সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাপক দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।
ডিএসই সূত্র জানায়, আজ লেনদেন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৩২ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ কম। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮ দশমিক ০১ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ ১১ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯১ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসই সূত্র জানায়, আজ মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, দর কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩টির শেয়ারের দাম। এছাড়া ডিএসইতে আজ মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪০টি ট্রেডের মাধ্যমে মোট ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩২টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। যার বাজারমূল্য ছিল ৪৫৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৮১২ টাকা।
ক্যাটাগরি ভিত্তিতে আজ ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেনে অংশ নেয় ২১৬টি কোম্পানি। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, দর কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির শেয়ারের দাম।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এসব কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৯টির, দর কমেছে ৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির শেয়ারের দাম।
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৯৭টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৪টির, দর কমেছে ৬৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির শেয়ারের দাম। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো লেনদেন হয়নি।
এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৫টি ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, দর কমেছে ২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির ইউনিটের দাম।
করপোরেট বন্ড খাতে ৩টি বন্ড লেনদেন হয়। এর মধ্যে একটি বন্ডের দর বেড়েছে, একটি কমেছে এবং একটি অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সিকিউ) খাতে লেনদেন হওয়া ৪টির মধ্যে ২টির দর বেড়েছে এবং ২টির দর কমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে গত তিন দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির মোট প্রাপ্ত সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) ব্যাংকটিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের লেনদেন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সহায়তা দিয়েছে। নতুন এ অর্থসহায়তাসহ গত তিন দিনে ইসলামী ব্যাংক মোট ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ অনিয়ম, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। এর ফলে অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় চাপ সৃষ্টি হয়। এদিকে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত শেয়ার মালিকানার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের বিষয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নতুন পরিচালনা পর্ষদ আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। পরবর্তী সময়ে ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু তারল্য সহায়তা নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে উত্থাপিত সাত দফা দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বুধবার (১৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ফোরামের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী সাংবাদিকদের জানান, তাদের উত্থাপিত সাত দফা দাবির বিষয়ে গভর্নর ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। পরে সংগঠনের সদস্যসচিব মোতাছিম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সেই স্মারকলিপির প্রেক্ষিতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। নুর উন নবী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা নৈতিক প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদকে পেশাদার, সৎ, দক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংগঠনটির মতে, তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ লুটের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধে আইন সংশোধন এবং ব্যাংককে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। এছাড়া নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অপরিবর্তিত রয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। খবর রয়টার্সের বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪,৩৩১.২৯ ডলারে স্থির ছিল। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.১ শতাংশ কমে ৪,৩৫১.৪০ ডলারে নেমে আসে। গত সোমবার স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪,৩৭০.৮২ ডলারে উঠেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। পাশাপাশি এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরান আবারও তেল বিক্রির অনুমতি পাবে। ইরানের তেল সরবরাহ বাজারে ফিরতে পারে—এমন প্রত্যাশায় তেলের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, স্বর্ণের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি কিছুটা গতি হারিয়েছে। কারণ এখন সবার নজর ফেডের মুদ্রানীতি ঘোষণার দিকে। কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে এটি প্রথম এফওএমসি বৈঠক। তার কড়াকড়ি নীতির ইতিহাস, বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি এবং হোয়াইট হাউসের সুদ কমানোর চাপ—এসবের মধ্যে তিনি কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেডের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক চলতি বছরজুড়ে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে থাকবেন। তবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সদস্য সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিতে পারেন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ঘোষণা আসার আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭০.০৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ০.৭ শতাংশ কমে ১,৭৯২.০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪১.২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।