আন্তর্জাতিক

চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে কোনো ছাড় নেই: ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই বিবেচনা করবেন না। ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের চলমান আলোচনার মধ্যেই হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা এলো। 

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তড়িঘড়ি করতে রাজি নন এবং প্রয়োজনে তিনি আরও কয়েক দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছেন।

 

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে মূল সিদ্ধান্তের বিষয়টি দাঁড়িয়েছে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাকি তা ভেঙে দিয়ে পুনরায় নতুন করে সামরিক অভিযান বা আক্রমণ শুরু করা। ট্রাম্প দাবি করেছেন, কয়েকজন উপসাগরীয় (গাল্ফ) নেতা তাকে ফোন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানানোর পর তিনি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে, এমনকি মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশেও তিনি পুনরায় আক্রমণ শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

ইরানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার অগ্রগতি বা এর অভ্যন্তরীণ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যাদের সাথে এই মুহূর্তে যোগাযোগ রক্ষা করছে, তাদের কয়েকজন অত্যন্ত ‘যুক্তিপূর্ণ’ বা ‘বিবেচক’।

 

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা নিষেধাজ্ঞা ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প মূলত আলোচনার টেবিলে নিজের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্ত করলেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের পর এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং পদক্ষেপের ওপর। বেইজিং বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই মধ্যপ্রাচ্য নীতি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

 

সূত্র: আল-জাজিরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
বকখালী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ট্রলারটি। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ জেলের মরদেহ

বঙ্গোপসাগরের ভারত উপকূলে নিখোঁজ মাছ ধরার ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৬ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালী ও সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে ১৫ জন জেলেসহ নিখোঁজ হয় ট্রলারটি। টানা আট দিন নিখোঁজ থাকার পর গট রোববার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালী উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এক চরের কাছে ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।   স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অবস্থান জানার পর বন অধিদপ্তর ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ট্রলারটি উদ্ধার করে সীতারামপুরে নিয়ে আসে। রাতভর তল্লাশি করে ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।   আশঙ্কা করা হচ্ছে ট্রলারটির ভেতরে ও আশপাশে আরও মরদেহ আটকে থাকতে পারে। বাকি জেলেদের দেহ উদ্ধারে দিনভর তল্লাশি চলবে বলেও জানানো হয়।   এখনো নিখোঁজ ৬ জেলের পরিবার দিন কাটাচ্ছে উৎকণ্ঠায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শঙ্করপুর উপকূলের জেলেপল্লিতেও।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
বালেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে তরুণদের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল মারামারি হয়। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের অনুষ্ঠানে খাসির মাংসের বদলে মুরগি দেওয়া নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড, আহত ১২

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরান

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত, ভবিষ্যৎ যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি 'শেষ' ঘোষণা করার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।    যুদ্ধের প্রথম ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত অর্ধেক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কমে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।    এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক ও ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। আর ২০২৬ সালে নতুন কোনো থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।   সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার বলেন, অধিকাংশ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   এদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ জন ফেরারি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য কংগ্রেস থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ফলে উৎপাদন এখনও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।   এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে 'ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট' ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   তবে এসব পদক্ষেপের সুফল পেতে সময় লাগবে। কারণ নতুন উৎপাদন লাইন চালু করা সহজ নয়। উদাহরণ হিসেবে জাপানে একটি প্যাট্রিয়ট কারখানা নির্মাণে তিন বছর লেগেছে, আর জার্মানি ২০২২ সালে কাজ শুরু করলেও এখনও উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।   পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনও যুক্তরাষ্ট্রেরই এবং যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।   মাইকেল ও'হ্যানলন মনে করেন, চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এই সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সেই পর্যায়টি ঠিক কোথায়, তা হয়তো আমরা জানতে পারব না, কারণ এটি মূলত শত্রুর মনস্তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে।'

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, লক্ষ্যবস্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক স্থাপনা

ছবি: সংগৃহীত

ছদ্মবেশে বাসে উঠে ভাঙতি না থাকায় কন্ডাক্টরের কাছে নামতে হলো কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রেপ্লিকা বানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালাল চীন

বিশ্বের দুই চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যার ইঙ্গিত মিলেছে চীনের জিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত মরুভূমির রুওকিয়াং পরীক্ষা কেন্দ্রে মার্কিন ‘আর্লেই বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকল রেপ্লিকা তৈরিতে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে ৬ মিটার চওড়া একটি রেল ট্রাক দেখা গেছে; যার ওপর একটি যুদ্ধজাহাজের আকারের লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা নির্ভুল করতে একটি চলন্ত সামুদ্রিক জাহাজের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এটি।   যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ইনস্টিটিউট বলছে, এই জটিল পরীক্ষা কেন্দ্রটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করে আসছে বেইজিং। সামরিক খাতের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান আলসোর্স অ্যানালাইসিস বলছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য এই রেপ্লিকা এবং রেললাইনের ওপর বসানো চলন্ত অন্যান্য কাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও তা অর্জনের সক্ষমতা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।   প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব যুদ্ধজাহাজের ওপর ও চারপাশে একাধিক সেন্সর বসানোসহ রেপ্লিকাগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিবরণ দেখে ওই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বহুমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুলিপিটি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা অনুশীলন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করার যে ব্যাপক প্রচেষ্টা বেইজিং চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক বলছে, আর্লেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বিমানবাহী রণতরীগুলোর নিরাপত্তায় এসকর্ট, বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার এবং দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করে থাকে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও এসব রণতরীর এই ধরনের ব্যবহার দেখা গেছে।   জাপানে নিয়োজিত মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ‘ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন ১৫’র বহরে এ ধরনের ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যা এই শ্রেণির বৃহত্তম ইউনিট। এই স্কোয়াড্রনের সব জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার সময় নিয়মিতই চীনা নৌবাহিনীর মুখোমুখি হয়।   মরুভূমিতে এই রেপ্লিকা তৈরির ঘটনাটিকে বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, বেইজিং অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কাকে বেশ জোরালোভাবে বিবেচনা করছে।   চীন যদি এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীতে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে যুক্ত করতে পারে, তাহলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নিশানায় ১৩ বিশ্বনেতা, প্রকাশ করল সংবাদমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু

0 Comments