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার এই হাট ইজারা পেয়েছেন এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন।

তবে আলোচিত এই হাট জুড়ে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি সুপেয় পানি, লাইট এবং খাবারের সংকটের কথা বলছেন ব্যাপারি ও খামারিরা।

জামালপুরের আবু হোসেন ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসছেন। তিনি বলেন, “আমি তিন দিন হল হাটে আছি। আসার পর থেকে গরুকে খাওয়ানোর পানি আর নিজেদের খাবার নিয়ে ঝামেলায় আছি। খুবই অল্প দোকান, দামও বেশি।”

 

হোসেন বলেন, “গত দুদিন গরুর জন্য খাবার পানির চরম সংকট ছিল। এখন আবার আকাশের পানিতে (বৃষ্টি) গরু নিয়ে আমিও খুব কষ্টে আছি। এভাবে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পানির মধ্যে থাকা যায় নাকি?”

খোরশেদ ইসলাম নামের আরেকজন ব্যাপারি বলেন, “বৃষ্টি নামার পর থেকে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছু চাইলে দেরিতে পাচ্ছি। এভাবে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না।”

বিক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইজারাদারের সহকারী চান মিয়া বলেন, “আমরা প্রায় ২ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়েছি। সবাই মাঠে কাজ করছে। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমরা কী করতে পারি? তবে যাদের যা প্রয়োজন, আমরা সেটা যথাসাধ্য মেটানোর চেষ্টা করছি।”

রাস্তা ও স্টেশনের নিচে গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা মাইক নিয়ে বার বার বলতেছি মেট্রো স্টেশনের নিচে থেকে গরু সরিয়ে ফেলতে, কিন্তু কথা শুনছে না তারা।”

আর উত্তরার ১৬ নম্বরে সেক্টরে যাওয়ার রাস্তায় গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই রাস্তায় আমরা গরু রাখি। এভাবেই হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে।

 

গরুর মালা বিক্রি দিনে ৩ হাজার টাকার

কোরবানির গরুর মালার চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। সোমবার হাটের প্রবেশ পথে এবং হাসিল ঘরের পাশে মালা বিক্রেতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। হাঁটের মধ্যেও অনেকে ঘুরে ঘরে মালা বিক্রি করছিলেন।

আনার হোসেন নামের একজন মালা বিক্রেতা জানালেন, তিনি এসেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে।

“আমি গত দু বছর ধরে মালা বিক্রি করি। এখন দিনে প্রায় ২ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের দুদিন আগে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।”

নাইম ইসলাম নামের আরেকজন মালা বিক্রেতা বললেন, “আজ বৃষ্টি, তাই সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। তবে গত দিন ভালো বিক্রি হয়েছে। আশা করি ঈদের আগের দুদিন ভালো বিক্রি হবে।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল মা ও এক বছরের শিশুর

  টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাক চাপায় ইসরাত জাহান আঁখি (২২) ও তার কোলে থাকা এক বছর বয়সী শিশুসন্তান ইফাতের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার নলুয়া-টাঙ্গাইল সড়কের বেড়বাড়ী বটতলা মিলপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত ইসরাত জাহান আঁখি মির্জাপুর উপজেলার দেওভোগ গ্রামের শুভ তালুকদারের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি একই উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামে।   নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে স্বামীর বাড়ি থেকে এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সখীপুরের পাহাড়কাঞ্চনপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন আঁখি। সিএনজিটি বেড়বাড়ী বটতলা মিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মা ও শিশু সিএনজি থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সখীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৮, ২০২৬

ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে ছিলেন মোবারক, পুলিশ ঢুকতেই গুলি

