ভালোবাসা দিবস ঘিরে যখন তারকাদের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার ধানুশ ও বলিউড–দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিয়ের গুঞ্জন। নেটিজেনদের দাবি, আসন্ন ভ্যালেন্টাইনস ডেতেই নাকি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই তারকা জুটি। রহস্যময় এক পোস্টে ম্রুণালের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা গুঞ্জনকে আরও উসকে দিলেও, ধানুশের স্পষ্ট অস্বীকার সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। ফলে ভক্তদের মনে প্রশ্ন একটাই—তাদের মধ্যে সত্যিই কি প্রেমের ঘণ্টা বাজছে, নাকি সবই কেবল রটনা?
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিয়ের গুঞ্জনের পর নীরবতা ভেঙে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ম্রুণাল ঠাকুর। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তিনি। পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, ‘স্থির, উজ্জ্বল ও অটল’—যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা। অনেকের ধারণা, চলমান আলোচনার মাঝেও নিজের অবস্থানে অবিচল থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।
তবে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ধানুশের সঙ্গে ম্রুণালের বিয়ের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সূত্রের দাবি, আগামী মাসে বিয়ের কোনো পরিকল্পনাই নেই তার। কারণ ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ম্রুণালের একটি বড় বাজেটের সিনেমা, আর মার্চে মুক্তি পাবে তার একটি তেলুগু চলচ্চিত্র। বর্তমানে তিনি অভিনেতা সিদ্ধার্থ চতুর্বেদীর সঙ্গে ‘দো দিওয়ানে শেহের মে’ সিনেমার কাজ ও প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠরা।
অন্যদিকে ধানুশও সংবাদমাধ্যমে এই বিয়ের গুঞ্জনকে ‘ভুয়া’ ও ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে ম্রুণাল ঠাকুরের সিনেমা ‘সন অব সরদার ২’-এর একটি অনুষ্ঠানে ধানুশকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা—যা আজ ভালোবাসা দিবস ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় ফিরেছে ইমরান হাশমির জনপ্রিয় সিনেমা ‘আওয়ারাপন’ এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘আওয়ারাপন ২’। ১৪ আগস্ট মুক্তির পর প্রথম দিনেই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে সিনেমাটি। প্রথম দিনে ভারতে সিনেমাটির আয় হয়েছে ২১ কোটি রুপি নেট। বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ২০ লাখ রুপি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দিনে ভারতের ৯ হাজার ৩৩টি প্রদর্শনীতে ‘আওয়ারাপন ২’এর গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মুম্বাইয়ে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। একই দিনে মুক্তি পাওয়া সানি দেওল ও প্রীতি জিনতার ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-কেও পেছনে ফেলেছে ‘আওয়ারাপন ২’। প্রথম দিনে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ রুপি। দ্বিতীয় দিনেও ভালো ব্যবসা করেছে ইমরান হাশমি অভিনীত সিনেমাটি। শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে ভারতে সিনেমাটির আয় হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ রুপি। এতে দেশটিতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ২৭ লাখ রুপি। ফলে খুব শিগগিরই সিনেমাটি ৫০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ‘আওয়ারাপন ২’-এর সাফল্যের মধ্যেই তৃতীয় কিস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন ইমরান হাশমি। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ারাপন’ নির্মাতাদের চেয়ে দর্শকদের সিনেমা বেশি। দর্শকদের ভালোবাসার কারণেই দ্বিতীয় কিস্তি তৈরি হয়েছে। এরপর তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘আওয়ারাপন ৩’ খুব শিগগিরই আসবে। তবে এখনো ‘আওয়ারাপন ৩’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘আওয়ারাপন’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও পরবর্তী সময়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং কাল্ট সিনেমার মর্যাদা অর্জন করে। প্রায় দুই দশক পর নির্মিত দ্বিতীয় কিস্তিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি, শাবানা আজমি, পুরাণ গাব্বি ও অনিরুদ্ধ রাওয়ালসহ অনেকে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নীতিন কক্কর। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া
হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় মিউজিক্যাল সিনেমা ‘তাল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে এই ছবিতে সুযোগ পাওয়ার পেছনে ছিল একটি বিশেষ শর্ত। সিনেমাটির মুক্তির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে কাস্টিং নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেই তথ্য প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুভাষ ঘাই। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাল সে সময়ের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র ছিল। নীল চোখের মায়া, সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার দিয়ে তখন বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঐশ্বরিয়া। ঠিক সেই সময়েই তাকে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেন পরিচালক। সুভাষ ঘাই জানান, ছবির জটিল নৃত্যদৃশ্যগুলোর জন্য তিনি উপযুক্ত অভিনেত্রী খুঁজছিলেন। এ বিষয়ে তিনি নৃত্যপরিচালক সরোজ খানের পরামর্শ নেন। মাধুরী দীক্ষিতের বাইরে বিকল্প হিসেবে সরোজ খান ঐশ্বরিয়ার নাম প্রস্তাব করেন। এরপর ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে সুভাষ ঘাই স্পষ্টভাবে বলেন, ‘তাল’-এ অভিনয় করতে হলে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্ল্যামার ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “কসমেটিক জগতের কারণে ঐশ্বরিয়ার একটি নির্দিষ্ট ইমেজ তৈরি হয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, এই ছবির জন্য সেই ইমেজ ভেঙে ফেলতে হবে।” পরিচালক জানান, ছবির প্রথম এক ঘণ্টা মেকআপ ছাড়া ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল ঐশ্বরিয়াকে। গল্পের বাস্তবতা ও চরিত্রের স্বাভাবিকতা তুলে ধরতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুভাষ ঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঐশ্বরিয়া এতে কোনো আপত্তি করেননি। বরং তিনি জানিয়েছিলেন, চরিত্রের প্রয়োজনে পরিচালক যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই অভিনয় করবেন। পরিচালকের মতে, এটি কোনো তারকার জনপ্রিয়তা কমানোর চেষ্টা ছিল না; বরং চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অনিল কাপুর ও অক্ষয় খন্না অভিনীত তাল মুক্তির পর ভারতসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক সাফল্য পায়। ছবিটির সংগীত, নৃত্যনির্ভর উপস্থাপনা এবং নান্দনিক দৃশ্যায়ন একে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগের অন্যতম সেরা মিউজিক্যাল চলচ্চিত্রের মর্যাদা এনে দেয়।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতির কারণেও দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত। পর্দার কাজের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত নিজের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরেন তিনি। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন এই অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে সাদিয়াকে দেখা গেছে হাস্যোজ্জ্বল ও বেশ ফুরফুরে মেজাজে। পোস্টের ক্যাপশনে নিজের আনন্দের মুহূর্তের কথা জানিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন, এতটাই খুশি ছিলেন যে তার চোখেও সেই হাসির ছাপ ফুটে উঠেছিল। তবে ছবিগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি মজার ঘটনা। ছবি তোলার কিছুক্ষণ আগে চকলেট খেয়েছিলেন সাদিয়া। আর সেই চকলেটের সামান্য দাগ ঠোঁটের আশপাশে রয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি খেয়াল না করেই ছবি তোলেন তিনি। পরে ছবিগুলো দেখার পরও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি অভিনেত্রী। বরং নিজের স্বাভাবিক সে লুকটিই বেশ পছন্দ হয়েছে সাদিয়ার। তাই ছবিগুলো শেয়ার করার কারণ হিসেবে মজা করে জানিয়েছেন, নিজেকে তার এতটাই কিউট মনে হয়েছে যে, ছবিগুলো পোস্ট না করে থাকতে পারেননি। জানা গেছে, থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে কেপ প্যানওয়া যাওয়ার পথে গাড়িতে বসেই এসব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা হয়। ভ্রমণের সেই সময়টিও দারুণ উপভোগ করেছেন সাদিয়া। শান্ত পরিবেশ, পথের সৌন্দর্য আর আনন্দময় সময়—সব মিলিয়ে দিনটি তার কাছে হয়ে উঠেছিল বিশেষ। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই সাদিয়ার অনুসারীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে। কমেন্টে তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি ও সাবলীল লুকের প্রশংসা করছেন অনেকে। অভিনেত্রীর এমন নির্ভার মুহূর্তের ছবিগুলোও যে ভক্তদের ভালো লাগার অন্যতম কারণ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রতিক্রিয়াগুলোতে।