দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ফলে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় নাগরিক সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জনে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে দুই জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫১৩ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন, সিলেটে ১৪৫ জন, চট্টগ্রামে ২৮৪ জন, বরিশালে ১১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৪ জন, খুলনায় ৭০ জন এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৫৬২ জন।
জীবনকে আপনি অর্ধেক ভরা গ্লাস হিসেবে দেখেন, নাকি অর্ধেক খালি হিসেবে? বিষয়টি হয়তো ব্যক্তিত্ব বা সাময়িক মেজাজের ওপর নির্ভর করে বলে মনে হতে পারে। তবে জীবনের ভালো-মন্দ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন, তার প্রভাব এর চেয়েও বেশি হতে পারে। মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ সামলানো, কঠিন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি দীর্ঘায়ুর সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। আশাবাদীরা কি বেশি দিন বাঁচেন? তারা জানান, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। তবে সব সময় অতিরিক্ত আশাবাদী থাকার চেয়ে দীর্ঘদিন নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে না থাকাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কয়েক লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদীরা গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দিন বাঁচেন এবং তাদের ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশি। তবে নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি শুধু আশাবাদী হওয়ার নয়, বরং অতিরিক্ত হতাশাবাদী না হওয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত। মানসিক চাপ কমাতে পারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অতিরিক্ত চিন্তার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে প্রতিটি পরিস্থিতি নিয়ে বারবার চিন্তা করা বা সব সময় সবচেয়ে খারাপ পরিণতির কথা ভাবার প্রবণতা কমে। এতে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও কমতে পারে। আশাবাদী বা হতাশাবাদী নন এমন মানুষ সাধারণত খারাপ পরিস্থিতির কথা ভেবে দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে অস্থির থাকেন না। বিপদ থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো জীবনে প্রতিকূলতা আসবেই। তবে সেখান থেকে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আশাবাদী মানুষ ব্যর্থতা বা হতাশার বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আশাবাদী মানুষ সাধারণত নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি সচেতন থাকেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মতো অভ্যাস গড়ে তোলার প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে এসব অভ্যাস সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে তারা বলেন, এসব তথ্য মূলত পর্যবেক্ষণভিত্তিক এবং এ বিষয়ে গবেষণা এখনও চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য আশাবাদী মানসিকতার সম্ভাব্য উপকারের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
দরিদ্র বা সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব এলাকার বাসিন্দাদের মস্তিষ্কের বয়স তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে তাদের মোট মস্তিষ্কের আয়তন কম এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে ক্ষতির চিহ্ন বেশি। ‘রেডিওলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন একদল গবেষক। তারা ১৮ থেকে ৯৬ বছর বয়সী প্রায় ৩ হাজার মানুষের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় বসবাসের এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তুলনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘এরিয়া ডিপ্রাইভেশন ইনডেক্স’ বা এডিআই ব্যবহার করা হয়েছে। আয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে একটি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত অবস্থার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই সূচক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং তিনি যে এলাকায় বসবাস করেন, সেই এলাকার পরিস্থিতি বোঝায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসকারীদের মস্তিষ্কের বয়স তুলনামূলক বেশি। তাদের মোট মস্তিষ্কের আয়তনও কম। গবেষক জন-পল জে. ইউ বলেন, মানুষ কোথায় বসবাস করে, তা তার মস্তিষ্কে পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলে। বসবাসের পরিবেশ মস্তিষ্কের বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর স্পষ্ট প্রভাব তৈরি করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাসিন্দাদের মস্তিষ্কে ‘হোয়াইট ম্যাটার হাইপারইনটেনসিটি’ বেশি। এমআরআই স্ক্যানে দেখা যাওয়া এসব উজ্জ্বল দাগ মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালিতে ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। জন-পল জে. ইউ বলেন, মস্তিষ্কে এসব দাগ মূলত হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতির চিহ্ন। উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের কারণে সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কে এ ধরনের দাগ বেশি থাকলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তির সমস্যা এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষক ইউ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা ও সরকারি নীতি তৈরির সময় এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষ শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও কাঠামোগত বৈষম্যের কারণেও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সূত্র: ইউরোনিউজ