ছবি: সংগৃহীত

৬ দফা দাবিতে রিকশা-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচি

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো

হাতীবান্ধা সীমান্তে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালালো বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পানিতে ভেসে গিয়ে ইয়াছিন খান (২৫) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান (২৭) নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে জলতরঙ্গ সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন খান ঢাকার কুড়িল চৌরাস্তার মাথা এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে নিখোঁজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানও ঢাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে লাইফ গার্ড কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইয়াছিন ও ইব্রাহিম একটি বড় পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। গত ২২ ও ২৪ আগস্ট পর্যায়ক্রমে প্রায় ১১০ জনের একটি দল কক্সবাজারে আসে। বর্তমানে তারা শহরের হোটেল বিস্তা বে-তে অবস্থান করছেন। দলটির বেশ কয়েকজন সদস্য চাকরিজীবী এবং আই জেট কেপি কোম্পানিতে কর্মরত বলে জানা গেছে। এছাড়া দলের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। সৈকতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মী মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুপুরে জলতরঙ্গ পয়েন্টের সামনে গোসলে নামার পর দুই পর্যটক পানিতে ভেসে যান। পরে একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে সৈকতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামগামী বিমানে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকটে জরুরি অবতরণ

তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হুমকি: নিন্দা ও উদ্বেগ এইচআরএসএসের

ছবি: সংগৃহীত
পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন নিয়ে দুই এমপির বাগ্‌বিতণ্ডা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নামফলক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।   মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম সেখানে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন।   পরিদর্শন কক্ষের নামফলকে শুধু সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখতে পেয়ে বিলকিস ইসলাম এর প্রতিবাদ করেন। পরিদর্শন কক্ষটি সব সংসদ সদস্যের জন্য হওয়ায় সেখানে শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম কেন রাখা হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।   বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ থাকবে। এটি মূলত তাদের বসার জায়গা। অন্য জায়গা থেকে কোনো মন্ত্রী এলে তারাও সেখানে বসতে পারবেন। উদ্বোধনে বিষয়ে আগে জানতাম না।   তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এমপি বলেছেন, তিনি এটি উদ্বোধন করবেন। তবে তিনি এককভাবে এটি উদ্বোধন করতে পারেন না। কারণ, তিনি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং দল তাকে নীলফামারী-৪ ও নীলফামারী-৩ আসনের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেও উল্লেখ করেন।   তার অভিযোগ, প্রশাসন জামায়াতের এমপিকে মহিলা সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে বললেও তারা তা করেননি। পরে তিনি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন উদ্বোধনের জন্য স্থাপিত নামফলকে শুধু মুনতাকিমের নাম রয়েছে। তখন তিনি প্রতিবাদ করেন।   তার দাবি, এটি শুধু মুনতাকিমের নামে হতে পারে না। সব সংসদ সদস্যের জন্য নির্ধারিত কক্ষে শুধু একজনের নামফলক থাকার সুযোগ নেই।   তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এমপি দাবি করেছেন, এটি তার ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পুরো বাংলাদেশজুড়ে। কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকায়ও পরিদর্শন কক্ষ রয়েছে, সেখানকার নামফলকে কারও নাম নেই বলেও জানান তিনি।   এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, বিষয়টি কী হয়েছে, তা সাক্ষাতে বলবেন। ফোনে কোনো কথা বলা হলে সেটি লিখে দেওয়ার বিষয়টি তিনি খেয়াল করছেন। তাই এ বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন।   এ বিষয়ে বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, এখানে জামায়াতের সংসদ সদস্যের নামে নামফলক রয়েছে। সেখানে দুজনের নাম রাখার কথা ছিল। শুধু একজনের নাম রাখা হয়েছে, এটি হয়তো ইউএনও সাহেবের ভুল হয়েছে। এখানের জামায়াতের সংসদ সদস্য বলছেন, এটি নীলফামারী-৪ ভৌগোলিক এলাকার হওয়ায় এখানে তার নাম থাকবে। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য দাবি করছেন, এই আসনসহ সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা দেখার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনিও এখানে বসবেন।   সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, পরিদর্শন কক্ষটি মূলত সংসদ সদস্যদের এখতিয়ারের মধ্যে। কক্ষটি তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি একান্তই তাদের বিষয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদে মিলাদুন্নবী: বেনাপোল বন্দরে কার্যক্রম বন্ধ, স্বাভাবিক যাত্রী পারাপার

ছবি: সংগৃহীত

প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহারের দাবিতে গণ-অনশন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এমপি

ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির নতুন মুখপাত্র হলেন মো. আকতার হোসেন

0 Comments