অন্যান্য

ঢাকা-৮: মির্জা আব্বাসের আসন খালি, এনসিপির তালিকায় নেই আলোচিত রিকশাচালক সুজন

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও প্রথম ধাপে মনোনয়ন পাননি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা সেই রিকশাচালক সুজন।

আজ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করেছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের নেতৃস্থানীয় তরুণ ও নতুন মুখদের প্রাধান্য দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—মো. সারজিস আলম (পঞ্চগড়–১), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা–৪), মো. নাহিদ ইসলাম (ঢাকা–১১), আখতার হোসেন (রংপুর–৪), ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা–৯) এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা–১৮)।

ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের বেশিরভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। তবে এখনও ফাঁকা রয়েছে ২, ৩, ৬, ৮, ১০ ও ১৪ নম্বর আসন। এর মধ্যে ঢাকা–৮ (মতিঝিল–শাহজাহানপুর–রমনা) আসনটি নানা কারণে বিশেষভাবে আলোচনায়। এ আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে এনসিপি থেকে গত ২০ নভেম্বর মনোনয়ন নিয়েছিলেন রিকশাচালক সুজন। তবে প্রথম ধাপে এ আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি দলটি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী জানান, প্রথম ধাপে ১২৫ জনের নাম ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী তালিকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের সংস্কারপন্থী নেতাদের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংখ্যালঘু, আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুপাত অনুযায়ী প্রার্থী দেব। কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য কোনো আসন ফাঁকা রাখা হয়নি। প্রার্থীদের তালিকা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হলো। কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।’ তিনি আরও জানান, ৩০০ আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

২০ নভেম্বর মনোনয়ন নেওয়ার পর নির্বাচনে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুজন বলেছিলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে যখন সংসদে দাঁড়ানো যায়, তখন আমি রিকশা চালক হয়ে কেন দাঁড়াতে পারব না? যাত্রাপালায় নেচে যদি সংসদে যাওয়া যায়, তখন রিকশাওয়ালা কেন যেতে পারবে না?’ তিনি বলেন, জনগণ, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কথা বলতে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচন করতে চান।

উল্লেখ্য, একই আসনে আগে জামায়াতে ইসলাম ড. অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বর্তমানে দলটির ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস আছে? তাহলে কী খাবেন, কী খাবেন না

আজ সুস্থ আছেন বলে যে ভবিষ্যতেও কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা থাকবে না, তা কিন্তু নয়। সাধারণত অল্প বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবারে যদি আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই আশঙ্কা আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকলে আগেভাগেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। কী খাবেন, কী খাবেন না— এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগসহ নানা জটিলতা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন খাবারগুলো আপনার পাতে থাকা জরুরি আর কোনগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। গুড কোলেস্টেরল বাড়ায় যে খাবার যেসব খাবারে গুড কোলেস্টেরল (HDL) এবং ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ বেশি, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বা মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে এসব উপাদান পাওয়া যায়। অলিভ অয়েল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। রেড মিট ও ভাজাভুজিতে লাগাম রেড মিট যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার বা ভাজাভুজির পরিমাণও কমাতে হবে। এসব খাবার কোলেস্টেরলের পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের শুরু হোক ওটস দিয়ে সকালবেলার জলখাবারে ওটস রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ওটস শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কার্যকর। চাইলে ওটসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর পাবে নানা রকম পুষ্টিগুণ। রসুনের ছোট অভ্যাস, বড় উপকার রোজ দুপুরে খাবার শুরু করার আগে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি রসুন শরীর সুস্থ রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে। গ্রিন টি রাখুন দৈনন্দিন রুটিনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পলিফেনল ও ফ্লেভোনলস অত্যন্ত কার্যকর। এই দুই উপাদানই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গ্রিন টি-তে। প্রতিদিন নিয়ম করে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই কমতে পারে। স্ট্রবেরির নিয়মিত ব্যবহার এখন শীতকাল ছাড়াও অন্যান্য সময় স্ট্রবেরি সহজেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন একটি করে স্ট্রবেরি খান, তাহলে তার কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এই ফলটি রাখতেই পারেন। পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এখন থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহে সমাবেশে মঞ্চে তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের জামাই আদরে রাখা হবে: কৃষ্ণনন্দী

ছবি : সংগৃহীত

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ‘চরম অপমান’ : জামায়াতে ইসলামীর আমির

ছবি : সংগৃহীত
আমরা বিজয়ী হলেও কারও উপর প্রতিশোধ নেব না : ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বিজয়ী হলেও কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না। সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে যারা কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে, তাদের সেই হাত শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।   মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা জয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব। মানুষের সম্পদ ও ইজ্জতের দিকে কেউ হাত বাড়াতে পারবে না। আমরা কোনো আধিপত্যের কাছে মাথা নত করব না। আমাদের ভয় দেখাবেন না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, তাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে, এটি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজকে ভাতা দিয়ে ছোট করতে চাই না। বরং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই। এতে তাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে যারা জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকে আজ জালিমের ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান প্রজন্মের যুবকেরা পরিবর্তনের পক্ষে, তারা সংস্কার চায়। তারা পুরোনো, জীর্ণ ও পচা রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।   জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সাতক্ষীরা-০১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-০২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-০৩ (আশাশুনি ও কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

২২ বছর পর ময়মনসিংহে তারেক রহমান, স্মরণকালের বড় জনসভা আজ

সংগৃহীত ছবি

আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে : জামায়াত

সংগৃহীত ছবি

বাড়ির ভেতরে খালি পায়ে হাঁটা কি সত্যিই নিরাপদ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে আনলে আ. লীগের দোষ কী : প্রশ্ন হাসনাতের

কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আইন বহির্ভূতভাবে যদি বিএনপির ঋণখেলাপিদের আপনি নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগ কী দোষ করেছে? তিনি বলেন, লুটেরাদের জন্য আমরা বাংলাদেশকে হারাম করে দেবো। ব্যাংক চোরদের সংসদে পাঠিয়ে কখনই ব্যাংকচোর ধরা যাবে না। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জানা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। রিটের শুনানি উপলক্ষে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘লুটেরা’রা সক্রিয় হয়েছে। তাদের পরিচয় একটাই— তারা ব্যাংক খেলাপি ও ভোট ডাকাত। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তি জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করে নিজেদের ও পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করছে। জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের জন্য বাংলাদেশকে ‘হারাম’ করে দেওয়া হবে। এসব লোক কেবল নির্বাচনের সময় দেশে আসে। অনেকেই মূলত বিদেশি নাগরিক, যারা সুসময়ের পাখির মতো ভোটের সময়ই সক্রিয় হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিয়ালকে মুরগি পাহারার দায়িত্ব দিলে যেমন অযৌক্তিক হয়, তেমনি যারা ব্যাংক লুট ও চুরি করেছে, তাদের সংসদে পাঠিয়ে ব্যাংকচোর ধরা সম্ভব নয়। ব্যাংকচোরদের সংসদে বসালে কখনই ব্যাংকচোরদের ধরা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতায় আসবে আসুক, তাদের ক্ষমতায় আসায় কোনো আপত্তি নেই। তবে এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের অংশ। ঋণখেলাপিরা এ লড়াইয়ে জনগণের সমর্থন পাবে না। ৫ আগস্ট জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, পরে নির্বাচন কমিশনও করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ আবারও চূড়ান্তভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0

ঢাবির বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা, যা জানা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

নাক বন্ধ ও সাইনাসের সমস্যা দূর করুন ৬টি সহজ উপায়ে

0 Comments